দেশে দেশে বন্দিদশা চীনে মুক্তির আনন্দ
jugantor
দেশে দেশে বন্দিদশা চীনে মুক্তির আনন্দ
লকডাউন উঠল হুবেই প্রদেশে, উহানে ৮ এপ্রিল * খুলছে স্কুল-কলেজ। অনুশীলনে ফিরছেন খেলোয়াড়রা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার মহামারীতে বন্দিদশায় পড়েছে বিশ্ব। দেশে দেশে লকডাউনের কবলে পড়ছে একের পর শহর। ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৭০ কোটি মানুষ। তবে ক্রমেই স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে চীনে। মুক্তি আনন্দে গান গাইছেন নাগরিকরা। মঙ্গলবারই লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে। মধ্যরাত থেকে ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পেয়েছেন বাসিন্দারা। একটা উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল এ প্রদেশের উহান শহর থেকে এবার আংশিকভাবে লকডাউন তুলে নেয়া হবে। চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আগামী ৮ এপ্রিল থেকে তা প্রত্যাহার করা হবে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং প্রথমবারের মতো উহান সফর করেন। এরপর থেকেই হুবেই প্রদেশে ভ্রমণ ও কাজের বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। খবর এএফপির। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর বিস্তার ঠেকাতে প্রথম দিকেই একে একে লকডাউন করে দেয়া হয় দেশের সবগুলো প্রদেশ ও শহর। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মহামারীতে রূপ নেয়া এ ভাইরাসটির সংক্রমণ ওই শহরে কমে এসেছে। গত এক সপ্তাহে সেখানে নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হওয়ার পর মঙ্গলবার মাত্র একজনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তবে এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে লকডাউন এবং বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বলেছেন, দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসটি আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। করোনাভাইরাসকে জয় করে দ্রুতই স্বাভাবিক হচ্ছে হুবেইয়ের জীবনযাত্রা। লোকজন ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছেন। অফিস শুরু করেছেন। খুলছে স্কুল-কলেজ। অনুশীলনে ফিরছেন খেলোয়াড়রা। মঙ্গলবার এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে সেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেল হুবেই প্রদেশের এক নারী ডাক্তারের কণ্ঠে। উ নামে ওই ডাক্তার বলেন, ‘আমরা আজ আনন্দ উদযাপন করছি। আমরা প্রতিদিনই দেখছি, রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতি দ্রুতই ভালো হচ্ছে। হাসপাতাল খালি হচ্ছে।’
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মধ্য জানুয়ারি থেকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে চীনের উহান শহর। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আগামী ৮ এপ্রিল থেকে শহর ছাড়া যাবে। চীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মোট ৮০ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন বিদেশ থেকে আগতদের সংস্পর্শে আসায় সংক্রমিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ মাস ধরে বন্ধ থাকা প্রায় ৭০ হাজার সিনেমা হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চালু হতে যাওয়া এসব সিনেমা হল বা থিয়েটারগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে নেয়া হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ দিকে খুলে দেয়া হবে হলগুলো। চলতি সপ্তাহেই খুলে দেয়া হচ্ছে দেশটির বেশ কয়েকটি থিয়েটার। সেকারণে এরই মধ্যে পোস্টার লাগানো হয়েছে থিয়েটার এলাকাজুড়ে। শুধু তাই নয়, চলতি মাসের শেষে চীনে থ্রিডি আকারে মুক্তি পাচ্ছে হলিউডের বিখ্যাত ‘হ্যারি পটার’ সিনেমা। এদিকে ভ্যারাইটি আরও জানিয়েছে, সিনেমা হল খুলে দেয়া হলেও দর্শকদের বেশ সচেতন থাকতে বলেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মাস্ক ছাড়া সিনেমা হলে প্রবেশ নিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এবার হান্টাভাইরাস চীনে : করোনা আতঙ্কের মধ্যেই এবার চীনে হানা দিল আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাস। নাম হান্টাভাইরাস বা অর্থোহান্টাভাইরাস। এই ভাইরাসের উৎসও সেই চীন। মঙ্গলবার দেশটির প্রবাবশালী দৈনিক গ্লোবাল টাইমস টুইট করে জানিয়েছে, উনান প্রদেশে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। উনান থেকে শানডঙ প্রদেশে যাচ্ছিলেন তিনি। যে বাসে ওই ব্যক্তি ছিলেন, সেই বাসের আরও ৩২ জনের মধ্যে এই মারণ ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ‘হান্টাভাইরাসও প্রাণঘাতী এক ভাইরাস পরিবারের সদস্য। এই মারণ ভাইরাসের বাহক হল ইঁদুর জাতীয় প্রাণী। অথচ ইঁদুরের শরীরে সংক্রমণ বাসা বাঁধে না। বাসা বাঁধে মানুষের শরীরে। তবে হান্টাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এটা নতুুন কোনো ভাইরাস নয়। এ ভাইরাস আগে থেকেই আছে। করোনাভাইরাসের মতো বিস্তার রোধে হান্টাভাইরাসের ক্ষেত্রেও সবাইকে বাসায় থাকতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।’
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা অনুভব করা। বিশেষ করে ঊরু, পিঠ ও কাঁধের মতো বড় পেশিতে ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, ঠাণ্ডা এবং পেটের সমস্যা যেমন- বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। হান্টাভাইরাসে রোগীর সবশেষ লক্ষণ হচ্ছে, এতে আক্রান্ত হলে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়।

দেশে দেশে বন্দিদশা চীনে মুক্তির আনন্দ

লকডাউন উঠল হুবেই প্রদেশে, উহানে ৮ এপ্রিল * খুলছে স্কুল-কলেজ। অনুশীলনে ফিরছেন খেলোয়াড়রা
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার মহামারীতে বন্দিদশায় পড়েছে বিশ্ব। দেশে দেশে লকডাউনের কবলে পড়ছে একের পর শহর। ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৭০ কোটি মানুষ। তবে ক্রমেই স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে চীনে। মুক্তি আনন্দে গান গাইছেন নাগরিকরা। মঙ্গলবারই লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে। মধ্যরাত থেকে ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পেয়েছেন বাসিন্দারা। একটা উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল এ প্রদেশের উহান শহর থেকে এবার আংশিকভাবে লকডাউন তুলে নেয়া হবে। চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আগামী ৮ এপ্রিল থেকে তা প্রত্যাহার করা হবে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং প্রথমবারের মতো উহান সফর করেন। এরপর থেকেই হুবেই প্রদেশে ভ্রমণ ও কাজের বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। খবর এএফপির। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর বিস্তার ঠেকাতে প্রথম দিকেই একে একে লকডাউন করে দেয়া হয় দেশের সবগুলো প্রদেশ ও শহর। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মহামারীতে রূপ নেয়া এ ভাইরাসটির সংক্রমণ ওই শহরে কমে এসেছে। গত এক সপ্তাহে সেখানে নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হওয়ার পর মঙ্গলবার মাত্র একজনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তবে এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে লকডাউন এবং বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বলেছেন, দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসটি আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। করোনাভাইরাসকে জয় করে দ্রুতই স্বাভাবিক হচ্ছে হুবেইয়ের জীবনযাত্রা। লোকজন ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছেন। অফিস শুরু করেছেন। খুলছে স্কুল-কলেজ। অনুশীলনে ফিরছেন খেলোয়াড়রা। মঙ্গলবার এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে সেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেল হুবেই প্রদেশের এক নারী ডাক্তারের কণ্ঠে। উ নামে ওই ডাক্তার বলেন, ‘আমরা আজ আনন্দ উদযাপন করছি। আমরা প্রতিদিনই দেখছি, রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতি দ্রুতই ভালো হচ্ছে। হাসপাতাল খালি হচ্ছে।’ 
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মধ্য জানুয়ারি থেকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে চীনের উহান শহর। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আগামী ৮ এপ্রিল থেকে শহর ছাড়া যাবে। চীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মোট ৮০ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন বিদেশ থেকে আগতদের সংস্পর্শে আসায় সংক্রমিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ মাস ধরে বন্ধ থাকা প্রায় ৭০ হাজার সিনেমা হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চালু হতে যাওয়া এসব সিনেমা হল বা থিয়েটারগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে নেয়া হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ দিকে খুলে দেয়া হবে হলগুলো। চলতি সপ্তাহেই খুলে দেয়া হচ্ছে দেশটির বেশ কয়েকটি থিয়েটার। সেকারণে এরই মধ্যে পোস্টার লাগানো হয়েছে থিয়েটার এলাকাজুড়ে। শুধু তাই নয়, চলতি মাসের শেষে চীনে থ্রিডি আকারে মুক্তি পাচ্ছে হলিউডের বিখ্যাত ‘হ্যারি পটার’ সিনেমা। এদিকে ভ্যারাইটি আরও জানিয়েছে, সিনেমা হল খুলে দেয়া হলেও দর্শকদের বেশ সচেতন থাকতে বলেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মাস্ক ছাড়া সিনেমা হলে প্রবেশ নিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এবার হান্টাভাইরাস চীনে : করোনা আতঙ্কের মধ্যেই এবার চীনে হানা দিল আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাস। নাম হান্টাভাইরাস বা অর্থোহান্টাভাইরাস। এই ভাইরাসের উৎসও সেই চীন। মঙ্গলবার দেশটির প্রবাবশালী দৈনিক গ্লোবাল টাইমস টুইট করে জানিয়েছে, উনান প্রদেশে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। উনান থেকে শানডঙ প্রদেশে যাচ্ছিলেন তিনি। যে বাসে ওই ব্যক্তি ছিলেন, সেই বাসের আরও ৩২ জনের মধ্যে এই মারণ ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ‘হান্টাভাইরাসও প্রাণঘাতী এক ভাইরাস পরিবারের সদস্য। এই মারণ ভাইরাসের বাহক হল ইঁদুর জাতীয় প্রাণী। অথচ ইঁদুরের শরীরে সংক্রমণ বাসা বাঁধে না। বাসা বাঁধে মানুষের শরীরে। তবে হান্টাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এটা নতুুন কোনো ভাইরাস নয়। এ ভাইরাস আগে থেকেই আছে। করোনাভাইরাসের মতো বিস্তার রোধে হান্টাভাইরাসের ক্ষেত্রেও সবাইকে বাসায় থাকতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।’
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা অনুভব করা। বিশেষ করে ঊরু, পিঠ ও কাঁধের মতো বড় পেশিতে ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, ঠাণ্ডা এবং পেটের সমস্যা যেমন- বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। হান্টাভাইরাসে রোগীর সবশেষ লক্ষণ হচ্ছে, এতে আক্রান্ত হলে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন