ফ্রান্সে আসছে আরও ভয়ংকর দিন
jugantor
প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি
ফ্রান্সে আসছে আরও ভয়ংকর দিন
আমরা মহাসংকটের মধ্যে আছি, স্থায়ী হতে পারে বহুদিন। পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৮ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে হাড় হিম করা হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদোয়ার্ড ফিলিপ। তিনি বলেছেন, সামনে আরও ভয়ঙ্কর দিন আসছে। দেশজুড়ে করোনার সুনামি বয়ে যেতে পারে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলেও কড়া সতর্কতা জারি করেছেন তিনি। করোনা নিয়ে রাজধানী প্যারিসে শুক্রবার মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠক করেন ফিলিপ। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা এক মহা সংকটের মধ্যে আছি। যা বহুদিন স্থায়ী হতে পারে। দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ লন্ডন, মাদ্রিদ ও নিউইয়র্কের মতো স্রোতের মতো করোনার রোগী আসছে প্যারিসের হাসপাতালগুলোতে। প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এদিকে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতোই ফ্রান্সে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা। এক রিপোর্ট মতে, দেশটিতে প্রতি তিন দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। ইতালির পর এখন সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি ফ্রান্সে। পরিস্থিতিকে ইতোমধ্যে ‘অত্যন্ত ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান জেরোম সলোমন। ২৫ হাজারের বেশি ব্যক্তি করোনার কবলে পড়েছেন। মারা গেছেন এক হাজার ৩০০ জনের বেশি। মৃত্যুর হার ২১ শতাংশে। তবে মৃত্যুর এই সংখ্যাটি কেবল হাসপাতালনির্ভর। স্পেনের মতো বাড়িতে বাড়িতে বহু বৃদ্ধ মানুষ মারা গেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এটা যুক্ত হলে মৃত্যুর মিছিল আরও বড় হবে।

করোনার ভ্যাক্সিন এখনও আবিষ্কার হয়নি। প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিশ্বের গবেষক ও চিকিৎসকরা। তবে এর চিকিৎসায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু ওষুধ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চীনের ডাক্তাররা। এবার ‘ক্লোরোকুইন’ নামে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক রোগীর শরীরে প্রয়োগ করে সফল হয়েছেন দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই শহরের একদল গবেষক। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলিভিয়ার ভেরন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লোরোকুইন প্রয়োগের অনুমোদন দেয়ার কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই ওষুধ কেবল গুরুতর রোগীদের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ক্লোরোকুইনকে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে প্রয়োগের অনুমোদন গেজেট প্রকাশ করে। তবে কোনো ফার্মেসিতে এই ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।

এএফপি জানায়, গত এক মাস ধরে ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করেন চিকিৎসকরা। গবেষক দলের প্রধান ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর দিদিয়ার রাউল্ত বলেন, ‘প্রায় ৭০ বছর যাবৎ ম্যালেরিয়া নির্মূলের কার্যকরী ভূমিকা রাখছে এই ওষুধ। এটা কোনো নতুন আবিষ্কার নয়।’ দিদিয়ার রাউল্ত বলেন, ‘আমরা ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করে আশ্চর্যজনক ফল পাই। এছাড়া আমিয়া শহরের ৪৮ বছর বয়সী এক রোগীকে ক্লোরোকুইনের সমন্বয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়।’

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই সর্বোচ্চ জননিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে লকডাউন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে থমকে আছে ফ্রান্সের স্বাভাবিক জীবনযাপন। ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড ফিলিপের নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল ফার্মেসি, গ্রোসারি শপ, টোব্যাকো শপ, পোস্ট অফিস, ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন। ১৩ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে ফ্রান্সের ১০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও প্রতিকূল পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যা দেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সের সীমান্তগুলোয় রাখা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অতি প্রয়োজন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া সীমান্ত দিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি

ফ্রান্সে আসছে আরও ভয়ংকর দিন

আমরা মহাসংকটের মধ্যে আছি, স্থায়ী হতে পারে বহুদিন। পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে হাড় হিম করা হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদোয়ার্ড ফিলিপ। তিনি বলেছেন, সামনে আরও ভয়ঙ্কর দিন আসছে। দেশজুড়ে করোনার সুনামি বয়ে যেতে পারে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলেও কড়া সতর্কতা জারি করেছেন তিনি। করোনা নিয়ে রাজধানী প্যারিসে শুক্রবার মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠক করেন ফিলিপ। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা এক মহা সংকটের মধ্যে আছি। যা বহুদিন স্থায়ী হতে পারে। দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ লন্ডন, মাদ্রিদ ও নিউইয়র্কের মতো স্রোতের মতো করোনার রোগী আসছে প্যারিসের হাসপাতালগুলোতে। প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এদিকে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতোই ফ্রান্সে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা। এক রিপোর্ট মতে, দেশটিতে প্রতি তিন দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। ইতালির পর এখন সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি ফ্রান্সে। পরিস্থিতিকে ইতোমধ্যে ‘অত্যন্ত ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান জেরোম সলোমন। ২৫ হাজারের বেশি ব্যক্তি করোনার কবলে পড়েছেন। মারা গেছেন এক হাজার ৩০০ জনের বেশি। মৃত্যুর হার ২১ শতাংশে। তবে মৃত্যুর এই সংখ্যাটি কেবল হাসপাতালনির্ভর। স্পেনের মতো বাড়িতে বাড়িতে বহু বৃদ্ধ মানুষ মারা গেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এটা যুক্ত হলে মৃত্যুর মিছিল আরও বড় হবে।

করোনার ভ্যাক্সিন এখনও আবিষ্কার হয়নি। প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিশ্বের গবেষক ও চিকিৎসকরা। তবে এর চিকিৎসায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু ওষুধ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চীনের ডাক্তাররা। এবার ‘ক্লোরোকুইন’ নামে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক রোগীর শরীরে প্রয়োগ করে সফল হয়েছেন দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই শহরের একদল গবেষক। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলিভিয়ার ভেরন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লোরোকুইন প্রয়োগের অনুমোদন দেয়ার কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই ওষুধ কেবল গুরুতর রোগীদের জন্য প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ক্লোরোকুইনকে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে প্রয়োগের অনুমোদন গেজেট প্রকাশ করে। তবে কোনো ফার্মেসিতে এই ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।

এএফপি জানায়, গত এক মাস ধরে ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করেন চিকিৎসকরা। গবেষক দলের প্রধান ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর দিদিয়ার রাউল্ত বলেন, ‘প্রায় ৭০ বছর যাবৎ ম্যালেরিয়া নির্মূলের কার্যকরী ভূমিকা রাখছে এই ওষুধ। এটা কোনো নতুন আবিষ্কার নয়।’ দিদিয়ার রাউল্ত বলেন, ‘আমরা ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করে আশ্চর্যজনক ফল পাই। এছাড়া আমিয়া শহরের ৪৮ বছর বয়সী এক রোগীকে ক্লোরোকুইনের সমন্বয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়।’

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই সর্বোচ্চ জননিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে লকডাউন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে থমকে আছে ফ্রান্সের স্বাভাবিক জীবনযাপন। ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড ফিলিপের নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল ফার্মেসি, গ্রোসারি শপ, টোব্যাকো শপ, পোস্ট অফিস, ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন। ১৩ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে ফ্রান্সের ১০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও প্রতিকূল পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যা দেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সের সীমান্তগুলোয় রাখা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অতি প্রয়োজন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া সীমান্ত দিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন