ভিয়েতনামে মুখে মুখে করোনা জয়ের গল্প

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের সঙ্গে বিশাল সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও ভিয়েতনাম করোনা মোকাবেলায় সফল। প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ৩০০’র সামান্য বেশি করোনায় আক্রান্ত। প্রাণহানি শূন্য রেখে রেকর্ড গড়ে বিশ্বের বুকে মহামারী জয়ের রূপকথা লিখেছে ভিয়েতনাম। কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের সর্বশেষ ঘটনা শনাক্ত হওয়ার প্রায় এক মাস পার করে দেশটি ইতোমধ্যে সবকিছুই খুলতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অন্যান্য দেশ যখন করোনা সংক্রমণ এবং বিশাল মৃত্যু দেখেছে; তখন ভিয়েতনাম দেখেছে সামান্য সংক্রমণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় পুরোপুরি সফল হয়েছে। খবর বিবিসির।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিয়েতনামের সফলতা থেকে শিক্ষা নিতে বেশিরভাগ দেশই দেরি করে ফেলছে। ভিয়েতনামের হ্যানয়ের হার্ভার্ড পার্টনারশিপ ফল হেলথ অ্যাডভান্সমেন্টের অধ্যাপক ডা. টোড পোলাক বলেন, বিপজ্জনক অজানা নতুন রোগজীবাণু মোকাবেলা অত্যধিক প্রতিক্রিয়াশীল উপায়ে হওয়াই উত্তম। করোনার একজন রোগী না পাওয়া গেলেও জানুয়ারির শুরুতে ভিয়েতনামের সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। ওই সময় উহানে অজানা এ রোগে মাত্র দু’জন মারা যান।

২৩ জানুয়ারি দেশটিতে প্রথম ভাইরাস শনাক্ত হয় এক ব্যক্তির শরীরে। এই ব্যক্তি সেই সময় উহান থেকে হো চি মিন শহরে ফিরে আসেন। ওইদিনই ভিয়েতনামের জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। হো চি মিন শহরের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্লিনিক্যাল রিসার্চের (ওইউসিআরইউ) পরিচালক অধ্যাপক গাই থওয়েটিস ভিয়েতনাম সরকারের সংক্রামক ব্যাধি কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, এটি খুব দ্রুত কার্যকর করা হয়; যা বেশ কঠোর মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায় এই কাজটি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত। ভিয়েতনাম শুরুতেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং চীনের সঙ্গে সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। কঠোর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সীমান্ত ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বৃদ্ধি করে। চন্দ্রবর্ষের ছুটিতে স্কুল বন্ধ করে দেয় জানুয়ারির শেষের দিকে। ব্যাপক পরিসরে, কষ্টসাধ্য এবং শ্রমঘনিষ্ঠ উপায়ে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যকর শুরু করে।

অধ্যাপক গাই বলেন, এটি এমন একটি দেশ যারা ২০০৩ সালের সার্চ থেকে শুরু করে ২০১০ সালের অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাবও মোকাবেলা করেছে। তিনি বলেন, দেশটির সরকার এবং সাধারণ জনগণও সংক্রামক ব্যাধিগুলো মোকাবেলায় খুবই অভ্যস্ত এবং এসবের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ের দিকে ভিয়েতনাম দেশটিতে আগত প্রত্যেককে এবং তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন; তাদের সবাইকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। একজন নারী যিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে ভিয়েতনামে উড়ে আসেন। বিবিসিকে এ নারী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভিয়েতনামকে তিনি নিরাপদ মনে করেন। ভিয়েতনাম সারা দেশে পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করেনি। তবে যখন কোনো ক্লাস্টার পাওয়া গেছে সেই এলাকায় ব্যবস্থা নিয়েছে। ভিয়েতনামের মেডিকেল পরিসংখ্যান বলছে, সরকারি তথ্য-পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। ডা. টোড পোলাকের দল দেশটির প্রধান সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে কর্মরত। তিনি বলেন, যদি অনিবন্ধিত, চিকিৎসাসেবার বাইরের অথবা মিসিং কোনো রোগী থাকত তাহলে আমরা সেগুলো হাসপাতালের ওয়ার্ডে দেখতাম।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত