মৃত্যুপুরী ইউরোপে কাজে ফেরার তাড়া

ধীরে ধীরে লকডাউন তোলার পরিকল্পনা

  যুগান্তর ডেস্ক ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া ইউরোপ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। টানা চারদিন মৃত্যুহার কমায় দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আশার আলো দেখছে স্পেন, ইতালি, জার্মানি, ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশ। সীমিত পরিসরে হলেও অফিস-আদালত, দোকানপাট খুলে দিয়ে কাজে ফিরতে চাইছে ইউরোপ। মহাদেশের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রিয়া আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ছোট দোকানগুলো এবং ১ মে থেকে বড় দোকান ও শপিংমলগুলো খুলে দিচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় লকডাউনে থাকা ইতালি লকডাউন তুলতে ‘দ্বিতীয় ধাপের’ ঘোষণা দিয়েছে। এ স্তরে ‘ভাইরাসের সঙ্গে বসবাস করতে’ নাগরিকদের মাস্ক পরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বহু পরিমাণে পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ডেনমার্কও ইস্টার সানডের (১২ এপ্রিল) পর কড়াকড়ি শিথিল করার পরিকল্পনা করছে। জার্মানিও শিগগিরই স্কুলগুলো খুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। খবর রয়টার্স, এএফপি ও ডেইলি মেইলের। টানা চতুর্থ দিনের মতো স্পেনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। দেশটির সরকার বলছে, টানা চারদিন ধরে প্রাণহানি ধারবাহিকভাবে কমছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু স্পেনে হয়েছে। সোমবার দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে নতুন আরও ৬৩৭ জন মারা গেছেন। এ সংখ্যা এক সপ্তাহ আগে মৃত্যুর চেয়ে প্রায় অর্ধেক। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩২ এবং মারা গেছেন ১৩ হাজার ৫৫ জন। স্পেনের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কমিটির উপপ্রধান মারিয়া জোসে সিয়েরা বলেছেন, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, এই মহামারীর বৃদ্ধির হার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে কমছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরানচা গঞ্জালেজ বলেন, বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করতে এখন আরও বেশি পরিমাণে পরীক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। রোব ও সোমবারে স্পেনে দশ লাখ টেস্ট কিট পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সরকার। এছাড়া দেশীয় কোম্পানিগুলো প্রতি সপ্তাহে ২ লাখ ৪০ হাজার টেস্টিং কিট উৎপাদন করছে।

স্পেনে ১৪ মার্চ থেকে লকডাউন রয়েছে। এর সময়সীমা শেষ হচ্ছে ২৬ এপ্রিল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ইস্টার সানডের পর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ি প্রত্যাহার করা হবে। কিছু মানুষকে কাজে ফেরানো হবে। তবে দোকান, বার ও রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ থাকবে। স্পেনের অর্থমন্ত্রী নাদিয়া কালভিনো এল পায়েস পত্রিকাকে বলেন, লকডাউন শিথিল করার বিষয়ে মন্ত্রীরা আলোচনা শুরু করেছেন। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ প্রথম কোনো ইউরোপীয় নেতা হিসেবে লকডাউন প্রত্যাহারের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন। এক প্রেস বিবৃতিতে কুর্জ বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে দেশের ৪০০ বর্গমিটারের ছোট দোকানগুলো এবং ১ মে থেকে বড় দোকান ও শপিংমলগুলো খুলে দেয়া হবে। মে’র মাঝামাঝিতে হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো খোলা হবে। আর জুনের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে জনসমাগম। অস্ট্রিয়ায় ১২ হাজার ৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২২০ জন। গত ১১ মার্চ থেকে লকডাউনে থাকা ডেনমার্ক ইস্টার সানডের পর তা শিথিল করতে যাচ্ছে। রোববার রাতে এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিত্তে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, সরকার ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফেরার পরিকল্পনা করছে। গণপরিবহনে ভিড় না করে নাগরিকদের কাজে ফিরতে বলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডেনমার্কে ৪ হাজার ৬৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১৭৯ জন। করোনায় মৃত্যুতে ইউরোপে শীর্ষে থাকা ইতালিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। দেশটিতে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ হাজার ৮৮৭ এবং আক্রান্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৪৮ জন। ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্টো স্পেরানজা টেস্টের পরিমাণ বাড়ালে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কঠিন মাসগুলো আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে। যতদিন ভ্যাকসিন তৈরি না হচ্ছে ততদিন আমাদের কাজ হল ‘ভাইরাসের সঙ্গে বসবাস করা’। লকডাউন শিথিল করার ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার মাত্রা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইতালি সরকার। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে লকডাউন থাকবে। তবে এর সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জার্মানিতেও আক্রান্তের হার কমে আসায় স্কুল, দোকান ও রেস্টুরেন্টগুলো খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ১৯ এপ্রিলের পর অঞ্চলভিত্তিতে এ শিথিলতা কার্যকর করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে জানা গেছে। এক্ষেত্রে সরকারি ভবন, অফিস-আদালতে অথবা ট্রেন ও বাসে নাগরিকদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত