বিশ্ব আতঙ্কে, ব্রিটেন নাচে
jugantor
বিশ্ব আতঙ্কে, ব্রিটেন নাচে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়েই করোনা আতঙ্ক। ভয়ে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে পা রাখছে না মানুষ। আর এর মধ্যেই মাঝরাতেই বার-পানশালায় নাচানাচিতে মেতে ওঠে ব্রিটেনের উঠতি বয়সী তরুণরা।

শুধু লন্ডন নয়, শুক্রবার মধ্যরাতে ব্রিটেনের বড় বড় সব ক’টি শহরেই একই চিত্র দেখা গেছে। চোখে পড়ার বিষয়টি হল, অন্য দিনগুলোর তুলনায় যেন একটু বিশি মাত্রাতেই উন্মাদ হয়ে উঠেছিল ব্রিটেনের আধুনিক প্রজন্ম।

‘ব্রিটেনের পানশালা, রেস্তোরাঁ, জিম ও অবকাশযাবন কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হবে। কাল সকাল থেকে এগুলো আর খুলবে না।’

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এ ঘোষণা ছড়িয়ে পড়তেই মাঝরাতেই জমজমাট হয়ে ওঠে ব্রিটিশদের ‘শেষ পানশালা’। আজ রাতেই বন্ধ হয়ে যাবে এসব- এমন আভাস পেয়ে যুবক-যুবতীদের ঢল নামে পানশালায়। ডেইলি মেইল।

মানুষের সব চিন্তা-চেতনা, হাসি-আনন্দ কেড়ে নিয়েছে ভয়াবহ এই ভাইরাস। কে কখন মরবে- চিন্তায় দিশেহারা বিশ্ব। মানুষ চোখের অশ্রু ফেলছে।

পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববী চত্বরে প্রবেশ ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়েই মসজিদ-মন্দির-গির্জাসহ সব উপাসনালয় বন্ধ। রাস্তাঘাট সুনসান। অফিস-আদালত জনশূন্য। শুধু ব্রিটেনই ছিল ব্যতিক্রম।

মাঝরাতের পানশালায় মদের আসরগুলোতে স্বল্পবসনা যুবতীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়।

করোনা আতঙ্ক তাদের ছুঁতে পারেনি। তারা সুরার পেয়ালা হাতে উদ্দাম নাচে মত্ত। চলছে নাচ, রঙ্গ, রসিকতা, গল্প। নানান ঢংয়ের আড্ডা। অথচ ব্রিটেনেও মারা গেছেন ১৭৭ জন।

আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০০০। তবে প্রকৃত সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কুচ পরোয়া নেই। এক হাতে মদের পেয়ালা, অন্য হাতে পানির বোতল নিয়ে খোশগল্পে মত্ত।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত ছিল এসব পানশালার জন্য সর্বশেষ রাত। এরপরই এসব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই এতে ভিড় জমিয়েছিল যুবসমাজরা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর কারণে শনিবার থেকে পাবগুলোর সাটার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে- এমন সিদ্ধান্ত হৃদয় ভেঙে দিতে পারে।

এর আগে ওয়েদারস্পনসের চেয়ার টিম মার্টিন বলেন, কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পাবগুলো বন্ধ করে দেয়া অগ্রাধিকারে রয়েছে। সরকার করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে সবাইকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে।

কিন্তু যারা শুক্রবার রাতে ওই পোশাকে ও মেজাজে বাইরে গিয়েছিলেন, রাতভর নেচেছেন পার্টিতে তাদের এই উদ্বেগ হয়তো স্পর্শ করতে পারেনি।

তারা হয়তো পাত্তাই দিচ্ছেন না করোনাকে। তাই তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জনসন পাব বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা কয়েক হাজার পাবে সম্প্রচার করা হচ্ছিল এ সময়। ফলে সেখানে সমবেতরা শুক্রবারের রাতকে মদপানের শেষ রাত হিসেবে উৎসবের সঙ্গে পালন করেছেন।

করোনা আতঙ্কের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উ. কোরিয়া : বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে উত্তর কোরিয়া তাদের ভূখণ্ড থেকে জাপান সাগর লক্ষ্য করে দুটি প্রজেক্টাইল ছুড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রজেক্টাইলগুলো সম্ভবত স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে উত্তর কোরিয়া পিয়ংইয়ং থেকে এগুলো ছুড়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানায়, উত্তরের প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের পর পিয়ংইয়ং এ ধরনের আরও কিছু ছোড়ে কিনা তার ওপর নজর রাখছে তারা।

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের মধ্যে এ ধরনের ঘটনাকে ‘একেবারেই অনুপযুক্ত’ অ্যাখ্যা দিয়েছে সিউল। দক্ষিণের সেনাবাহিনী জানায়, দুটি প্রজেক্টাইলই ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় উঠেছিল।

পাড়ি দিয়েছিল প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথ। জাপানের কোস্টগার্ড পরে সমুদ্রে তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের জলসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়া আগামী ১০ এপ্রিল তাদের পার্লামেন্ট সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির অধিবেশন ডেকেছে। ওই অধিবেশনে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে দেশটি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় নিজেদের সফলতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিতে যাচ্ছে বলেও অনুমান বিশ্লেষকদের।

চলতি মাসের শুরুতেও একটি মহড়ার অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সে সময় পিয়ংইয়ংকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছিল।

বিশ্ব আতঙ্কে, ব্রিটেন নাচে

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়েই করোনা আতঙ্ক। ভয়ে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে পা রাখছে না মানুষ। আর এর মধ্যেই মাঝরাতেই বার-পানশালায় নাচানাচিতে মেতে ওঠে ব্রিটেনের উঠতি বয়সী তরুণরা।

শুধু লন্ডন নয়, শুক্রবার মধ্যরাতে ব্রিটেনের বড় বড় সব ক’টি শহরেই একই চিত্র দেখা গেছে। চোখে পড়ার বিষয়টি হল, অন্য দিনগুলোর তুলনায় যেন একটু বিশি মাত্রাতেই উন্মাদ হয়ে উঠেছিল ব্রিটেনের আধুনিক প্রজন্ম।

‘ব্রিটেনের পানশালা, রেস্তোরাঁ, জিম ও অবকাশযাবন কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হবে। কাল সকাল থেকে এগুলো আর খুলবে না।’

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এ ঘোষণা ছড়িয়ে পড়তেই মাঝরাতেই জমজমাট হয়ে ওঠে ব্রিটিশদের ‘শেষ পানশালা’। আজ রাতেই বন্ধ হয়ে যাবে এসব- এমন আভাস পেয়ে যুবক-যুবতীদের ঢল নামে পানশালায়। ডেইলি মেইল।

মানুষের সব চিন্তা-চেতনা, হাসি-আনন্দ কেড়ে নিয়েছে ভয়াবহ এই ভাইরাস। কে কখন মরবে- চিন্তায় দিশেহারা বিশ্ব। মানুষ চোখের অশ্রু ফেলছে।

পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববী চত্বরে প্রবেশ ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়েই মসজিদ-মন্দির-গির্জাসহ সব উপাসনালয় বন্ধ। রাস্তাঘাট সুনসান। অফিস-আদালত জনশূন্য। শুধু ব্রিটেনই ছিল ব্যতিক্রম।

মাঝরাতের পানশালায় মদের আসরগুলোতে স্বল্পবসনা যুবতীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়।

করোনা আতঙ্ক তাদের ছুঁতে পারেনি। তারা সুরার পেয়ালা হাতে উদ্দাম নাচে মত্ত। চলছে নাচ, রঙ্গ, রসিকতা, গল্প। নানান ঢংয়ের আড্ডা। অথচ ব্রিটেনেও মারা গেছেন ১৭৭ জন।

আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০০০। তবে প্রকৃত সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কুচ পরোয়া নেই। এক হাতে মদের পেয়ালা, অন্য হাতে পানির বোতল নিয়ে খোশগল্পে মত্ত।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত ছিল এসব পানশালার জন্য সর্বশেষ রাত। এরপরই এসব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই এতে ভিড় জমিয়েছিল যুবসমাজরা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর কারণে শনিবার থেকে পাবগুলোর সাটার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে- এমন সিদ্ধান্ত হৃদয় ভেঙে দিতে পারে।

এর আগে ওয়েদারস্পনসের চেয়ার টিম মার্টিন বলেন, কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পাবগুলো বন্ধ করে দেয়া অগ্রাধিকারে রয়েছে। সরকার করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে সবাইকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে।

কিন্তু যারা শুক্রবার রাতে ওই পোশাকে ও মেজাজে বাইরে গিয়েছিলেন, রাতভর নেচেছেন পার্টিতে তাদের এই উদ্বেগ হয়তো স্পর্শ করতে পারেনি।

তারা হয়তো পাত্তাই দিচ্ছেন না করোনাকে। তাই তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জনসন পাব বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা কয়েক হাজার পাবে সম্প্রচার করা হচ্ছিল এ সময়। ফলে সেখানে সমবেতরা শুক্রবারের রাতকে মদপানের শেষ রাত হিসেবে উৎসবের সঙ্গে পালন করেছেন।

করোনা আতঙ্কের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উ. কোরিয়া : বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে উত্তর কোরিয়া তাদের ভূখণ্ড থেকে জাপান সাগর লক্ষ্য করে দুটি প্রজেক্টাইল ছুড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রজেক্টাইলগুলো সম্ভবত স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে উত্তর কোরিয়া পিয়ংইয়ং থেকে এগুলো ছুড়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানায়, উত্তরের প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের পর পিয়ংইয়ং এ ধরনের আরও কিছু ছোড়ে কিনা তার ওপর নজর রাখছে তারা।

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের মধ্যে এ ধরনের ঘটনাকে ‘একেবারেই অনুপযুক্ত’ অ্যাখ্যা দিয়েছে সিউল। দক্ষিণের সেনাবাহিনী জানায়, দুটি প্রজেক্টাইলই ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় উঠেছিল।

পাড়ি দিয়েছিল প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথ। জাপানের কোস্টগার্ড পরে সমুদ্রে তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের জলসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়া আগামী ১০ এপ্রিল তাদের পার্লামেন্ট সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির অধিবেশন ডেকেছে। ওই অধিবেশনে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে দেশটি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় নিজেদের সফলতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিতে যাচ্ছে বলেও অনুমান বিশ্লেষকদের।

চলতি মাসের শুরুতেও একটি মহড়ার অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সে সময় পিয়ংইয়ংকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছিল।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস