গরম আবহাওয়া করোনা লড়াইয়ে সহায়ক হতে পারে : গবেষণা

মার্কিনিরা হাটবাজার থেকে ঘরে আনছে করোনা

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা বাইরে থেকে করোনাভাইরাস ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। যেসব নাগরিকরা হাটবাজারে কেনাকাটা, শরীরচর্চা ও ঘোরাফেরা করতে বের হচ্ছেন, তারাই করোনা ঘরে নিয়ে আসছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্র– কুমো। করোনা ইস্যুতে শনিবার দৈনন্দিন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তিই বাড়িতে গিয়ে অন্য লোকজনকে সংক্রমিত করছেন।

রয়টার্স জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দৈনিক ২,১০০ থেকে ২,৫০০ এর মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে শনিবার নতুন করে দেশটিতে ২৫ হাজার ৬০ জন আক্রান্ত এবং মারা গেছেন ১ হাজার ২২৪ জন। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ জন। মারা গেছেন ৯০ হাজার ১৩৪ জন।

কুমো গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, অত্যাবশ্যক কর্মীদের কাছ থেকে নতুন সংক্রমণ সংখ্যা বাড়ছে। শনিবার তা সংশোধন করে তিনি বলেন, এটি ছিল ভুল। প্রয়োজনীয় কর্মীদের মধ্যে সংক্রমণের হার সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় কম। নতুন সংক্রমণ মূলত এমন লোকদের কাছ থেকে আসছে যারা কাজ করে না, বরং তারা বাড়িতেই থাকে।

কুমো বলেছেন, করোনাভাইরাস পজিটিভ লোকদের শনাক্তে নিউইয়র্ক কয়েক হাজার কর্মী নিযুক্ত করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার প্রকোপ কমাতে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কুমো বলেন, ‘রাজ্যের ১০টি অঞ্চলের মধ্যে যে পাঁচটি অঞ্চলকে শুক্রবার ব্যবসায়ের জন্য পুনরায় চালু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে, তাদের জনসংখ্যার অনুপাতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ট্রেসার থাকা দরকার। ট্রেসিং অপারেশন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ।’ কানাডার সীমানা থেকে কয়েক মাইল উত্তরে অবস্থিত নিউইয়র্ক রাজ্য করোনায় বিধ্বস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এ শহরে প্রায় ৮৪ লাখ মানুষ বাস করেন। রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাওয়া নাগরিকের এক-তৃতীয়াংশই নিউইয়র্কের বাসিন্দা। শুক্রবার মধ্য ও উপকূলীয় নিউইয়র্কের যে পাঁচটি অঞ্চলে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, সেখানে নির্মাণ ও উৎপাদন কাজ পুনরায় শুরুর অনুমতি দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিসহ অন্য অঞ্চলের কার্যক্রম ২৮ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেক্টিকাট এবং ডেলাওয়্যার রাজ্যে ২৩-২৫ মে মেমোরিয়াল হলিডেতে সৈকতগুলো পুনরায় খোলা হবে বলে জানিয়েছেন কুমো।

গরম আবহাওয়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি সহজে থামবে না বলে নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা তাদের গবেষণায় অনুমান করেছেন যে, গ্রীষ্মের তাপ, আর্দ্রতা, প্রচুর রোদ করোনার বিস্তার কিছুটা হলেও ঠেকাবে। তবে একেবারে সংক্রমণ বন্ধ করা যাবে না। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক মোহাম্মদ জালালি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ‘গ্রীষ্মের পরিস্থিতিকে মানুষ তখনই কাজে লাগাতে পারবে না যখনই মানুষ মনে করবে এ ভাইরাস উষ্ণ আবহাওয়ায় সংক্রমিত হয় না এবং সামাজিক দূরত্বের মতো বিধি মানলেই এটি ঠেকানো যাবে।’ আবহাওয়া ভাইরাসের বিস্তারকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন জালালি।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত