হংকংয়ে গোয়েন্দা দফতর খুলল চীন

  যুগান্তর ডেস্ক ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাসের পর হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তাবিষয়ক অফিস খুলেছে চীন। এ দফতর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি হংকং ইস্যু দেখভাল করবে। অস্থায়ী ভিত্তিতে কজওয়ে বে’তে একটি হোটেলে খোলা হয়েছে নয়া এ অফিস। ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশের বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায়ই গণতন্ত্রপন্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বুধবার সকালে অফিসটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম, ঝেং ইয়ানসিয়ং। এ দফতরের দায়িত্ব পালন করবেন ঝেং ইয়ানসিয়ং। অফিসটি উদ্বোধনের পরপরই বাইরে উড়িয়ে দেয়া হয় চীনা পতাকা। মোতায়েন করা হয় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটসহ ভারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হংকং সরকারের প্রতিনিধি ও পুলিশ কর্তাদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা সংস্থার নামফলক লাগানো হয়েছে সেখানে।

চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, ‘সেন্ট্রাল পিপলস গভর্নমেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হংকংয়ের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে অফিস খোলা হয়েছে।’ এএফপি জানায়, নয়া এ দফতর চালুর ফলে মূল চীনা ভূখণ্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বা এজেন্টরা প্রথমবারের মতো হংকংয়ের কেন্দ্রস্থলে কাজ করবে। হংকংকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে চীন তার প্রথম উদ্যোগ এটা। অফিসের পাশের সাবেক মেট্রো পার্ক সংলগ্ন এলাকা পানির ট্যাংক দিয়ে বন্ধ করে রাখে পুলিশ। হংকংয়ের বেইজিংপন্থী নেতা ক্যারি ল্যাম এ অফিস উদ্বোধনটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূতর্’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, চীনের গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হবে। গত সপ্তাহে বেইজিং নতুন নিরাপত্তা দফতরের প্রধান হিসেবে ঝেং ইয়ানসিয়ংকে নিয়োগ দিয়েছিল। দলের কট্টরপন্থী নেতা ঝেং গুয়াংডং প্রদেশের সীমান্তে বিক্ষোভ দমনের জন্য বেশি পরিচিত। তার ডেপুটির একজন হলেন প্রবীণ জননিরাপত্তা কর্মকর্তা লি জিয়াংঝু। তিনি হংকংয়ের বেইজিং প্রতিনিধিত্বকারী লিয়াজুঁ অফিসে কাজ করেছেন। অন্যজন সান কিংয়ে খুব একটা পরিচিত ব্যক্তিত্ব নন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সানকে চীনের গোয়েন্দা সংস্থার সিনিয়র একজন কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

গত সপ্তাহে বেইজিং নতুন নিরাপত্তা আইন চালু করেছে। যে আইনে দেশদ্রোহ, সন্ত্রাসবাদ, বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে হংকংয়ের ক্ষতি করার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন, বিক্ষোভকারীদের দাবি, আসলে এ আইন করা হয়েছে প্রতিবাদ রুখতে। হংকং যেভাবে একের পর এক বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে, চীন তা বরদাশত করতে রাজি নয়। এজন্যই আইন চালু করে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ বন্ধের চেষ্টা করা হবে। নতুন আইন অনুসারে চীনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো হংকংয়ে কাজ করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যারা কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তি দেবে। চীনা কর্মকর্তাদের দাবি, এতে সেখানে সহিংস বিক্ষোভের পর স্থিতিশীলতা ফিরবে। এ আইনের পক্ষে চীনপন্থী হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, এ আইনের অধীনে হংকংয়ের মানুষের কোনো ভয়ভীতি ও হামলার আশঙ্কা ছাড়াই অধিকার ও স্বাধীনতার অধিকার থাকবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত