ফোনেই প্রতিদিন ২০০ রোগী দেখেন শরণার্থী ডাক্তার
jugantor
ফোনেই প্রতিদিন ২০০ রোগী দেখেন শরণার্থী ডাক্তার

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনের দীর্ঘ শিফটের কাজ শেষ হয়ে যায়। রোগীর ভিড় কমতে কমতে ওয়েটিং রুম খালি হয়। এরপর ডাক্তারের রুমে রুমে জীবাণু ছিটিয়ে যখন ওই দিনের মতো হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়, তখনও শেষ হয় না ডাক্তার ফেজাহ হোসেইনির কাজ।

নিজের ডেস্কে ফিরে একটু পরই শুরু করেন দিনের দ্বিতীয় অংশের কাজ। ইরানে ক্রমবর্ধমান করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে সামনে থেকে অবিশ্রান্ত লড়াই করছেন তিনি।

মহামারীর শুরু থেকেই ইরানিদের সঙ্গে সঙ্গে করোনা আক্রান্ত আফগান শরণার্থীদের সেবা দিয়ে আসছেন। দিনের প্রথম অংশে মূলত চেম্বারেই রোগী দেখেন। শেষ হলেই শুরু করেন ফোনে ফোনে সেবা দেয়া। শরণার্থীদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করার জন্য এখন প্রশংসায় ভাসছেন।

৩৮ বছর বয়সী ফেজাহ নিজেও একজন আফগান শরণার্থী। করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ইসপাহান প্রদেশে করোনা চিকিৎসা প্রকল্পে নিয়োগ করা হয়।

ইসপাহানের খোমেনি শাহরের আল রাজি হেলথ সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে ওই অঞ্চলের করোনাপীড়িত মানুষদেরকে ফোনে ফোনেই চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। এই লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল টিমও গঠন করেছেন। প্রতিদিন অন্তত ২০০ পরিবারকে ফোন করে চিকিৎসা দেয় দলটি।

করোনাকালে নিজের এই মানবিক কমতৎপরতার ব্যাপারে ফেজাহ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগই ডাক্তারের মতো করোনা আমাকেও শক্তিহীন ও অসহায় করে তুলেছিল। কিন্তু এই ফোনে ফোনে পরামর্শ দেয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে মানবতার সেবায় এক অসাধারণ উপায় হিসেবে হাজির হয়েছে।

বাড়িতে আটকা পড়েছেন করোনার এমন রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার সুযোগ করে দিয়েছে।’ ফোনে পরামর্শ দেয়ার সময় ফেজার মেডিকেল দল মূলত রোগীদের লক্ষণগুলো শোনে।

করোনায় আক্রান্ত অথচ হাসপাতালে নেয়ার দরকার নেই তাদেরকেই পরামর্শ দেয়। প্রতিদিনের প্রথম শিফটের কাজের শেষেই সাধারণতে আরও কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে একবার করে ফোন করে। এভাবে প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার মানুষের সেবা দেয় ফেজাহ ও তার দল। ফেজাহর মেডিকেল দলের সেবায় খুশি এই এলাকার বাসিন্দারাও।

ফোনেই প্রতিদিন ২০০ রোগী দেখেন শরণার্থী ডাক্তার

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনের দীর্ঘ শিফটের কাজ শেষ হয়ে যায়। রোগীর ভিড় কমতে কমতে ওয়েটিং রুম খালি হয়। এরপর ডাক্তারের রুমে রুমে জীবাণু ছিটিয়ে যখন ওই দিনের মতো হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়, তখনও শেষ হয় না ডাক্তার ফেজাহ হোসেইনির কাজ।

নিজের ডেস্কে ফিরে একটু পরই শুরু করেন দিনের দ্বিতীয় অংশের কাজ। ইরানে ক্রমবর্ধমান করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে সামনে থেকে অবিশ্রান্ত লড়াই করছেন তিনি।

মহামারীর শুরু থেকেই ইরানিদের সঙ্গে সঙ্গে করোনা আক্রান্ত আফগান শরণার্থীদের সেবা দিয়ে আসছেন। দিনের প্রথম অংশে মূলত চেম্বারেই রোগী দেখেন। শেষ হলেই শুরু করেন ফোনে ফোনে সেবা দেয়া। শরণার্থীদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করার জন্য এখন প্রশংসায় ভাসছেন।

৩৮ বছর বয়সী ফেজাহ নিজেও একজন আফগান শরণার্থী। করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ইসপাহান প্রদেশে করোনা চিকিৎসা প্রকল্পে নিয়োগ করা হয়।

ইসপাহানের খোমেনি শাহরের আল রাজি হেলথ সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে ওই অঞ্চলের করোনাপীড়িত মানুষদেরকে ফোনে ফোনেই চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। এই লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল টিমও গঠন করেছেন। প্রতিদিন অন্তত ২০০ পরিবারকে ফোন করে চিকিৎসা দেয় দলটি।

করোনাকালে নিজের এই মানবিক কমতৎপরতার ব্যাপারে ফেজাহ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগই ডাক্তারের মতো করোনা আমাকেও শক্তিহীন ও অসহায় করে তুলেছিল। কিন্তু এই ফোনে ফোনে পরামর্শ দেয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে মানবতার সেবায় এক অসাধারণ উপায় হিসেবে হাজির হয়েছে।

বাড়িতে আটকা পড়েছেন করোনার এমন রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার সুযোগ করে দিয়েছে।’ ফোনে পরামর্শ দেয়ার সময় ফেজার মেডিকেল দল মূলত রোগীদের লক্ষণগুলো শোনে।

করোনায় আক্রান্ত অথচ হাসপাতালে নেয়ার দরকার নেই তাদেরকেই পরামর্শ দেয়। প্রতিদিনের প্রথম শিফটের কাজের শেষেই সাধারণতে আরও কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে একবার করে ফোন করে। এভাবে প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার মানুষের সেবা দেয় ফেজাহ ও তার দল। ফেজাহর মেডিকেল দলের সেবায় খুশি এই এলাকার বাসিন্দারাও।