চীনের পর্যটকেই সর্বনাশ যুক্তরাষ্ট্রে

ইতালি, স্পেন ও আরও কয়েক দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩০ লাখ পর্যটক

  যুগান্তর ডেস্ক ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের আসা সাড়ে চার লাখ পর্যটকের ভ্রমণই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। চীনা নববর্ষের প্রাক্কালে করোনার রহস্যময় নিউমোনিয়ার মতো রোগ (তখনও অজানা) ছড়িয়ে পড়ার পর এশিয়ার দেশটি থেকে এই বিপুল সংখ্যক পর্যটক সরাসরি ফ্লাইটে আমেরিকায় এসে পৌঁছান। এরমধ্যে করোনার উপকেন্দ্রখ্যাত হুবেই প্রদেশের উহান শহরের কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন। এমনকি মার্কিন মুল্লুকে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও অন্যান্য দেশের আরও অন্তত ৪০ হাজার মুসাফির ঢুকে পড়েন।

তারা লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক, শিকাগো, সিয়াটল, নেওয়ার্ক ও ডেট্রয়েটের মতো ব্যস্ত বিমানগুলোতে নেমেছেন আর সাধারণ মার্কিনিদের সঙ্গে মিশে গেছেন। গত সপ্তাহ পর্যন্ত বিদেশিদের এই স্রোত অব্যাহত ছিল। এদের মাধ্যমেই আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার বীজ। চীন-যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের ফ্লাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু চীন থেকেই নয়, ইতালি, স্পেনসহ আরও কয়েকটি দেশের লাখ লাখ পর্যটক এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ডাটা অনুসারে, করোনার দাপটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন ৩০ লাখ ভ্রমণকারী। করোনার ক্রান্তিকাল ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি- এই তিন মাসে এই বিশাল সংখ্যক পর্যটক প্রবেশ করলেও কেন তাদের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই করা হয়নি। মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কল্পনাই করতে পারেননি যে, গোপনে করোনা বহনকারী বিদেশ থেকে আসা এসব নাগরিকই তাদের সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবেন।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, প্রথম থেকেই করোনার তথ্য গোপন করেছে বেইজিং। আর ডিসেম্বর নয়, তার আগেই দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এভাবে তাদের মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনার রোগী শনাক্ত হয় ২০ জানুয়ারি। এর দুই সপ্তাহ পর ২ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপরও বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়নি। ট্রাভেল ডাটার তথ্য মতে, লকডাউন ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি শহরে অন্তত ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পৌঁছায়। লকডাউরের পরও বেইজিং থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও নিউইয়র্কে আরও ২৭৯টি ফ্লাইট আসে। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, এরপরও বিমানবন্দরে ওইসব যাত্রীকে যথাযথভাবে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ থেকে আসা এসব ব্যক্তির মধ্যে আসলে কতজন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন তা নির্ণয় করা মুশকিল। তবে এটা সত্য যে, তাদের কিছু অংশের কোনো উপসর্গই ছিল না। এসব নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি গেছেন নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলের বড় বড় শহরে। তবে আশঙ্কার কথা হল, তারা সংখ্যায় এত বেশি যে, ধারণা করা হচ্ছে তারা অন্য শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছেন। করোনা রুখতে এখনও পুরো যুক্তরাষ্ট্র লকডাউন করা হয়নি। মাত্র ৩২টি রাজ্যে লকডাউন চলছে। অ্যান্টনি ফোউচি বলেছেন, এই মহামারী ঠেকাতে কেন পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে লকডাউনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, দেশে লাফিয়ে করোনা রোগী বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যু। তাই এখনই দেশকে লকডাউনের আওতায় আনা জরুরি।

৪০০ কোটি মাস্ক বিক্রি করেছে চীন : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গত এক মাসে প্রায় ৪০০ কোটি মাস্ক বিক্রি করেছে চীন। দেশটির শুল্ক দফতরের কর্মকর্তা জিন হাই রোববার জানান, এ পর্যন্ত ৩৮৬ কোটি মাস্ক, ৩ কোটি ৭৫ লাখ সুরক্ষা পোশাক, ১৬ হাজার ভেন্টিলেটর এবং ২৮ লাখের বেশি করোনাভাইরাসের টেস্টিং কিট রফতানি করেছেন তারা।

মোট ১৪০ কোটি ডলা চিকিৎসাসামগ্রী রফতানি হয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইন, ক্রোয়েশিয়া, তুরস্ক ও স্পেন তাদের নিুমানের চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মানসম্পন্ন না হওয়ায় নেদারল্যান্ডস সরকার গত সপ্তাহে চীন থেকে পাঠানো ১৩ লাখ মাস্কের মধ্যে ছয় লাখ ফিরিয়ে দিয়েছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত