আফ্রিকার শ্রমিকরা আতঙ্কে: কী হবে আমাদের কে খাওয়াবে?

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস আতঙ্কে দেশে দেশে লকডাউন কার্যকর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ। শাটডাউন কতদিন চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অবরুদ্ধ এ পরিস্থিতিতে ঘোর বিপদে গরিব দিনমজুররা।
ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাস আতঙ্কে দেশে দেশে লকডাউন কার্যকর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ। শাটডাউন কতদিন চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অবরুদ্ধ এ পরিস্থিতিতে ঘোর বিপদে গরিব দিনমজুররা।

দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমিকরা কালকে কী খাবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন। অনেকে বলছেন, করোনাভাইরাসে মরার আগে আমাদের না খেয়েই মরে যেতে হবে।

আবার কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছেন, এখন কী হবে আমাদের, কে খাওয়াবে? বুধবার উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও মরক্কোর শ্রমিকদের হতাশা-আতঙ্কের চিত্র তুলে ধরেছে এএফপি।

মরক্কোর নাগরিক হাকিম বলেন, আমরা ঘরে আটকা পড়ে গেছি। কোনো কাজ নেই, উপার্জনও নেই। ৩০ বছর বয়সী এ ব্যক্তি গত সপ্তাহেও মরক্কোর রাজধানী রাবাতের একটি বারে কাজ করেছিলেন। মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়াসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ লকডাউন করা হয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দোকানপাট, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ বন্ধ। পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্যরা রাস্তায় টহল দিচ্ছেন।

ফলে ফুটপাতের দোকানদাররাও তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়েছেন। উত্তর আফ্রিকার এ তিন দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। তাদের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক। যাদের অনেকেই নিরাপত্তারক্ষী, ক্লিনার, রিকশাচালক, হকার, মেথর, গৃহকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক।

রাবাতের সিসা কর্মকার মোহাম্মদ বলেন, তার দোকানে কোনো কাস্টমার নেই। তিন সন্তানের এ পিতা বলেন, এ অভাবের মধ্যে সবজির দাম বেড়েছে বহুগুণ। আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা প্রকাশিত তথ্যানুসারে, মরক্কোর শ্রমশক্তির ৮০ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক। সেই তুলনায় আলজেরিয়ায় ৬৩ শতাংশ ও তিউনিসিয়ায় ৫৯ শতাংশ। মরক্কোর পশ্চিম উপকূল মোহাম্মেদিয়ার বাসিন্দা আবদেল কবির একটি পার্কের পরিচারক, যিনি টিপসের ওপরই নির্ভরশীল।

এখন দেশে কড়াকড়ি হওয়ায় মানুষেরা আর পার্কে আসছে না। ষাটোর্ধ্ব এ ব্যক্তি বলেন, এখন আমি কোনো আয়ই করতে পারছি না। মরক্কোয় ২২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৬ জন।

মহামারী করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। মরক্কোর স্পেশাল ইকোনমিক কাউন্সিল বিশেষ ফান্ড থেকে আড়াই হাজার কোটি দিরহামের (২৫০ কোটি ডলার) একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

এ প্যাকেজের আওতায় যারা চাকরি হারাবেন তাদের দুই হাজার দিরহাম (২০০ ডলার) করে দেয়া হবে। দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বেঞ্চাবউন বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অন্তত ৪০ লাখ পরিবারকে অর্থনেতিক সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আরব বসন্তের প্রায় এক দশক পরেও তিউনিসিয়া জনগণের সামাজিক প্রত্যাশা পূরণে লড়াই করছে। করোনাভাইরাস হানা দেয়ার পর দেশটি ২৫০ কোটি দিনারের অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে গরিবদের দেয়া হবে ১৫ কোটি দিনার।

তবে বেসরকারি সংস্থা তিউনিসিয়া ফোরাম ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রাইটসের সদস্য আবদেল জলিল বিদোউ বলেন, ‘স্বনির্ভর এবং নিজের উন্নতিতে আগ্রহী নন এমন শ্রমিকরা এ তালিকায় থাকবেন না। এখন আসল অভাবীদের খুঁজে বের করারই সময়।’ তিউনিসিয়ায় ১৭৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৫ জন।

আলজেরিয়ার অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকরাই মোট জিডিপির ৪০-৫০ শতাংশ জোগান দেন। সোমবার দেশটির রাজধানী আলজিয়ার্স ও ব্লিডা শহরসহ আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। অনলাইনে অনেকেই লিখছেন, তাদের কোনো আয় নেই। সঞ্চয়ও নেই।

গত এক সপ্তাহ তারা কোনো কাজ পাচ্ছেন না। ৫০ বছর বয়সী চার সন্তানের মা জোহরা বলেন, ‘আমাদের কে খাওয়াবে? আমাদের কে জীবিত রাখবে? আমাদের নিজেদের সুরক্ষায় মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারও কিনতে পারছি না।’ তার স্বামী বেকার। তিনি রুটি ও বিস্কুট বিক্রি করেন। আলজেরিয়ায় ২৩০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৭ জন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৭,১০,৯৮৭১,৫০,৭৮৮৩৩,৫৫৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×