দরজায় দরজায় সরকারের চোখ-কান

কেরালার করোনা যুদ্ধে ২৬০০০ ‘নারী ড্রোন’

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার দুর্দিনে কেরালার দরজায় দরজায় সরকারের ‘চোখ-কান’ গুলোই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। করোনা মোকাবেলায় সফল ভারতের ছোট্ট এ রাজ্যে করোনা যুদ্ধে লড়াই করেছে ২৬ হাজারের মতো ‘নারী ড্রোন’। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি হেঁটে হেঁটে তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিদেশ থেকে আগতদের কোয়ারেন্টিন-আইসোলেশনে রাখতে তাদের তথ্য নিয়েই কার্যকরী ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জনস্বাস্থ্যে নিবেদিত এসব স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন গ্রামবাসীর চোখের মণি। কেউ বলে ‘নারী ড্রোন’ কেউ বলে ‘পদাতিক বাহিনী’। সেবার এ সর্বোচ্চ স্বীকৃতিতে খুশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত এসব মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও। ‘আজকাল কেরালার পুলিশ নজরদারির জন্য যে ড্রোন ব্যবহার করে আমরা তার মতো। আমাদের চোখ সর্বত্রই’- কথাগুলো হেসে হেসে বলছিলেন লতা রাজু। ৪৭ বছর বয়সী এই নারী অ্যাক্রেডিটেড সোশ্যাল হেলথ অ্যাকটিভিস্টের (আশা) সদস্য, যিনি কোচি কর্পোরেশনের থট্টাজহাম ওয়ার্ডের প্রায় ৫০০ পরিবারের দায়িত্বে আছেন। সাধারণ দিনগুলোতে তিনি তার ওয়ার্ডের গর্ভবতী মহিলাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেন। ঘরে ঘরে গিয়ে তার ছোট্ট ডায়েরিতে নবজাতক শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা, বয়স্ক ও পঙ্গুদের প্রয়োজনীয় ওষুধের বিষয় লিখে রাখেন। তার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে প্যারাসিটামল থেকে স্যালাইন, সব প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকে। তবে এখন সাধারণ দিন নয়। গত তিন মাস ধরে করোনা মহামারী কেরালাসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৬ হাজার আশার সাহসী সদস্য চ্যালেঞ্জিং ভূমিকা পালন করছেন। তারা স্থলভাগে সরকারের চোখ ও কান হয়ে উঠেছেন। গোয়েন্দাদের মতো তাদের নজরদারি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে সহায়তা করছেন। যদি কেউ কাশি বা হাঁচি দেয় তাহলে ওই নারীদের ফোনটিই প্রথমে বেজে ওঠে। অন্য জেলা থেকে আগত কেউ যদি ওয়ার্ডে প্রবেশ করে তাহলে তিনিই প্রথমে জানতে পারেন।

লতা বলেন, ‘আশার কর্মী হিসেবে আমার দশম বছর চলছে। একটি এলাকায় এতটা সময় ব্যয় করায় লোকেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার অনেক আপন হয়ে গেছে। আমার ওয়ার্ডে কোনো নারী গর্ভবতী হলে কখনও কখনও তিনি তার পরিবারকে বলার আগে আমিই প্রথমে তা জেনে যাই।’ কেরালার স্বাস্থ্য বিভাগ মূলত আশার মতো কিছু সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে করোনা মোকাবেলা করছে। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে চীনের উহানে নতুন ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কেরালা শঙ্কিত হয়ে ওঠে। কারণ রাজ্যের কয়েক শতাধিক মেডিকেল শিক্ষার্থী উহানে অবস্থান করেছিল। যদি তারা ফিরে আসে- এজন্য রাজ্য আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই পঞ্চায়েত স্তরে দ্রুত রেসপন্স টিম (আরআরটি) এবং তিরুবনন্তপুরমে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছিল। এ দলের অন্যতম প্রধান অংশগ্রহণকারী ছিলেন আশার সদস্যরা। এরনাকুলাম জেলার উত্তরের পারাভুর ব্লকের আশা কর্মী বিনা বলেন, ‘কেবল আশার কাছেই মনোনীত ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য প্রোফাইল রয়েছে। তাকে প্রতি মিনিটের বিশদ জানতে হবে। পুরো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমাদের ওপর নির্ভরশীল, কারণ আমাদের কাছে ডেটা রয়েছে। এজন্যই আমরা অবিচ্ছেদ্য।’

আশার রাজ্য প্রেসিডেন্ট পিপি পেমা বলেন, আমরা সংকল্পবদ্ধ ছিলাম যে, আমাদের সঠিক তথ্য পেতে হবে। ভুল করার কোনো জায়গা ছিল না। কর্মীদের কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছিল যে, ভুল তথ্যের একটি অংশও যেন না আসে। আমাদের খুব যত্নবান হতে হয়েছিল। জেলা প্রশাসন কোনো সংক্রমিত ব্যক্তির ভ্রমণ তথ্যের মানচিত্র তৈরিতে স্থানীয় আশার প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, লকডাউনের প্রথম সপ্তাহগুলোতে তাদের মাস্ক এবং গ্লাভসের ব্যবস্থা ছিল না। জুনিয়র হেলথ ইন্সপেক্টরদের মতো আশার তৃণমূল কর্মীরাও তাদের মুখ তোয়ালে দিয়ে ঢেকেছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত