কামান-বুলেট ছাড়াই রড পাথরের যুদ্ধে চীন-ভারত

চীনের তাঁবু সরানোকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ * চীনা সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়িয়েছে ভারতীয় বাহিনী * তিন বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে থাকার নির্দেশ ভারতের

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

কোনো ধরনের কামান বুলেট ছাড়াই রড ও ইটপাথর ছোড়াছুড়ির যুদ্ধে ঘায়েল হয়েছে ভারত ও চীন। সোমবার রাতে লাদাখ সীমান্তের গালোয়ান উপত্যকায় দু’দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

চীনা সেনাবাহিনীর অন্তত ৪৫ সেনা সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভারত।

গালোয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর গেড়ে বসা একটি তাঁবু সরানোকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষ বাধে বলে বুধবার জানিয়েছে এনডিটিভি। গত ৬ জুন চীন-ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক হয়।

ওই বৈঠকে সীমান্তের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের গোলাগুলি হবে না বলে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল দু’দেশ।

এ চুক্তির কারণেই গুলি ছোড়াছুড়ি ছাড়াই প্রাণঘাতী এ সংঘর্ষ হল।

দু’দেশের এ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চীনা সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করেছে ভারতীয় বাহিনী। বুধবার গগনগীরের লেহ ও চেং লাহ এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর সাজোয়াঁ যান টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়া ভারতের তিন বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে অর্থ্যাৎ যুদ্ধাবস্থার মধ্যে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গার্ডিয়ান বলছে, সোমবার গভীর রাতে লাদাখের সুউচ্চ পর্বতমালায় গালোয়ান নদীর পূর্ব পার ধরে টহলে বেরিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্টের একটি প্যাট্রোল দল।

এ সময় চীনা বাহিনী তাদের সামনে চলে আসে। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তারা এক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাকে ধাক্কা মেরে নদীর তীরে ফেলে দিলে উভয় দেশের সেনা সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর আহত এক জওয়ান ডয়চে ভেলেকে বলেন, মাঝ রাতে প্যাট্রোলিংয়ের সময় বিহার রেজিমেন্ট দেখতে পায় গালোয়ান নদীর পশ্চিম প্রান্তে লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে প্যাট্রোল পয়েন্ট ১৪তে তাঁবু তৈরি করেছে চীনের পিপলস আর্মি। দিল্লির দাবি অনুযায়ী, ওই এলাকাটি ভারতের।

ফলে প্যাট্রোল দল দ্রুত সেখানে পৌঁছায় এবং তর্কাতর্কি শুরু হয়। তাদের তাঁবুগুলো ভাঙতে থাকেন ভারতীয় সেনারা। কিছু কিছু তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এরপরই কাঠের তক্তা, লোহার রড, কাঁটা তার জড়ানো বাটামসহ চীনা বাহিনীর আরও সেনা জড়ো হতে থাকে। কোনো রকম কামান, গোলাগুলি ছাড়াই শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ।

আহত আরেক ভারতীয় সেনা বলেন, পাল্টা আঘাত করে ভারতীয় সেনারাও। ওই উচ্চতায় রাতের তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের অনেক নিচে। সঙ্গে ছিল অক্সিজেনের সমস্যা। তার মধ্যেই দু’পক্ষের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছায়। আহত সেনা জওয়ানদের কেউ কেউ নদীতে পড়ে যায়।

এতে প্রথম দিকে এক কর্নেল ও দুই জওয়ান নিহত হন। পরে ভারত দাবি করে, নদী থেকে তাদের আরও অন্তত ২০ সেনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনা সেনাদের আঘাতে প্রথম দিকেই আহত হন কর্নেল বিএল সন্তোষ (পরে তিনি মারা যান)।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভারতীয় সেনারা কর্নেল ও এক হাবিলদারকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। তবে বাকিরা সেখানেই থেকে যান। প্রায় ৪০ মিনিট পর এক মেজরের নেতৃত্বে ভারতীয় বাহিনীর আরেকটি দল সেখানে পৌঁছায়।

ঘটনাপ্রবাহ : কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় অগ্নিগর্ভ যুক্তরাষ্ট্র

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত