স্পেনে বাজারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার

দিন-দুপুরে ডাকাতি করছে ব্যবসায়ীরা * উধাও মাস্ক স্যানিটাইজার সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া

  যুগান্তর ডেস্ক ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে করোনাভাইরাস। মহামারী ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে দেশটির সরকার। কিন্তু এখন বাজারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও এর সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোটাই এখন কালোবাজারিদের দখলে।

সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না সুরক্ষামূলক মাস্ক, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

দেশজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি বেশি লাভ করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ।

তাদের ‘ডাকাত ও দস্যু’ বলে অভিহিত করছেন অনেকেই। বলছেন, দিন-দুপুরে ডাকাতি করছে ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বের করোনাপীড়িত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজেভাবে আক্রান্ত স্পেন। সংক্রমণ ঠেকাতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তালাবন্দি পুরো দেশ। সব রেস্তোরাঁ, বার, হোটেল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

শুধু খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ কেনার জন্য সুযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মস্থল, হাসপাতাল এবং ব্যাংক যাতায়াত করার অনুমতিও রয়েছে। কিন্তু বাইরে গিয়েও খাবার ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। পেলেও দাম আকাশচুম্বী। খেটে খাওয়া ও নিুআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

অবৈধ মজুদ গড়ে তুলেছে ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহেই মাদ্রিদের একটি ফ্যাক্টরি থেকে দেড় লাখ মাস্ক উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ বাহিনী। পরে সেগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হয়।

স্পেনবাসীর জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতাও বটে। যেমনটা বলছেন রাজধানী মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় এলাকার ফার্মেসি মালিক আর্নেস্টো রুইজ লোপেজ। তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহে তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা জীবনেও দেখেননি।

তিনি বলেন, তার ফার্মেসিতে মাস্ক, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সরবরাহকারীরা এগুলো আর দিচ্ছে না। উচ্চমূল্য দাবি করছে তারা।

তিনি আরও জানান, উৎপাদক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পণ্য বাজারজাতকরণের প্রত্যেকটা ধাপেই অতিরিক্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। লোপেজ জানান, উৎপাদক পর্যায়েই একটা মাস্কের দাম তিন থেকে চার গুণ বাড়ানো হয়েছে।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের দামও এক লাফে ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এতে সবচেয়ে ভোগান্তির মুখে পড়েছে নিুআয়ের মানুষ। স্পেনে করোনাভাইরাসের মৃত্যুর সংখ্যা ইতালির থেকেও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

হাসপাতালে রোগীতে উপচে পড়া আইসিইউতে প্রাণ বাঁচাতে সর্বশক্তি নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা এই অভিজ্ঞতাকে হরর সিনেমার মতো ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। রাজধানী মাদ্রিদ পরিণত হয়েছে করোনা সংক্রমণের নতুন উপকেন্দ্রে।

শুধু এই এক শহরেই এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। মারা গেছে ২০০০ এর বেশি।

স্পেনের অন্য কোনো অঞ্চলে এত শোচনীয় হয়ে ওঠেনি। মার্চের মাঝামাঝি শহরে চলাচলে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু নাটকীয়ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে।

শনিবার একদিনেই দেশটিতে ৮ শতাধিক মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইতালি ও চীনেও এত দ্রুত মৃতের সংখ্যা বাড়েনি। ইতোমধ্যে চীনের থেকে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন স্পেনে।

একইসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুতে নতুন সংকট শুরু হয়েছে দেশটিতে। স্প্যানিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীকে দিয়ে হাসপাতাল লাশ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সঙ্কুলান হচ্ছে না। একটি কংগ্রেস সেন্টারকে ইতোমধ্যে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত