‘হার্ড ইমিউনিটি’ ছাড়ল সিঙ্গাপুর

হিসাব করা দরকার যে, একটি সমাজে কত মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া গেলে যথাযথ হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানো যাবে

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ কৌশল থেকে পিছু হটেছে সিঙ্গাপুর। এমনকি দেশটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ অব্যাহত থাকবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা পরিচালক কেনেথ মাক বলেন, ‘এর জন্য আমাদের খুব বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। যদিও আমরা সক্ষমতা বাড়াতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। এজন্য আমাদের কৌশল খুব সহজেই ‘হার্ড ইমিউনিট’র দিকে ধাবিত হয়েছে।’

ব্লুমবার্গ জানায়, প্রতিদিন নতুন শত শত লোক আক্রান্ত হতে শুরু করলে রাজ্য বা শহর আরও আক্রমণাত্মক পরীক্ষার কৌশল বেছে নিচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে করোনা পরীক্ষা পাঁচগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। বছরের শেষদিকে দিনে প্রায় ৮ থেকে ৪০ হাজার পরীক্ষা করবে দেশটি।

ইংরেজি হার্ড শব্দটির অর্থ পশুর পাল। আর ইমিউনিটি হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ভেড়ার পালের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হতো। মানুষের ক্ষেত্রে যখন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে ভ্যাকসিন বা টিকা দেয়া যায়, তাহলে ওই কমিউনিটিতে আর সংক্রমণ হয় না। একে বলে হার্ড ইমিউনিটি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন নলেজ প্রজেক্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যখন একটি এলাকার বেশিরভাগ মানুষকে কোনো একটি সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক দেয়া হয় তখন ওই এলাকায় ওই রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না। কারণ ওই এলাকায় আর সংক্রমিত হওয়ার মতো মানুষই থাকে না।

সিঙ্গাপুরের সংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক ভার্নন লি বলেন, ‘প্রাকৃতিক সংক্রমণের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা খুব কঠিন হতে চলেছে এবং এর ফলে প্রচুর সংক্রমণ এবং জটিলতা দেখা দেবে। এজন্য আমাদের একটি কার্যকর টিকার অপেক্ষায় থাকতে হবে।’ ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত তথাকথিত হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের মাধ্যমে করোনাকে পরাজিত করার ক্রমবর্ধমান আলোচিত ভাবনাকে হিসাব-নিকাশের ভুল এবং এ চিন্তা-ভাবনা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার সংস্থাটির ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের প্রধান মাইকেল রায়ান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এটা সত্যিই বিপজ্জনক হিসাব-নিকাশ। যেসব দেশের করোনা মোকাবেলা ব্যবস্থা শিথিল এবং কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি; হার্ড ইমিউনিটির ধারণাটি সম্ভবত সেসব দেশের। তাদের ধারণা হঠাৎ করেই তারা ম্যাজিক্যালি হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছাবে।’ ‘মানুষ পশুর পাল নয় বলেও সতর্ক করেন রায়ান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই কর্মকর্তা বলেন, মানুষের মাঝে হার্ড ইমিউনিটি তখনই প্রযোজ্য যখন বিজ্ঞানীদের হিসাব-নিকাশ করা দরকার যে, একটি সমাজে কত সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া গেলে যথাযথ হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানো যাবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত