ছদ্মনামে মেয়েকে হার্ভার্ডে পড়ান শি
jugantor
ছদ্মনামে মেয়েকে হার্ভার্ডে পড়ান শি

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিধর নেতার একমাত্র সন্তান। মার্কিন ফার্স্ট ডটার মেলানিয়া ট্রাম্প, সাশা বা মালিহা ওবামা নন। বিশ্বের খুব কম লোকই জিয়াও মুজি নামটি চেনেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একমাত্র মেয়ে। জিয়াও মুজি অবশ্য তার দাদার দেয়া ছদ্মনাম। কূটনৈতিক নিরাপত্তার কারণে ছদ্মনামে বেড়ে উঠেছেন তিনি। জিনপিংয়ের মেয়ের আসল নাম জি মিংজে। তাকে প্রচারের আলোয় আসতে দেননি চীনা প্রেসিডেন্ট। শি জিনপিং এবং তার স্ত্রী লোকসঙ্গীতশিল্পী পেং লিউয়ানের মেয়ে জি মিংজের জন্ম ১৯৯২ সালের ২৭ জুন। বর্তমানে তার বয়স ২৭। জিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্তরের পড়াশোনা শেষে ২০১০ সালে ভর্তি হন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। চূড়ান্ত গোপনীয়তার মধ্যে ছদ্মনামে মনস্তত্ত্ব এবং ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন জি। তখনও তার বাবা জিনপিং চীনের প্রেসিডেন্ট হননি।

তখন তার দাদা জি ঝোংজুন ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা।

মাও সে তুংয়ের শাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন জি ঝোংজুন। ফলে প্রথম থেকেই হার্ভার্ডে চরম গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয়েছে জিকে। সব সময়ই তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করত বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী। অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি বন্ধুত্ব করতে পারেননি। অবসর সময়ে জি ভালোবাসেন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বই পড়তে। ফ্যাশনেও আগ্রহ আছে তার।

৯০-এর দশকে জির শৈশবের কিছু ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর তিনি চলে যান গোপনীয়তার অন্তরালে। সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া, কোথাও ছিলেন না তিনি। ২০১৫ সালে তাকে প্রথম প্রকাশ্যে নিজের পরিচয়ে দেখা যায়। তখন তার বাবা চীনের প্রেসিডেন্ট। বাবা ও মায়ের সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে বসন্তোৎসব এবং নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।

চীনের ইয়ানান প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামেও গিয়েছিলেন জি। সমাজসেবার কাজে ওই গ্রামেই জিনপিং ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। এরই মধ্যে জি-কে তার বাবার উত্তরসূরি বলা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, পারিবারিক ধারা মেনে তিনিও রাজনীতিতে পা রাখবেন। কিন্তু বেশ কিছু মার্কিন ও তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যমে আবার উল্টো সুরও শোনা যায়। সেখানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জি চীনের জীবন

থেকে বেশি পছন্দ করেন মার্কিন শহর ম্যাসাচুসেটসে কাটানো দিনগুলো। মেয়ের ইচ্ছের কাছে হার মেনে শি নাকি তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে পড়াশোনা করার অনুমতি দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নিজে কোনোদিন চীনের বাইরে গিয়ে থাকেননি। তার পড়াশোনার পর্বও কেটেছে জন্মভূমিতেই। অথচ তার দুই পূর্বসূরি নেতা জিয়াং জেমিন এবং ডেং জিয়াওপিং দু’জনেই সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ায় গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। শোনা যায়, দেশের বাইরে না থাকার কারণে নাকি প্রথম স্ত্রী কে লিংলিংয়ের সঙ্গে শি’র বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। কারণ, লিংলিং চীন ছেড়ে ব্রিটেনে গিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। লিংলিংয়ের সঙ্গে তিন বছরের দাম্পত্য শেষ হয় ১৯৮২ সালে। তার পাঁচ বছর পর পেং লিউয়ানকে বিয়ে করেন জিনপিং। তবে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাবান এ রাষ্ট্রনেতা তার মেয়ের ব্যক্তিগত জীবনকে পর্দার আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। ফলে তার মেয়ে এখন কোথায় আছেন এবং কী করছেন, তা বিশ্বের কাছে অজানা।

ছদ্মনামে মেয়েকে হার্ভার্ডে পড়ান শি

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিধর নেতার একমাত্র সন্তান। মার্কিন ফার্স্ট ডটার মেলানিয়া ট্রাম্প, সাশা বা মালিহা ওবামা নন। বিশ্বের খুব কম লোকই জিয়াও মুজি নামটি চেনেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একমাত্র মেয়ে। জিয়াও মুজি অবশ্য তার দাদার দেয়া ছদ্মনাম। কূটনৈতিক নিরাপত্তার কারণে ছদ্মনামে বেড়ে উঠেছেন তিনি। জিনপিংয়ের মেয়ের আসল নাম জি মিংজে। তাকে প্রচারের আলোয় আসতে দেননি চীনা প্রেসিডেন্ট। শি জিনপিং এবং তার স্ত্রী লোকসঙ্গীতশিল্পী পেং লিউয়ানের মেয়ে জি মিংজের জন্ম ১৯৯২ সালের ২৭ জুন। বর্তমানে তার বয়স ২৭। জিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্তরের পড়াশোনা শেষে ২০১০ সালে ভর্তি হন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। চূড়ান্ত গোপনীয়তার মধ্যে ছদ্মনামে মনস্তত্ত্ব এবং ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন জি। তখনও তার বাবা জিনপিং চীনের প্রেসিডেন্ট হননি।

তখন তার দাদা জি ঝোংজুন ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা।

মাও সে তুংয়ের শাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন জি ঝোংজুন। ফলে প্রথম থেকেই হার্ভার্ডে চরম গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয়েছে জিকে। সব সময়ই তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করত বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী। অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি বন্ধুত্ব করতে পারেননি। অবসর সময়ে জি ভালোবাসেন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বই পড়তে। ফ্যাশনেও আগ্রহ আছে তার।

৯০-এর দশকে জির শৈশবের কিছু ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর তিনি চলে যান গোপনীয়তার অন্তরালে। সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া, কোথাও ছিলেন না তিনি। ২০১৫ সালে তাকে প্রথম প্রকাশ্যে নিজের পরিচয়ে দেখা যায়। তখন তার বাবা চীনের প্রেসিডেন্ট। বাবা ও মায়ের সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে বসন্তোৎসব এবং নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।

চীনের ইয়ানান প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামেও গিয়েছিলেন জি। সমাজসেবার কাজে ওই গ্রামেই জিনপিং ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। এরই মধ্যে জি-কে তার বাবার উত্তরসূরি বলা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, পারিবারিক ধারা মেনে তিনিও রাজনীতিতে পা রাখবেন। কিন্তু বেশ কিছু মার্কিন ও তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যমে আবার উল্টো সুরও শোনা যায়। সেখানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জি চীনের জীবন

থেকে বেশি পছন্দ করেন মার্কিন শহর ম্যাসাচুসেটসে কাটানো দিনগুলো। মেয়ের ইচ্ছের কাছে হার মেনে শি নাকি তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে পড়াশোনা করার অনুমতি দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নিজে কোনোদিন চীনের বাইরে গিয়ে থাকেননি। তার পড়াশোনার পর্বও কেটেছে জন্মভূমিতেই। অথচ তার দুই পূর্বসূরি নেতা জিয়াং জেমিন এবং ডেং জিয়াওপিং দু’জনেই সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ায় গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। শোনা যায়, দেশের বাইরে না থাকার কারণে নাকি প্রথম স্ত্রী কে লিংলিংয়ের সঙ্গে শি’র বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। কারণ, লিংলিং চীন ছেড়ে ব্রিটেনে গিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। লিংলিংয়ের সঙ্গে তিন বছরের দাম্পত্য শেষ হয় ১৯৮২ সালে। তার পাঁচ বছর পর পেং লিউয়ানকে বিয়ে করেন জিনপিং। তবে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাবান এ রাষ্ট্রনেতা তার মেয়ের ব্যক্তিগত জীবনকে পর্দার আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। ফলে তার মেয়ে এখন কোথায় আছেন এবং কী করছেন, তা বিশ্বের কাছে অজানা।