মহারাষ্ট্রে কলেজ মাঠে পাখির হোটেল

  যুগান্তর ডেস্ক ০৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারী করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বকে ওলোটপালট করে দিয়েছে। মানবজাতি থেকে শুরু করে নিরীহ প্রাণিকুলও এ ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার। লকডাউনের ফলে বন্ধ হয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ। যেখান থেকে ফেলে দেয়া খাবার খেয়ে বেঁচে থাকত পশু-পাখিরা। এখন তা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে তারা। না খেয়ে মারা যাচ্ছে বহু পাখি। ক্ষুধার্ত এসব পাখির পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতীয় এক প্রাণিবিজ্ঞানী। মহারাষ্ট্রের থানে জেলার উলহাসনগরের শ্রীমতী চান্দিবাই হিমাথমাল মানসুখানী (সিএইচএম) কলেজ ক্যাম্পাসে খুলে বসেছেন ‘পাখির হোটেল’।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, করোনা মহামারীর কারণে লকডাউন জারির তিন সপ্তাহ পরে সিএইচএম কলেজ ক্যাম্পাসের আশপাশে দু’দিনে (১১ ও ১২ এপ্রিল) প্রায় ৩০টি পাখি মারা যায়। যাদের অধিকাংশই ছিল কাক। পাখিগুলোর আকস্মিক মৃত্যুতে কলেজের কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু পাঠক বলেন, লকডাউনের আগে কলেজের ক্যান্টিনের বাম পাশে পাখিরা খাবার খেত। উলহাসনগর রেলস্টেশনের বিপরীতে অবস্থিত কলেজের চারদিক দিয়ে চলাচলকারী রাস্তায় যাত্রীরা প্রতিদিন শস্য ফেলতেন। পাঠক বলেন, ‘লকডাউন জারির পর এটি বন্ধ হয়ে গেছে। ১১ এপ্রিল দুটি পাখি মারা গিয়েছিল এবং একদিন পরে ক্যাম্পাসজুড়ে আরও ২৪টি কাক ও কবুতরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ভারতীয় প্রাণিবিজ্ঞানী ও সাবেক স্কুলশিক্ষিকা সরিতা খানচন্দানি ১১ এপ্রিল এ ঘটনাটি জানতে পেরেছিলেন। তিনি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কলেজের ভেতরে পাখি খাওয়ানোর জন্য অনুমতি চান। পাঠক জানান, এরপরের সপ্তাহগুলোতে মাত্র একটি পাখি মারা গেছে। তবে খানচন্দানি এতেও বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন।

খানচন্দানি স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে মেলামাইন বা প্লাস্টিকের প্লেট এবং মুদি দোকানির কাছ থেকে প্লাস্টিকের পাত্র ও বোতল সংগ্রহ করেন। এছাড়া সংগ্রহ করেন কিছু তার। গত দুই মাসে খানচন্দানি ৫৪১টি বার্ড ফিডার তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি সহজ আইডিয়া। আপনি প্লেটের মাঝখানে একটি ড্রিল করে নাটবল্টু দিয়ে উপরে প্লাস্টিকের পাত্রে সংযুক্ত করুন। পাত্র বা বোতলটির দু’পাশে আরও কয়েকটি ছিদ্র করে গাছ বা উঁচু কোনো স্থানে তার দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে দিন। এর আগে ফিডারগুলোতে ভুট্টা বা ধানের শীষে ভরে দিন।’

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত