চীনে বাঁধের ওপর নির্ঘুম রাত কাটছে লাখ লাখ মানুষের

  যুগান্তর ডেস্ক ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

একটানা ভারিবৃষ্টির কারণে চীনে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। কার্যত বন্যার পানিতে ভাসছে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হুবেই, জিয়াংজি এবং ঝেঝিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিতে গেছে। উঁচু বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

কিন্তু পানির চাপে বাঁধগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। কখন ভেঙে পড়ে- সেই আশঙ্কায় পালা করে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে অধিবাসীরা। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।

খবরে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে চীন। চলতি বছরের জুন মাস থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

কিন্তু বর্ষার শুরুতেই নতুন মাত্রায় ভারিবৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। লাগাতার এই বর্ষণে একাধিক নদীর পানি উপচে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এবারের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ অধিবাসী। এখন পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১৪০ জন নিহত হয়েছে।

চীনের পূর্বাঞ্চলে জিয়াংজি প্রদেশে নদী তীরবর্তী বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ অধিবাসী। কিন্তু নদীর পানির চাপে বাঁধগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জিয়াংজি প্রদেশের শাংগ্রাওয়ের পোয়াং অঞ্চলে সি নদীর তীরবর্তী বাঁধে পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন উ শেংসন। শনিবার রাতেও তার নির্ঘুম গেছে। অঝোর বৃষ্টির মধ্যেই বাঁধ ভেঙে পড়ার ভয়ে আরও কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে সারা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন তিনি।

আগের রাতগুলোর মতো এ দিন রাতেও উ শেংসনের পাহারার পালা শুরু হওয়ার পরপরই ঝড়বৃষ্টি হয়। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। অদূরে মুহুর্মুহু বজ পাত হয়।

উ তখনও দুরুদুরু বুকে বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে এক সাক্ষাৎকারে রাত জেগে বাঁধ পাহারা দেয়ার সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে উ বলেন, ‘মনে মনে একটু ভয়ও পাই। কয়েকদিন ধরেই একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে।’

উ শেংসন মূলত চীনের সর্ববৃহৎ সাধুপানির হৃদ পোয়াং লেকের কাছেই ওযানলি গ্রামে একজন সরকারি কর্মকর্তা কাজ করেন।

কিন্তু একটানা বৃষ্টির কারণে গত রোববারই ইয়াংসিকিয়াং নদীর পানি উপচিয়ে লেকের পানি ২২.৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে শানগ্রাও অঞ্চলের বহু ছোট-বড় শহর ও গ্রাম তলিয়ে গেছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত