ভারতের পক্ষে কি কখনও চীনা পণ্য বয়কট সম্ভব?

আমদানি করতে না পারলে পঙ্গু হয়ে যাবে দিল্লি

  যুগান্তর ডেস্ক ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গালওয়ান উপত্যকায় সম্প্রতি ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ভারতের কিছু কট্টর চীনবিরোধী গ্রুপ ও ব্যক্তি চীনা পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। লাদাখ সীমান্তে ২০ ভারতীয় জওয়ান হত্যার প্রতিবাদে চীনা পণ্য ভাংচুর করেছেন ভারতের নাগরিকরা। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহমেদাবাদের লোকেরা তাদের বারান্দা থেকে চাইনিজ টিভি ছুড়ে ফেলেছেন। রাজধানী দিল্লির ব্যবসায়ীরা চাইনিজ পণ্য পুড়িয়ে প্রতিবাদ করেছেন। কেন্দ্রীয় এক মন্ত্রী রেস্তোরাঁয় ‘চীনা খাবার’ বিক্রি বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা ওপ্পোর একটি বিলবোর্ডকে কালো রঙে ঢেকে দেন এক বিরোধী নেতা। এছাড়া চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মনে করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের একটি ছবিতে আগুন দেয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু ভারতের পক্ষে কি চীনা পণ্য বয়কট আদৌ সম্ভব এ নিয়ে উঠেছে হাজারও প্রশ্ন।

বিবিসি জানায়, ভারত সরকার সুস্পষ্টভাবে বয়কটের ঘোষণা দেয়নি। তবে সব রাজ্য এবং সরকারি খাতের সংস্থাগুলোকে চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ২০১৬ সালে একটি চীনা সংস্থাকে দেয়া সিগন্যালিং প্রকল্পটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। রিপোর্ট অনুসারে, সরকার ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে পণ্য বিক্রিতে উৎপাদনকারী দেশের নাম প্রদর্শন করতে বলেছে। ২০১৮ অর্থবছরের পর থেকে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

চীনের বিকল্প কিছু আছে? : যুক্তরাষ্ট্রের পরে চীন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। চীন থেকে রাসায়নিক, মোটরগাড়ির পার্টস, ইলেকট্রনিক্স এবং ফার্মাসিউটিক্যালস প্রায় ১২ শতাংশ আমদানি করে ভারত। ইন্ডিয়ান ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যালায়েন্সের সভাপতি সুদর্শন জৈন বিবিসিকে বলেন, ‘ভারতের ওষুধের অন্তত ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে চীন।’ যদিও ওষুধে স্বাবলম্বী হতে ভারত একটি নতুন নীতি ঘোষণা করেছে, যা বাস্তবায়নে আরও কয়েক বছর লাগবে। ভারতের বাজার সস্তায় স্মার্টফোন নির্মাতা ওপ্পো, জাওমি এবং অন্যান্যের ওপর নির্ভরশীল। বেশিরভাগ ইলেকট্রনিক্স প্রস্তুতকারীরা বলেছেন, চীন থেকে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি করতে না পারলে তারা পঙ্গু হয়ে যাবেন। এয়ারকন্ডিশন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্লুস্টার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বি থায়াগ্রাজান বলেন, ‘আমরা সমাপ্ত মালামাল নিয়ে চিন্তিত নই। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ চীন থেকে কম্প্রেসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো আমদানি করে।’

ভারতীয় ইউনিকর্নে অর্থ জোগায় চীন : চীনা অর্থ ভারতের প্রযুক্তি খাতে প্রবেশ করেছে আলিবাবা এবং টেনসেন্টের মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যেমে। তারা কৌশলগতভাবে জোমাটো, পেটিএম, বিগ বাস্কেট এবং ওলার মতো ভারতীয় স্টার্টআপগুলোতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। মুম্বাই-ভিত্তিক থিংকট্যাংক গেটওয়ে হাউসের বিশ্লেষক অমিত ভাণ্ডারী বলেন, ভারতীয় ৯০টিরও বেশি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছে চীন। যেগুলোর বেশিরভাগই গত ৫ বছরে হয়েছে। ৩০টি ভারতীয় ইউনিকর্নের মধ্যে ১৮টিতে চীনা বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এমজিএমের ম্যানেজিং পার্টনার জুলফিকার মেনন বলেন, ‘ভারত ইতোমধ্যে ভারতীয় সংস্থাগুলির বৈরী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধে এফডিআই (বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ) বিধি সংশোধন করেছে। যদিও ভারত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে চীন।’

স্বনির্ভরতাই কী সমাধান? : রেটিং এজেন্সি অ্যাকুইটের নতুন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীন থেকে মোট আমদানির মাত্র ২৫ শতাংশ জায়গা দখলে নিতে পারে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাত। এতে এক বছরে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি আমদানি হ্রাস পাবে। উদাহরণস্বরূপ, হস্তশিল্প এমন একটি বিভাগ যেখানে ২০২০ অর্থবছরে ভারত কোনো উল্লেখযোগ্য পারস্পরিক রফতানি ছাড়াই চীন থেকে ৪৩১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, চীনা পণ্য বয়কট কার্যত ভারতকেই বেশি ভোগাবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত