করোনাভাইরাস: ডাক্তারের আগাম হুশিয়ারি পাত্তা দেয়নি সরকার
jugantor
করোনাভাইরাস: ডাক্তারের আগাম হুশিয়ারি পাত্তা দেয়নি সরকার
অবহেলার কথা স্বীকার চীনের

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীতে নাজুক পরিস্থিতি চীনের। একদিকে শত শত মানুষের মৃত্যু, আরেকদিকে বিশ্বে আর্থ-সামাজিকভাবে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে দেশটি।

ভয়ংকর এ পরিস্থিতির মাত্র এক মাস আগেই ভাইরাসটির মহামারী নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার হুশিয়ারি দিয়েছিলেন এক ডাক্তার। সেই হুশিয়ারি তখন পাত্তাই দেয়নি সরকার।

উল্টো সেই ডাক্তারকেই ভয় দেখিয়ে মুখবন্ধ করে দেয় উহান পুলিশ। সেই ডাক্তারকেই এখন ‘হিরো’র আসনে বসাচ্ছে পুরো চীন। এদিকে ভাইরাস মোকাবিলায় অবহেলা ও ঘাটতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেছে, এখন দেশের জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনার সিস্টেমে উন্নতি ঘটাতে হবে।

এছাড়া ভাইরাসের উৎপত্তিস্থলের বন্যপ্রাণীর বাজারে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার নাগাদ ৪২৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে বেইজিং। আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সরকারি হিসাবে সোমবার একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জনের।

বিবিসি জানায়, চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর সংগ্রহ করা হচ্ছিল। করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং সহকর্মী ডাক্তারদের সতর্ক করার চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু সে সময় তাকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি পুলিশ তাকে শাসিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। এক মাস পরে সেই চিকিৎসকই সবার কাছে হিরো হয়ে উঠেছেন।

হাসপাতালের বিছানা থেকে চিকিৎসক লি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েবোতে জানিয়েছেন সেসব কথা। ওয়েবোর পোস্টে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘আমি লি ওয়েনলিয়াং। উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ।’

চিকিৎসক লি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কাজ করছিলেন। সে সময় তিনি সাতজনের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখতে পান।

প্রথমে লি ভেবেছিলেন, এটি সার্স ভাইরাস। ২০০৩ সালে বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। লি ভাবেন, এই ভাইরাসের সংক্রমণ উহানের হুয়ানান সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে হয়েছে।

ভাইরাসে আক্রান্তদের তার হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। ৩০ ডিসেম্বর লি তার ফেলো চিকিৎসকদের একটি চ্যাট গ্রুপে বার্তা দেন। সেখানে তিনি ফেলো চিকিৎসকদের করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক করেন।

সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিরোধমূলক কাপড় পরার পরামর্শ দেন। চিকিৎসক লি তখনও জানতেন না, এ করোনাভাইরাসটি একেবারেই নতুন।

ডিসেম্বর মাসে করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করার সময় চিকিৎসক লি পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর কর্মকর্তার সঙ্গে সফর করেন।

তারা তাকে একটি চিঠিতে সই করতে বলেন। ওই চিঠিতে লির বিরুদ্ধে মিথ্যা মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, এ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণের কথা বলে তিনি সমাজের ক্ষতি করছেন।

চিকিৎসক লিকে হাতে লেখা ওই চিঠিতে পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমরা আপনাকে সতর্ক করছি। যদি আপনি এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান তাহলে আপনাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

আপনি কি বুঝতে পেরেছেন?’ চিকিৎসক লি উত্তরে জানান তিনি বিষয়টি বুঝেছেন। পুলিশ বলছে, গুজব ছড়ানোর কারণে যে আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল চিকিৎসক লি ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।

জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে চিকিৎসক লি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা জানিয়ে একটি চিঠি দেন। এ সময়ের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে সে ঘটনাটিও দেরিতে ঘটে।

জানুয়ারি মাসের প্রথম কয়েক সপ্তাহে উহানের কর্মকর্তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করেন। কর্মকর্তারা বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি সম্ভবত করোনাভাইরাস বহনকারী প্রাণীর সংস্পর্শে এসেছেন।

এ সময় চিকিৎসকদের নিজেদের রক্ষা করার জন্য কোনো পরামর্শ বা সহায়তা দেয়া হয়নি। পুলিশের কাছ থেকে ফেরার মাত্র এক সপ্তাহ পরে চিকিৎসক লি গ্লুকোমায় আক্রান্ত এক নারীর চিকিৎসা করছিলেন। তিনি জানতেন না যে ওই নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

করোনাভাইরাস: ডাক্তারের আগাম হুশিয়ারি পাত্তা দেয়নি সরকার

অবহেলার কথা স্বীকার চীনের
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীতে নাজুক পরিস্থিতি চীনের। একদিকে শত শত মানুষের মৃত্যু, আরেকদিকে বিশ্বে আর্থ-সামাজিকভাবে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে দেশটি।

ভয়ংকর এ পরিস্থিতির মাত্র এক মাস আগেই ভাইরাসটির মহামারী নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার হুশিয়ারি দিয়েছিলেন এক ডাক্তার। সেই হুশিয়ারি তখন পাত্তাই দেয়নি সরকার।

উল্টো সেই ডাক্তারকেই ভয় দেখিয়ে মুখবন্ধ করে দেয় উহান পুলিশ। সেই ডাক্তারকেই এখন ‘হিরো’র আসনে বসাচ্ছে পুরো চীন। এদিকে ভাইরাস মোকাবিলায় অবহেলা ও ঘাটতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেছে, এখন দেশের জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনার সিস্টেমে উন্নতি ঘটাতে হবে।

এছাড়া ভাইরাসের উৎপত্তিস্থলের বন্যপ্রাণীর বাজারে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার নাগাদ ৪২৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে বেইজিং। আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সরকারি হিসাবে সোমবার একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জনের।

বিবিসি জানায়, চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর সংগ্রহ করা হচ্ছিল। করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং সহকর্মী ডাক্তারদের সতর্ক করার চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু সে সময় তাকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি পুলিশ তাকে শাসিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। এক মাস পরে সেই চিকিৎসকই সবার কাছে হিরো হয়ে উঠেছেন।

হাসপাতালের বিছানা থেকে চিকিৎসক লি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েবোতে জানিয়েছেন সেসব কথা। ওয়েবোর পোস্টে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘আমি লি ওয়েনলিয়াং। উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ।’

চিকিৎসক লি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কাজ করছিলেন। সে সময় তিনি সাতজনের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখতে পান।

প্রথমে লি ভেবেছিলেন, এটি সার্স ভাইরাস। ২০০৩ সালে বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। লি ভাবেন, এই ভাইরাসের সংক্রমণ উহানের হুয়ানান সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে হয়েছে।

ভাইরাসে আক্রান্তদের তার হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। ৩০ ডিসেম্বর লি তার ফেলো চিকিৎসকদের একটি চ্যাট গ্রুপে বার্তা দেন। সেখানে তিনি ফেলো চিকিৎসকদের করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক করেন।

সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিরোধমূলক কাপড় পরার পরামর্শ দেন। চিকিৎসক লি তখনও জানতেন না, এ করোনাভাইরাসটি একেবারেই নতুন।

ডিসেম্বর মাসে করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করার সময় চিকিৎসক লি পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর কর্মকর্তার সঙ্গে সফর করেন।

তারা তাকে একটি চিঠিতে সই করতে বলেন। ওই চিঠিতে লির বিরুদ্ধে মিথ্যা মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, এ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণের কথা বলে তিনি সমাজের ক্ষতি করছেন।

চিকিৎসক লিকে হাতে লেখা ওই চিঠিতে পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমরা আপনাকে সতর্ক করছি। যদি আপনি এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান তাহলে আপনাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

আপনি কি বুঝতে পেরেছেন?’ চিকিৎসক লি উত্তরে জানান তিনি বিষয়টি বুঝেছেন। পুলিশ বলছে, গুজব ছড়ানোর কারণে যে আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল চিকিৎসক লি ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।

জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে চিকিৎসক লি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা জানিয়ে একটি চিঠি দেন। এ সময়ের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে সে ঘটনাটিও দেরিতে ঘটে।

জানুয়ারি মাসের প্রথম কয়েক সপ্তাহে উহানের কর্মকর্তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করেন। কর্মকর্তারা বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি সম্ভবত করোনাভাইরাস বহনকারী প্রাণীর সংস্পর্শে এসেছেন।

এ সময় চিকিৎসকদের নিজেদের রক্ষা করার জন্য কোনো পরামর্শ বা সহায়তা দেয়া হয়নি। পুলিশের কাছ থেকে ফেরার মাত্র এক সপ্তাহ পরে চিকিৎসক লি গ্লুকোমায় আক্রান্ত এক নারীর চিকিৎসা করছিলেন। তিনি জানতেন না যে ওই নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস