ইতালিতে প্রতি দুই মিনিটে মারা যাচ্ছে একজন
jugantor
ইতালিতে প্রতি দুই মিনিটে মারা যাচ্ছে একজন
বৃদ্ধদের কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র না দেয়ার নির্দেশ * সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৪৪৪ * যেখানে সেখানে মরে পড়ে থাকছে মানুষ * ৫২ ব্রিগেড সেনা চিকিৎসক ও নার্স পাঠিয়েছে কিউবা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইতালিতে। সোমবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৭৬ জনের। এর সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৪৪৪ জনের। সে হিসাবে প্রতি দুই মিনিটে মৃত্যু হয়েছে একজনের। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে রোগী। জায়গা হচ্ছে না, চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ পরিস্থিতিতে আইসিইউ ও কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে বৃদ্ধদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত অল্প বয়সীদের অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকার বলছে, এসব যন্ত্র কম থাকায় সব রোগীকে এটি সরবরাহ করা মুশকিল হয়ে পড়ছে। এ কারণে যাদের বয়স ৬০-এর বেশি তাদের এই যন্ত্র সরবরাহ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইতালিতে কোনোভাবেই যেন থামানো যাচ্ছে না করোনার থাবা। বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। বাড়ছে আক্রান্তের হারও। দেশটিতে গত রোববার এক দিনেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৬৫১ জনের। ইউরোপে এখন করোনার কেন্দ্রস্থল ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ মিলান। এই প্রদেশের লম্বার্ডি শহরেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বেরগামোতে শোকের মাতম আর চাপা কান্না। স্থানীয় কবরস্থানগুলোতে নেই জায়গা। ইতালির সেনাবাহিনীর কনভয়গুলো সারিবদ্ধভাবে এসে সেই কফিনগুলো নিয়ে যাচ্ছে দূরে কোথাও, অন্য কোনো কবরস্থানে, অন্য কোনো শহরে। লাশের সারি আর কত দীর্ঘ হবে- কেউ তা বলতে পারে না।

করোনা ইতালিকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। যেখানে সেখানে মানুষ মরে পড়ে থাকছে। ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে তারই একটি বাস্তব চিত্র ধরা পড়েছে রাজধানী রোমের রাস্তায়। সেখানে হঠাৎই মুখ থুবড়ে পড়ে যায় মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি। আশপাশে ধরার মতো কেউ নেই। বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে কারো ভ্রূক্ষেপ নেই। অবশেষে তাকে উদ্ধার করে মেডিকেল বিভাগের স্টাফরা। স্ট্রেচারে তুলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া হয় হাসপাতালে। ইতালির এই দৃশ্য কয়েক দিন আগের চীনের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ব্রিটেনে একই রকম দৃশ্য হতে পারে দু’সপ্তাহের মধ্যে। এখন দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ২৮১। ১৫ দিন আগেই এটাই ছিল ইতালির মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হওয়ায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্টেকে জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ভাইরাসবিষয়ক ১০০ বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল স্টাফ শিগগিরই ইতালি যাবে। সেনাবাহিনীর ৯টি বিমানের প্রথম স্কোয়াড্রন ইতোমধ্যে রোমে পৌঁছেছে। একইভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে কমিউনিস্ট কিউবাও। ৫২ ব্রিগেড সেনা চিকিৎসক ও নার্স পাঠিয়েছে দেশটি।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইতালির লম্বার্ডি অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাত থেকে কার্যকর হওয়া এসব পদক্ষেপে বাইরের সব ধরনের খেলাধুলা এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবেও কোনো কিছু করা যাবে না। ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল, সড়ক আর রেলপথের কাজ ছাড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। দেশটিতে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে যে উন্মুক্ত বাজার বসত সেগুলো স্থগিত করে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৮ মার্চ থেকে লকডাউনের মধ্যে রয়েছে লম্বার্ডি। ইতালিজুড়ে ‘প্রয়োজনীয়’ ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কন্টে। তবে কোন ব্যবসাকে ‘প্রয়োাজনীয়’ বলে গণ্য করা হচ্ছে, তা তিনি পরিষ্কার করেননি।

ইতালিতে প্রতি দুই মিনিটে মারা যাচ্ছে একজন

বৃদ্ধদের কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র না দেয়ার নির্দেশ * সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৪৪৪ * যেখানে সেখানে মরে পড়ে থাকছে মানুষ * ৫২ ব্রিগেড সেনা চিকিৎসক ও নার্স পাঠিয়েছে কিউবা
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইতালিতে। সোমবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৭৬ জনের। এর সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৪৪৪ জনের। সে হিসাবে প্রতি দুই মিনিটে মৃত্যু হয়েছে একজনের। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে রোগী। জায়গা হচ্ছে না, চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ পরিস্থিতিতে আইসিইউ ও কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে বৃদ্ধদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত অল্প বয়সীদের অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকার বলছে, এসব যন্ত্র কম থাকায় সব রোগীকে এটি সরবরাহ করা মুশকিল হয়ে পড়ছে। এ কারণে যাদের বয়স ৬০-এর বেশি তাদের এই যন্ত্র সরবরাহ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইতালিতে কোনোভাবেই যেন থামানো যাচ্ছে না করোনার থাবা। বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। বাড়ছে আক্রান্তের হারও। দেশটিতে গত রোববার এক দিনেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৬৫১ জনের। ইউরোপে এখন করোনার কেন্দ্রস্থল ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ মিলান। এই প্রদেশের লম্বার্ডি শহরেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বেরগামোতে শোকের মাতম আর চাপা কান্না। স্থানীয় কবরস্থানগুলোতে নেই জায়গা। ইতালির সেনাবাহিনীর কনভয়গুলো সারিবদ্ধভাবে এসে সেই কফিনগুলো নিয়ে যাচ্ছে দূরে কোথাও, অন্য কোনো কবরস্থানে, অন্য কোনো শহরে। লাশের সারি আর কত দীর্ঘ হবে- কেউ তা বলতে পারে না।

করোনা ইতালিকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। যেখানে সেখানে মানুষ মরে পড়ে থাকছে। ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে তারই একটি বাস্তব চিত্র ধরা পড়েছে রাজধানী রোমের রাস্তায়। সেখানে হঠাৎই মুখ থুবড়ে পড়ে যায় মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি। আশপাশে ধরার মতো কেউ নেই। বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে কারো ভ্রূক্ষেপ নেই। অবশেষে তাকে উদ্ধার করে মেডিকেল বিভাগের স্টাফরা। স্ট্রেচারে তুলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া হয় হাসপাতালে। ইতালির এই দৃশ্য কয়েক দিন আগের চীনের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ব্রিটেনে একই রকম দৃশ্য হতে পারে দু’সপ্তাহের মধ্যে। এখন দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ২৮১। ১৫ দিন আগেই এটাই ছিল ইতালির মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হওয়ায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্টেকে জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ভাইরাসবিষয়ক ১০০ বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল স্টাফ শিগগিরই ইতালি যাবে। সেনাবাহিনীর ৯টি বিমানের প্রথম স্কোয়াড্রন ইতোমধ্যে রোমে পৌঁছেছে। একইভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে কমিউনিস্ট কিউবাও। ৫২ ব্রিগেড সেনা চিকিৎসক ও নার্স পাঠিয়েছে দেশটি।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইতালির লম্বার্ডি অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাত থেকে কার্যকর হওয়া এসব পদক্ষেপে বাইরের সব ধরনের খেলাধুলা এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবেও কোনো কিছু করা যাবে না। ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল, সড়ক আর রেলপথের কাজ ছাড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। দেশটিতে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে যে উন্মুক্ত বাজার বসত সেগুলো স্থগিত করে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৮ মার্চ থেকে লকডাউনের মধ্যে রয়েছে লম্বার্ডি। ইতালিজুড়ে ‘প্রয়োজনীয়’ ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কন্টে। তবে কোন ব্যবসাকে ‘প্রয়োাজনীয়’ বলে গণ্য করা হচ্ছে, তা তিনি পরিষ্কার করেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন