নারী রহস্যের কূল খুঁজে পাননি হকিং

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ মার্চ ২০১৮, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সৃষ্টিজগৎ বা মহাবিশ্বের জটিল সব সমস্যার সমাধান দিয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানের কিংবদন্তি প্রফেসর স্টিফেন হকিং। মহাজাগতিক বিষয়ে বিভিন্ন জট খুলেছেন। দিয়েছেন জটিল সব তত্ত্বের সমাধান। এমনকি তার তত্ত্বের গূঢ়তা নিয়ে বর্তমানের বিজ্ঞানীদের চিন্তা-ভাবনা তার চিন্তার ধারে-কাছেও নেই। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের পরে তাকেই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু মানবজীবনের একটি বিষয়ে কোনো কূলকিনারা পাননি তিনি। এই রহস্যের মধ্যেই হাবুডুবু খেয়েছেন। ইস্যুটি হল নারী। ৭০তম জন্মদিনে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রাত্যহিক জীবনে তিনি সবচেয়ে কোন বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করেন। জবাবে হকিং বলেছিলেন, ‘নারী। তারা সম্পূর্ণ রহস্যময়ী।’ বিখ্যাত নিউ সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

স্টিফেন হকিং ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। মরণব্যাধির মুখে দাঁড়িয়েও তিনি দেখিয়েছেন অমিত সাহস। তবে তিনি নিজেই প্রথম স্বীকার করে নেন, অন্য সবার মতোই তিনি একজন সাধারণ মানুষ। তার চোখে-মুখে এক করুণ অভিব্যক্তি। চোখে-মুখে ভালোবাসার এক অন্যরকম গ্লামার। তাই বুঝি তিনি নিজের বাথরুমের দরজায় সেঁটেছিলেন মেরিলিন মনরোর একটি বড় পোস্টার। ১৯৫৫ সালের চলচ্চিত্র ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইট্চ’ ছবিতে অভিনয়ের ছবি ছিল সেটি। ছবিতে দেখা যায়, মনরোর স্কার্টের সঙ্গে বাতাস দুষ্টুমি করছে। উড়ে উড়ে যাচ্ছে স্কার্টটি। এ ছবিটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

নৈশক্লাবের পরিচালক পিটার স্ট্রিংফেলো একদিন তার একটি ভেন্যুতে সুপার জিনিয়াস হকিংকে দেখতে পান। তাকে দেখে এগিয়ে যান পিটার। হকিংকে তিনি বলেন, আমি কি মহাবিশ্ব নিয়ে আপনার সঙ্গে এক মিনিট সময় নষ্ট করতে পারি? অথবা আপনি কি এর চেয়ে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকা পছন্দ করেন? পিটার বলেন, আমার কথা শুনে তিনি কিছু সময় নীরব ছিলেন। উত্তরে হকিং বলেন, মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকাটাই তিনি পছন্দ করেন।

হকিংয়ের ৭৬ বছরের জীবনে দু’জন নারী এসেছেন। ১৯৬৫ সালে তার প্রথম স্ত্রী হন জেন ওয়াইল্ড। তার গর্ভেই জন্ম হয়েছে হকিংয়ের তিন সন্তান রবার্ট, লুসি ও টিমের। এর পরেই এলাইন মেসন নামের একজন নার্স আসেন হকিংয়ের জীবনে। এলাইনের কারণেই হকিংকে ছেড়ে যান জেন। এরপর এলাইনকে বিয়ে করেন হকিং। তিনিও হকিংকে তালাক দেন ২০০৬ সালে। এরপরও তার সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন হকিং দু’বার। বুধবার দিনের প্রথম প্রহরে মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার পাশে ছিলেন তার সাবেক স্ত্রী ৭৩ বছর বয়সী জেন। হকিংয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন এলাইন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় স্টিফেনের’ মৃত্যুতে গভীরভাবে আমি শোকাহত। তার জীবন ছিল ব্যতিক্রম ও সাহসী। দীর্ঘদিন তার বেদনা আমরা অনুভব করব। হকিং সারাবিশ্বের মানুষের ভালোবাসার নাম।

হকিংয়ের মৃত্যুতে দ্বিতীয় স্ত্রী এলাইনের (৬৮) মনেও ছিল ক্ষরণ। প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তার চোখমুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। এলাইন বলেন, হকিং ছিলেন তার জীবনের ভালোবাসা। তিনি এক চমৎকার মানুষ ছিলেন। তিনি ছিলেন অনেক অনেক বেশি স্পেশাল। আমার চিন্তাচেতনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আমি হতাশায় ডুবে আছি। তিনি ছিলেন আমার জীবনের ভালোবাসা। আমি তার কাছেই যেতে চেয়েছিলাম।’

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত