পাঁচ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের গবেষণা

কয়েক দশক ধরেই মানুষের শরীরে ছড়াচ্ছে করোনা

গত বছরেই চীনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস

  যুগান্তর ডেস্ক ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক ধরেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এক গবেষণায় এ দাবি করেছেন।

তারা বলছেন, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার বহু আগ থেকেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসটি হঠাৎ করেই মহামারী আকার ধারণ করেছে।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সংকটের জন্ম দিয়েছে। গবেষণাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিটের ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসন, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্রু র‌্যামবাউট, নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ান লিপকিন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডওয়ার্ড হোমস এবং নিউ অরলিন্সের তুলানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট গ্যারি।

গত ১৭ মার্চ তাদের গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত হয় বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

এ পাঁচ বিশেষজ্ঞ করোনাভাইরাসের বিবর্তনের অতীত সম্পর্কে জানার জন্য বিজ্ঞানীদের দেয়া বিভিন্ন ক্লু নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। গবেষণায় তারা দেখতে পান, চীনের উহানে প্রথম শনাক্তকরণের অনেক আগে থেকেই প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে ছড়াচ্ছিল এ প্রাণঘাতী ভাইরাস।

তবে অন্য সম্ভাবনাও থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, করোনভাইরাস একটি অনন্য মিউটেশন (জিনম সিক্যুয়েন্স) বহন করে, যা সন্দেহজনক প্রাণী হোস্টে পাওয়া যায়নি।

কিন্তু মানুষের মধ্যে বারবার ও ছোট-গুচ্ছে সংক্রমণের সময় মিউটেশন বহন করতে পারে। তাই তাদের ধারণা, এ ভাইরাসটি হয়তো বহু বছর আগ থেকেই মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের পরিচালক ড. ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, ‘গবেষণায় একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বা দৃশ্যের কথা বলা হচ্ছে। বলা হয়, করোনাভাইরাসটি মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হওয়ার আগেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছিল।

তারপর বছরের পর বছর বা সম্ভবত কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ভাইরাসটি শেষ পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ভয়াবহ প্রাণহানিকর রোগে পরিণত হয়।’

বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে তার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

এদিকে ইতালির এক গবেষকের দাবি, গত বছরেই চীনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। মিলানের মারিও নেগরি ইন্সটিটিউট ফর ফার্মাকোলজিক্যাল রিসার্চের পরিচালক গুয়েসেপ্পে রেমুজ্জি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে বলেন, গত বছরের নভেম্বরে ‘খুবই আশ্চর্য ধরনের নিউমোনিয়া’ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে।

কীভাবে ইতালিতে এ ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

রেমুজ্জি বলেন, ‘যে রোগের কোনো অস্তিত্ব নেই তার বিরুদ্ধে লড়াই করা খুবই কঠিন। বর্তমানে করোনা সংক্রমিত শহর লম্বার্ডিতে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। যে সময়ে উহানের মানুষও এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হয়নি।’

৩১ ডিসেম্বর উহানের ডাক্তাররা রহস্যময় নিউমোনিয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। উহান ইন্সটিটিউট অব ভিরোলজির প্রধান শাই ঝেংলি ও তার দলের বিশেষজ্ঞরা জানান, চীন-মিয়ানমার সীমান্তের একটি পাহাড়ি গুহায় পাওয়া বাদুড় থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে।

চীনের গোয়াংঝউ ও হংকংয়ের পৃথক বিশেষজ্ঞ দলের দাবি, প্যাঙ্গোলিন নামের এক ধরনের প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মধ্যে এমন দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে, যা মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত