ভারতে বুলেট গতিতে বাড়ছে সংক্রমণ

২০ দিনে করোনা আক্রান্ত বেড়েছে ৩ গুণ * বিল গেটসের সঙ্গে অনেক কথা মোদির

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বুলেট গতিতে বাড়ছে। গত তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে দেশটিতে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে। ঢিলেঢালা লকডাউনই ভারতকে করোনা সংক্রমণ ট্যালির পিকে (শীর্ষে) পৌঁছে দিচ্ছে। লকডাউন শিথিল হওয়ায় মানুষের চলাফেরা বেড়েছে। ফলে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে ভ্রমণকারীরাই এখন ভাইরাসের নতুন বাহক। যেসব রাজ্যে ভিনরাজ্যের বাসিন্দারা ফিরছেন, সেখানে গত কয়েকদিনে কল্পনাতীত হারে আক্রান্ত সংখ্যা বেড়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, করোনা সংক্রমণ রোধে ভারতে তৃতীয় দফার লকডাউন আগামী ১৭ মে শেষ হবে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে এবং সেই সঙ্গে করোনায় সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ইতোমধ্যে বেশকিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। লকডাউন শিথিল করার পর থেকে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে। গত ২০ দিনে দেশটিতে সংক্রমণ ৩ গুণ বেড়েছে। ২৫ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজারের কম। শুক্রবার (১৫ মে) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৬৪ জনে। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তালিকায় করোনা আক্রান্তের দিক দিয়ে ভারত বিশ্বের ১২তম অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন তিন হাজার ৯৬৭ জন আক্রান্ত ও ১০৩ জন মারা গেছেন। মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ৬৪৯ জনে। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৭ হাজার ৯৭৭ জন।

ভারতে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্র। দেশটিতে মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই মহারাষ্ট্রের। স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৫২৪ জনেরও বেশি। মৃত্যুর দিক থেকেও শীর্ষে মহারাষ্ট্র, ১০১৯ জন। মুম্বাই শহরেই আক্রান্ত মহারাষ্ট্রের মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি। বলিউড নগরীতে কোভিড রোগী ১৬ হাজার ৭৩৮ জন এবং মারা গেছেন ৬২১ জন।

তামিলনাড়ু বৃহস্পতিবার করোনা সংক্রমণে গুজরাটকে ছাড়িয়ে গেছে। করোনা সংক্রমণে দ্বিতীয় শীর্ষ এখন দক্ষিণের এ রাজ্য। নতুন ৪৪৭ জনের সংক্রমণ মিলিয়ে তামিলনাড়ুতে মোট আক্রান্ত ৯ হাজার ৬৭৪। গুজরাটে বৃহস্পতিবার নতুন ৩২৪ জনের আক্রান্ত মিলিয়ে মোট সংক্রমিত সংখ্যা ৯ হাজার ৫৯২ জন। মৃত্যুর দিক থেকেও মহারাষ্ট্রের পর গুজরাট, ৫৮৬ জন। দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ও মৃত্যু ১১৫। আক্রান্তে এরপর রয়েছে রাজস্থান ৪ হাজার ৫৩৪, মধ্যপ্রদেশে ৪ হাজার ৪২৬, উত্তরপ্রদেশে ৩ হাজার ৯০২, পশ্চিমবঙ্গে দুই হাজার ৩৭৭ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ২০৫। চলাফেরায় শিথিলতা দেয়ার পর ভ্রমণকারীরা অনেকেই এখন ভাইরাসের নতুন বাহক।

যেসব রাজ্যে ভিনরাজ্যের নাগরিকরা ফিরছেন, সেখানে গত কয়েকদিনে সংক্রমণ বেড়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশ্যা, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়েই নয়, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং গোয়ার ক্ষেত্রেও তা সত্য। ওড়িশ্যায় বৃহস্পতিবার ৬১ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যাদের প্রায় সবাই ভিনরাজ্য থেকে আসা বা তাদের সংস্পর্শে আসা। চলতি মাসের শুরুতে ওড়িশ্যায় সংক্রমণ দেড়শ’র কম থাকলেও এখন তা ৬৭২ জন। সোমবার থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে যে ১১৭ জনের নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে তার মধ্যে ১০৫ জন ভিনরাজ্য থেকে ফিরেছেন। তেলেঙ্গানায় এ সংখ্যাটা ১৪৯ জনের মধ্যে ৬৭। ফলে এ দুই রাজ্যেই ফেরত আসাদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিহারেও ৪ হাজার ২৭৫ জন পরিযায়ী শ্রমিককে পরীক্ষা করে ৩২০ জনকে পজিটিভ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার নতুন ৪৭ জন নিয়ে বিহারে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১০০০-এর কম হলেও গত কয়েকদিনে সংখ্যাটা বেড়েছে।

করোনার সংক্রমণ হাজার ছুঁতে চলেছে এমন রাজ্যের মধ্যে কর্নাটকে ৯৮৭ ও জম্মু-কাশ্মীর ৯৮৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী বিল গেটস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে তাদের আলোচনা হয়। মোদি নিজেই এ খবর নিশ্চিত করেছেন টুইটারে। এনডিটিভি বলছে, এই মহামারী মোকাবেলায় বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বৈশ্বিক সমন্বয়ের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন তারা। বিল গেটস এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি একমত হয়েছেন যে, ভারত পুরো বিশ্বের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতিতে একসঙ্গে কোমর বেঁধে লড়াই করছে। এই প্রাণঘাতী রোগকে রুখে দিতে ভারত সদিচ্ছা দেখিয়েছে বলে প্রশংসা করেছেন বিল গেটস।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত