মোদির ডাকে বিরাট সাড়া, জনতার কারফিউয়ে স্তব্ধ ভারত
jugantor
মোদির ডাকে বিরাট সাড়া, জনতার কারফিউয়ে স্তব্ধ ভারত

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জনতার কারফিউয়ে স্তব্ধ ভারত

ভারতজুড়ে বিরাট সাড়া পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘জনতার কারফিউ’ ডাকে। দিল্লির প্রাণকেন্দ্র সদাব্যস্ত কনট প্লেসে রোববার সকাল থেকে কোনো জনপ্রাণীর দেখা মেলেনি। সারি সারি দোকানের শাটার নামানো, মেট্রো স্টেশনের কলাপসিবল গেটে ছিল বিশাল তালা।

পালিকা বাজার, সরোজিনীনগর মার্কেট বা লাজপত নগরও জনশূন্য। যে পার্কিং লটে জায়গা পেতে নাভিশ্বাস ওঠে, সেটাও পড়ে ছিল খালি। রিং রোডে পর্যন্ত একটা গাড়িও চোখে পড়েনি। চাইলে সেখানে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে নেমে পড়া যাবে- এতটাই ফাঁকা ছিল দিল্লির প্রধান আর্টারিয়াল রোড। শুধু রাজধানীতে নয়, গোটা ভারতের নানা প্রান্তে মোটামুটি এই একই ধরনের ছবি।

একশ’ ত্রিশ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার একটা দেশে সব মানুষকে যেন রাস্তাঘাট থেকে বেমালুম সরিয়ে দেয়া হয়েছে, মুছে ফেলা হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবনের প্রতিটি ছোটখাটো চিহ্ন।

বিধ্বংসী করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে এভাবেই ‘জনতা কারফিউ’ পালন করছে সারা ভারত। বিবিসি বাংলা।

রোববার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা চৌদ্দ ঘণ্টা কঠোরভাবে বাড়ির ভেতরে থাকার নির্দেশ দেন মোদি। আর স্বেচ্ছা গৃহবন্দিত্বের ‘জনতা কারফিউ’ নামকরণও তারই দেয়া। জরুরি বিভাগের সেবাকর্মীরা ছাড়া কেউ যেন এই কারফিউর মধ্যে বাইরে না বেরোয়, বারবার করে সেটা নিষেধ করেছেন।

শুধু তা-ই নয়, বিকেল ঠিক পাঁচটায় নিজেদের বাড়ির দরজা বা জানালার সামনে এসে কিংবা ব্যালকনিতে বেরিয়ে সজোরে হাততালি দিয়ে, শঙ্খ-থালা-বাসন বাজিয়ে সম্মিলিতভাবে কলতান সৃষ্টিরও অনুরোধ করেন তিনি। জোর সাড়া দিয়েছেন নাগরিকরাও।

যার যার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হাততালি, কাঁসর-ঘণ্টা-শাঁখ বাজিয়ে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ধন্যবাদ জানান তারা। শুধু সাধারণ মানুষই নন, জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত মানুষকে ধন্যবাদ জানালেন রাজনীতিবিদ এবং তারকারাও।

করোনাভাইরাস সংকট সামলানোর চেষ্টায় যে স্বাস্থ্যকর্মীরা ও আপৎকালীন পরিষেবা বিভাগের লোকজন নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন, তাদের সারা দেশের পক্ষ থেকে অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই সমবেত করতালি আর শঙ্খনাদের আয়োজন।

অনেকে বলছেন, স্পেনে যেভাবে সম্প্রতি জরুরি বিভাগের কর্মীদের সারা দেশ একটা নির্দিষ্ট সময়ে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে- ঠিক সেটার অনুকরণেই ভারতেও প্রধানমন্ত্রী মোদি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই আবার মন্তব্য করছেন, ভারত অবধারিতভাবে একটা সম্পূর্ণ লকডাউনের দিকে এগোচ্ছে- তার আগে জনতা কারফিউ আসলে একটা মহড়া বা ‘ড্রেস রিহার্সাল’!

সারা ভারতের ‘লাইফলাইন’ বলে ধরা হয় যে ভারতীয় রেলকে, তারাও জনতা কারফিউর দিনে কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন চালায়নি। শুধু দূরপাল্লার যে ট্রেনগুলো আগের দিন রওনা দিয়েছে, সেগুলো চলছে- মাঝের কোনো স্টেশনে যাত্রাবিরতি ছাড়াই। ওদিকে ইন্ডিগো, গো-এয়ার, ভিস্তারার মতো ভারতীয় এয়ারলাইনগুলো সারাদিনের বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে। দিল্লি বা ব্যাঙ্গালুরুর মতো শহরে থেমে গেছে মেট্রো রেলের চাকাও।

বড় বড় মেট্রো শহরের বহুতল আবাসনগুলোতেও লাখ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেদের ঘরের ভেতর আটকা পড়ে আছেন। সব সময় গমগম করা এই সোসাইটিগুলোতে ছিল অদ্ভুত নিস্তব্ধতা- দোকানপাট বন্ধ, পার্কে পর্যন্ত বাচ্চারাও খেলায় নামেনি।

দিল্লির বহুতল সোসাইটিও বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও কেউ প্রাতঃভ্রমণে বেরোননি। অ্যাপার্টমেন্টে যারা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন তাদেরও ছিল অঘোষিত ছুটি। সকালে খবরের কাগজ বা দুধের প্যাকেটও বিলি করা হয়েছে ভোরের আলো ফোটার অনেক আগেই। মানেনি শুধু শাহীনবাগ।

গত একশ’ দিন ধরে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন যে মুসলিম নারীরা, জনতা কারফিউর ডাক অগ্রাহ্য করেই ধরনা চালিয়ে গেছেন।

মোদির ডাকে বিরাট সাড়া, জনতার কারফিউয়ে স্তব্ধ ভারত

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
জনতার কারফিউয়ে স্তব্ধ ভারত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতজুড়ে বিরাট সাড়া পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘জনতার কারফিউ’ ডাকে। দিল্লির প্রাণকেন্দ্র সদাব্যস্ত কনট প্লেসে রোববার সকাল থেকে কোনো জনপ্রাণীর দেখা মেলেনি। সারি সারি দোকানের শাটার নামানো, মেট্রো স্টেশনের কলাপসিবল গেটে ছিল বিশাল তালা।

পালিকা বাজার, সরোজিনীনগর মার্কেট বা লাজপত নগরও জনশূন্য। যে পার্কিং লটে জায়গা পেতে নাভিশ্বাস ওঠে, সেটাও পড়ে ছিল খালি। রিং রোডে পর্যন্ত একটা গাড়িও চোখে পড়েনি। চাইলে সেখানে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে নেমে পড়া যাবে- এতটাই ফাঁকা ছিল দিল্লির প্রধান আর্টারিয়াল রোড। শুধু রাজধানীতে নয়, গোটা ভারতের নানা প্রান্তে মোটামুটি এই একই ধরনের ছবি।

একশ’ ত্রিশ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার একটা দেশে সব মানুষকে যেন রাস্তাঘাট থেকে বেমালুম সরিয়ে দেয়া হয়েছে, মুছে ফেলা হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবনের প্রতিটি ছোটখাটো চিহ্ন।

বিধ্বংসী করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে এভাবেই ‘জনতা কারফিউ’ পালন করছে সারা ভারত। বিবিসি বাংলা।

রোববার সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা চৌদ্দ ঘণ্টা কঠোরভাবে বাড়ির ভেতরে থাকার নির্দেশ দেন মোদি। আর স্বেচ্ছা গৃহবন্দিত্বের ‘জনতা কারফিউ’ নামকরণও তারই দেয়া। জরুরি বিভাগের সেবাকর্মীরা ছাড়া কেউ যেন এই কারফিউর মধ্যে বাইরে না বেরোয়, বারবার করে সেটা নিষেধ করেছেন।

শুধু তা-ই নয়, বিকেল ঠিক পাঁচটায় নিজেদের বাড়ির দরজা বা জানালার সামনে এসে কিংবা ব্যালকনিতে বেরিয়ে সজোরে হাততালি দিয়ে, শঙ্খ-থালা-বাসন বাজিয়ে সম্মিলিতভাবে কলতান সৃষ্টিরও অনুরোধ করেন তিনি। জোর সাড়া দিয়েছেন নাগরিকরাও।

যার যার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হাততালি, কাঁসর-ঘণ্টা-শাঁখ বাজিয়ে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ধন্যবাদ জানান তারা। শুধু সাধারণ মানুষই নন, জরুরি পরিষেবায় নিযুক্ত মানুষকে ধন্যবাদ জানালেন রাজনীতিবিদ এবং তারকারাও।

করোনাভাইরাস সংকট সামলানোর চেষ্টায় যে স্বাস্থ্যকর্মীরা ও আপৎকালীন পরিষেবা বিভাগের লোকজন নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন, তাদের সারা দেশের পক্ষ থেকে অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই সমবেত করতালি আর শঙ্খনাদের আয়োজন।

অনেকে বলছেন, স্পেনে যেভাবে সম্প্রতি জরুরি বিভাগের কর্মীদের সারা দেশ একটা নির্দিষ্ট সময়ে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে- ঠিক সেটার অনুকরণেই ভারতেও প্রধানমন্ত্রী মোদি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই আবার মন্তব্য করছেন, ভারত অবধারিতভাবে একটা সম্পূর্ণ লকডাউনের দিকে এগোচ্ছে- তার আগে জনতা কারফিউ আসলে একটা মহড়া বা ‘ড্রেস রিহার্সাল’!

সারা ভারতের ‘লাইফলাইন’ বলে ধরা হয় যে ভারতীয় রেলকে, তারাও জনতা কারফিউর দিনে কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন চালায়নি। শুধু দূরপাল্লার যে ট্রেনগুলো আগের দিন রওনা দিয়েছে, সেগুলো চলছে- মাঝের কোনো স্টেশনে যাত্রাবিরতি ছাড়াই। ওদিকে ইন্ডিগো, গো-এয়ার, ভিস্তারার মতো ভারতীয় এয়ারলাইনগুলো সারাদিনের বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে। দিল্লি বা ব্যাঙ্গালুরুর মতো শহরে থেমে গেছে মেট্রো রেলের চাকাও।

বড় বড় মেট্রো শহরের বহুতল আবাসনগুলোতেও লাখ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেদের ঘরের ভেতর আটকা পড়ে আছেন। সব সময় গমগম করা এই সোসাইটিগুলোতে ছিল অদ্ভুত নিস্তব্ধতা- দোকানপাট বন্ধ, পার্কে পর্যন্ত বাচ্চারাও খেলায় নামেনি।

দিল্লির বহুতল সোসাইটিও বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও কেউ প্রাতঃভ্রমণে বেরোননি। অ্যাপার্টমেন্টে যারা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন তাদেরও ছিল অঘোষিত ছুটি। সকালে খবরের কাগজ বা দুধের প্যাকেটও বিলি করা হয়েছে ভোরের আলো ফোটার অনেক আগেই। মানেনি শুধু শাহীনবাগ।

গত একশ’ দিন ধরে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন যে মুসলিম নারীরা, জনতা কারফিউর ডাক অগ্রাহ্য করেই ধরনা চালিয়ে গেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস