পুরো পাকিস্তান লকডাউন করলে গরিবদের কী হবে?
jugantor
জাতির উদ্দেশে ইমরান খান
পুরো পাকিস্তান লকডাউন করলে গরিবদের কী হবে?
নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকুন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস নিয়ে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি পাকিস্তানকে পুরো লকডাউন করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

করোনাভাইরাস নিয়ে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি পাকিস্তানকে পুরো লকডাউন করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

ইমরান খান বলেন, ‘পুরো লকডাউনের ধকল সামলে উঠতে পারবে না পাকিস্তান। কারণ দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন।

যদি আমি পুরো পাকিস্তান লকডাউন করি, তাহলে তাদের কী হবে?’ সবদিক বিবিচেনা করেই আক্রান্ত হলে নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেন ইমরান খান। খবর ডনের।

পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৭৩০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন চারজন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি সিন্ধু প্রদেশে। এখানে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯২ জন। রোববার নতুন ৪১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর এ প্রদেশটি লকডাউন করা হয়েছে।

ইমরান খান বলেন, ‘এখন আমরা সব ধরনের জনসমাবেশ বন্ধ করেছি। পুরো দেশে লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে আমরা এক কদম পিছিয়ে আছি। এর পেছনে কারণও আছে। আমাদের পরিস্থিতি ইতালির মতো দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলালে চলবে না।

তাদের মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি দেশব্যাপী লকডাউন করি, তাহলে দিনমজুর ও শ্রমিকরা সমস্যায় পড়বে। লকডাউনের পরবর্তী সপ্তাহগুলোয় তারা কী করবে?’

লকডাউনের ব্যাখ্যায় পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউন হল কারফিউ জারি থাকা এবং মানুষের বাইরে চলাচলে কড়াকড়ি থাকে। রাস্তায় থাকে সামরিক বাহিনীর সদস্য। কয়েক দিনের মধ্যেই ৯০ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে যায়।

ভাইরাস যদি ভয়াবহভাবে ছড়ায়, তাহলে বৃদ্ধ ও দুর্বল মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগেন এবং তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।’ যদি মানুষ গণজমায়েত এড়িয়ে যায়, বিবাহ বন্ধ করে এবং বাড়িতে অবস্থান করে, তাহলে ভাইরাস প্রতিরোধ করা সহজ হবে, যোগ করেন ইমরান খান। তিনি আরও বলেন, মানুষ যদি বিয়ের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করে, তাহলে এতে বৃদ্ধরাই বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

২০০৫ সালের ভূমিকম্প ও ২০১০ সালের বন্যা মোকাবেলায় পাকিস্তানের সফলতার কথা উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, ‘আমি আমার জাতি নিয়ে গর্বিত। সাহসিকতার সঙ্গে আমরা আমাদের সমস্যা ও সংকট মোকাবেলা করেছি। পাকিস্তান বরাবরই একত্রে লড়াই করেছে।

আমি আমার দেশকে ২০০৫ সালের ভূমিকম্প ও ২০১০ সালের বন্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি।’ সর্বশেষ কোনো ধরনের আতঙ্ক না ছড়িয়ে তার ওপর নাগরিকদের আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান খান।

জাতির উদ্দেশে ইমরান খান

পুরো পাকিস্তান লকডাউন করলে গরিবদের কী হবে?

নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকুন
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
করোনাভাইরাস নিয়ে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি পাকিস্তানকে পুরো লকডাউন করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস নিয়ে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি পাকিস্তানকে পুরো লকডাউন করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

ইমরান খান বলেন, ‘পুরো লকডাউনের ধকল সামলে উঠতে পারবে না পাকিস্তান। কারণ দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন।

যদি আমি পুরো পাকিস্তান লকডাউন করি, তাহলে তাদের কী হবে?’ সবদিক বিবিচেনা করেই আক্রান্ত হলে নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেন ইমরান খান। খবর ডনের।

পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৭৩০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন চারজন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি সিন্ধু প্রদেশে। এখানে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯২ জন। রোববার নতুন ৪১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর এ প্রদেশটি লকডাউন করা হয়েছে।

ইমরান খান বলেন, ‘এখন আমরা সব ধরনের জনসমাবেশ বন্ধ করেছি। পুরো দেশে লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে আমরা এক কদম পিছিয়ে আছি। এর পেছনে কারণও আছে। আমাদের পরিস্থিতি ইতালির মতো দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলালে চলবে না।

তাদের মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি দেশব্যাপী লকডাউন করি, তাহলে দিনমজুর ও শ্রমিকরা সমস্যায় পড়বে। লকডাউনের পরবর্তী সপ্তাহগুলোয় তারা কী করবে?’

লকডাউনের ব্যাখ্যায় পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউন হল কারফিউ জারি থাকা এবং মানুষের বাইরে চলাচলে কড়াকড়ি থাকে। রাস্তায় থাকে সামরিক বাহিনীর সদস্য। কয়েক দিনের মধ্যেই ৯০ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে যায়।

ভাইরাস যদি ভয়াবহভাবে ছড়ায়, তাহলে বৃদ্ধ ও দুর্বল মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগেন এবং তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।’ যদি মানুষ গণজমায়েত এড়িয়ে যায়, বিবাহ বন্ধ করে এবং বাড়িতে অবস্থান করে, তাহলে ভাইরাস প্রতিরোধ করা সহজ হবে, যোগ করেন ইমরান খান। তিনি আরও বলেন, মানুষ যদি বিয়ের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন পার্টির আয়োজন করে, তাহলে এতে বৃদ্ধরাই বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

২০০৫ সালের ভূমিকম্প ও ২০১০ সালের বন্যা মোকাবেলায় পাকিস্তানের সফলতার কথা উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, ‘আমি আমার জাতি নিয়ে গর্বিত। সাহসিকতার সঙ্গে আমরা আমাদের সমস্যা ও সংকট মোকাবেলা করেছি। পাকিস্তান বরাবরই একত্রে লড়াই করেছে।

আমি আমার দেশকে ২০০৫ সালের ভূমিকম্প ও ২০১০ সালের বন্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি।’ সর্বশেষ কোনো ধরনের আতঙ্ক না ছড়িয়ে তার ওপর নাগরিকদের আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান খান।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস