পথশিশুরা দিশেহারা
jugantor
পথশিশুরা দিশেহারা
ফুল বিক্রি নেই, গাড়ি ধোয়াও নেই : ধুঁকছে মিসরের গৃহহীনরাও

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিসরে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে কঠিন বিপদে পড়েছে দেশটির হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ ও ছিন্নমূল শিশু।


করোনা লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি মানুষ। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া না থাকায় এখন আর আগের মতো কাজ নেই।


বন্ধ হয়ে গেছে ফুল বিক্রি আর গাড়ি ধোয়ার মতো কাজও। ফলে ঠিকমতো দু’বেলা দু’মুঠো খেতেও পাচ্ছে না পথের আয়ে চলা এসব ছিন্নমূল শিশুরা। বেঁচে থাকতে রীতিমতো সংগ্রাম করছে রাস্তার মানুষগুলা। এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দারিদ্র্য এখনও মিসরের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা। ১০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই দরিদ্র। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষই গৃহহীনতার সমস্যায় ভুগছে। রাস্তাতেই বাস করে হাজার হাজার মানুষ। স্বাভাবিক সময়ে কোনো প্রকারে চালিয়ে নিলেও করোনার মধ্যে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে তারা।

করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে মিসরের রাজধানী কায়রোর জনাকীর্ণ রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করতেন জয়নব। এই ফুল বিক্রি করেই চলত তার সংসার।


কিন্তু করোনা মহামারী জয়নবকে আরও ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে কোনো কাজ নেই। তাই খেয়ে না খেয়েই দিন কাটছে তাদের। এক সন্তানের মা জয়নব গৃহহীন। জয়নব একা নয, তার মতো এমন হাজার হাজার নারী কায়রো শহরে বাস করে।

কায়রোর নিকটবর্তী একটি দরিদ্র জনপদ আব্বাসিয়ার একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে থাকেন জয়নব। এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মানুষ কম থাকায় আমাদের কাজ কমে গেছে। আয়-রোজগারও আগের চেয়ে অনেক কম।’ এ সময় তরুণী এই মায়ের পাশেই খেলা করছিল তার এক বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ।

মিসরের সরকারের হিসাব মতে, ২০১৪ সালেই দেশটিতে পথশিশুর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার। তবে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, মিসরে পথশিশুদের সংখ্যা সবসময় কম করে দেখানো হয়।


সংস্থাটির এক হিসেবে, শুধু আলেক্সান্দি য়া ও কায়রো শহরেই থাকে প্রায় ১০ লাখ শিশু-কিশোর। সাধারণত ফুল বিক্রি, গাড়ি ধোয়া ও ভিক্ষাবৃত্তির মতো কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে এরা।


কিন্তু এখন পুরোই বেকার সময় কাটছে তাদের। কায়রোয় পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ফ্রান্সের সামুসোসাল ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইউসেফ বাস্তাওরাস বলেন, ‘এরা একেবারেই অবাঞ্ছিত হয়ে পড়েছে।


করোনার কারণে শহরের মানুষ এখন তাদের এড়িয়ে চলে। এর ফলে তাদের অল্প আয়ও এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’ করোনার কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে পথশিশুরা।

পথশিশুরা দিশেহারা

ফুল বিক্রি নেই, গাড়ি ধোয়াও নেই : ধুঁকছে মিসরের গৃহহীনরাও
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিসরে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে কঠিন বিপদে পড়েছে দেশটির হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ ও ছিন্নমূল শিশু।


করোনা লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি মানুষ। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া না থাকায় এখন আর আগের মতো কাজ নেই।


বন্ধ হয়ে গেছে ফুল বিক্রি আর গাড়ি ধোয়ার মতো কাজও। ফলে ঠিকমতো দু’বেলা দু’মুঠো খেতেও পাচ্ছে না পথের আয়ে চলা এসব ছিন্নমূল শিশুরা। বেঁচে থাকতে রীতিমতো সংগ্রাম করছে রাস্তার মানুষগুলা। এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দারিদ্র্য এখনও মিসরের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা। ১০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই দরিদ্র। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষই গৃহহীনতার সমস্যায় ভুগছে। রাস্তাতেই বাস করে হাজার হাজার মানুষ। স্বাভাবিক সময়ে কোনো প্রকারে চালিয়ে নিলেও করোনার মধ্যে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে তারা।

করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে মিসরের রাজধানী কায়রোর জনাকীর্ণ রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করতেন জয়নব। এই ফুল বিক্রি করেই চলত তার সংসার।


কিন্তু করোনা মহামারী জয়নবকে আরও ভয়াবহ বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে কোনো কাজ নেই। তাই খেয়ে না খেয়েই দিন কাটছে তাদের। এক সন্তানের মা জয়নব গৃহহীন। জয়নব একা নয, তার মতো এমন হাজার হাজার নারী কায়রো শহরে বাস করে।

কায়রোর নিকটবর্তী একটি দরিদ্র জনপদ আব্বাসিয়ার একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে থাকেন জয়নব। এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মানুষ কম থাকায় আমাদের কাজ কমে গেছে। আয়-রোজগারও আগের চেয়ে অনেক কম।’ এ সময় তরুণী এই মায়ের পাশেই খেলা করছিল তার এক বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ।

মিসরের সরকারের হিসাব মতে, ২০১৪ সালেই দেশটিতে পথশিশুর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার। তবে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, মিসরে পথশিশুদের সংখ্যা সবসময় কম করে দেখানো হয়।


সংস্থাটির এক হিসেবে, শুধু আলেক্সান্দি য়া ও কায়রো শহরেই থাকে প্রায় ১০ লাখ শিশু-কিশোর। সাধারণত ফুল বিক্রি, গাড়ি ধোয়া ও ভিক্ষাবৃত্তির মতো কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে এরা।


কিন্তু এখন পুরোই বেকার সময় কাটছে তাদের। কায়রোয় পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ফ্রান্সের সামুসোসাল ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইউসেফ বাস্তাওরাস বলেন, ‘এরা একেবারেই অবাঞ্ছিত হয়ে পড়েছে।


করোনার কারণে শহরের মানুষ এখন তাদের এড়িয়ে চলে। এর ফলে তাদের অল্প আয়ও এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’ করোনার কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে পথশিশুরা।