মা-বাবাকে দেখার অপেক্ষায় একশ’ নবজাতক

আটকে পড়েছে সারোগেট শিশু

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা লকডাউনের কারণে ইউক্রেনে আটকে পড়েছে শতাধিক সারোগেট (গর্ভ ভাড়া নিয়ে জন্ম নেয়া) শিশু। নবজাত এই শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের মুখ দেখতে দিচ্ছে না প্রাণঘাতী মহামারী। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের লকডাউনের কারণে কয়েকটি সারোগেসি সেন্টারে প্রায় শখানেক শিশু তাদের বাবা-মার অপেক্ষায় আছে। লকডাউন আরও বাড়ালে এই সংখ্যা কয়েকশ’ এমনকি হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। খবর আল জাজিরার।

ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, ইসরায়েল, জার্মানি, চীন, মেক্সিকো, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, মেক্সিকো, পর্তুগাল, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নিঃসন্তান ব্যক্তি কিয়েভের বায়োটেক্স কমের ওপর সারোগেট শিশু পাওয়ার জন্য ভরসা করে থাকেন। ব্রিটেনের সংযুক্তি আছে এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে। এজন্য প্রতিটি শিশুর জন্য ব্যয় করতে হয় ৫ হাজার ৭৪৫ থেকে ৫৭ হাজার ৩৬৫ পাউন্ড পর্যন্ত।

নির্ধারিত সময়েই এসব শিশুর জন্ম হওয়ার পর কিয়েভের ভেনিচ হোটেলে যত্নআত্তির মধ্যে রাখা হয়েছে তাদের। সকালের মিষ্টি রোদ পোহানো এবং মৃদু উষ্ণ পানিতে গোসল দেয়া হচ্ছে। দেখভালকারী ম্যারিনা তা ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু ইউক্রেনের সীমান্ত করোনার কারণে বন্ধ থাকায় এসব শিশুর বিদেশি বাবা-মায়েরা তাদের গ্রহণ করতে পারছেন না।

ছবি দেখে মনে হয় শিশু তৈরির কারখানা। ক্রন্দনরত শিশুদের আদর করছে নার্স। গোসল করিয়ে দিচ্ছে। এমন মন্তব্য করে ইউক্রেইন পার্লামেন্টের মানবাধিকার ন্যায়পাল লুদমিলা ডেনিসোভা বলেন, বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সারোগেট শিশু এরা। অবশ্য উন্নতমানের যত্ন ও পরিবেশেই ওরা রয়েছে। কার বাচ্চার কতটা ওজন, কী পরিমাণ খাচ্ছে তাও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে অভিভাবকদের। শিশুদের কাছে না পাওয়া তাদের জন্যও খুবই হৃদয়বিদারক। চিকিৎসকরা নিয়মিত শিশুদের পরীক্ষা করছে। অভিভাবকদের বিশেষ অনুমতি দেয়া হবে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার জন্য এমনটি আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাচ্চা আছে বলে হোটেলটিকে পুরোপুরি কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। নার্সদের সেখানেই থাকতে হচ্ছে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাতিয়ানা লিসভস্কায়া আশ্বস্ত করেন এ বিষয়টি। ইউরোপে এ ধরনের সারোগেট বাচ্চা নেয়ার সুযোগ নেই। ভারতেও নিষিদ্ধ। তবে ইউক্রেনে তা বিধিসম্মতভাবেই রয়েছে বলে বিভিন্ন দেশ থেকে নিঃসন্তান অভিভাবকরা ছুটে আসেন কিয়েভেই।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত