সম্পাদক বরখাস্তের প্রতিবাদে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ
jugantor
৮০ সাংবাদিকের পদত্যাগ
সম্পাদক বরখাস্তের প্রতিবাদে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ
হাঙ্গেরিতে গণমাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাঙ্গেরির প্রধান স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইনডেক্সের সম্পাদক (এডিটর-ইন-চিফ) সাবোলস ডুলকে বরখাস্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। ক্ষোভ দেখিয়েছেন তার সহকর্মীরাও।

প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন তিন জ্যেষ্ঠ সম্পাদকসহ ৮০ সাংবাদিক। তারা বলছেন, সম্পাদককে বরখাস্তের ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর ‘সরকারের স্পষ্ট হস্তক্ষেপ’। মঙ্গলবার ডুলকে বরখাস্ত করা হয়। এর দু’দিন পর ফুঁসে ওঠে সাধারণ জনতা। শুক্রবার রাজধানী বুদাপেস্টের রাজপথে বিক্ষোভ দেখান প্রায় তিন হাজার মানুষ। হাঙ্গেরিয়ান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ১৯৯৮-২০০২ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় ক্ষমতায় ছিলেন।

এরপর ২০১০ সাল থেকে টানা ১০ বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর থেকে একে একে স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো সরকারের করায়ত্ত করার চেষ্টা করছেন ভিক্টর। এরই অংশ হিসেবে সর্বশেষ স্বাধীন অনলাইন গণমাধ্যম ইনডেক্সে হস্তক্ষেপ করে সরকার। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের স্বাধীন গণমাধ্যমে সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ৮৯তম অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি।

এক কোটিরও কম জনসংখ্যার দেশটিতে ইনডেক্সের দৈনিক পাঠক ২০ লাখের বেশি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা করছিল, সরকারি শক্তির হস্তক্ষেপের কারণে তাদের স্বাধীনতা বিপদের মুখে। ওয়েবসাইটটির সম্পাদক গত ২২ জুন ইনডেক্সের হোমপেজে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল: ইনডেক্সের সম্পাদকীয় স্টাফরা হুমকির মুখে রয়েছেন। গত কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টরের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মিকলোস ভাসজিলি ইনডেক্সের ৫০ শতাংশ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। শুক্রবার ইনডেক্সের নিউজরুমে একটি ছবির মাধ্যমে এই গুমোর ফাঁস হয়। ওই ছবিতে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টরের প্রধান উপদেষ্টা মারিয়া স্কমিতের সঙ্গে ভাসজিলিকে মধ্যাহ্নভোজ করতে দেখা গেছে। বর্তমানে ভাসজিলি সরকারপন্থী টিভি২ চ্যানেলের মালিক। এ ছাড়া তিনি ওরিগো নামে আরেকটি ওয়েবসাইট খুলেছেন।

ইনডেক্সের বোর্ড প্রেসিডেন্ট লাসলো বোদোলার সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে সম্পাদক ডুলকে দায়িত্বে ফেরানোর অনুরোধ করেন তার সহকর্মীরা। তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। এরপরই তিন জ্যেষ্ঠ সম্পাদকসহ ৮০ সাংবাদিক পদত্যাগ করেন। এক খোলা চিঠিতে সাংবাদিকরা লিখেছেন, এ সিদ্ধান্তের মানে হল ইনডেক্সের স্বাধীনতা আর থাকছে না। তার চাকরিচ্যুতি আমাদের কর্মীদের কাজে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত। ইনডেক্সের ডেপুটি এডিটর-ইন-চিফ ভেরোনিকা মুঙ্ক ইউরো নিউজকে বলেন, ডুলের বরখাস্তের কারণেই আমি পদত্যাগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘সাবোলস ডুলের বরখাস্তে আমি বুঝতে পারছি যে, এখানে আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব না, যা পেশাদার সাংবাদিকতাবিরোধী। আমি মনে করি, যারা পদত্যাগ করেছে তারাও একই চিন্তা করছে।’ সাংবাদিকদের এ গণপদত্যাগের ঘটনাকে ‘হাঙ্গেরির সাংবাদিকতার জন্য বিরাট ধাক্কা’ বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইন্সটিটিউট। ইউরোপিয়ান কমিশনও সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।

৮০ সাংবাদিকের পদত্যাগ

সম্পাদক বরখাস্তের প্রতিবাদে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ

হাঙ্গেরিতে গণমাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপ
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাঙ্গেরির প্রধান স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইনডেক্সের সম্পাদক (এডিটর-ইন-চিফ) সাবোলস ডুলকে বরখাস্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। ক্ষোভ দেখিয়েছেন তার সহকর্মীরাও।

প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন তিন জ্যেষ্ঠ সম্পাদকসহ ৮০ সাংবাদিক। তারা বলছেন, সম্পাদককে বরখাস্তের ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর ‘সরকারের স্পষ্ট হস্তক্ষেপ’। মঙ্গলবার ডুলকে বরখাস্ত করা হয়। এর দু’দিন পর ফুঁসে ওঠে সাধারণ জনতা। শুক্রবার রাজধানী বুদাপেস্টের রাজপথে বিক্ষোভ দেখান প্রায় তিন হাজার মানুষ। হাঙ্গেরিয়ান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ১৯৯৮-২০০২ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় ক্ষমতায় ছিলেন।

এরপর ২০১০ সাল থেকে টানা ১০ বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর থেকে একে একে স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো সরকারের করায়ত্ত করার চেষ্টা করছেন ভিক্টর। এরই অংশ হিসেবে সর্বশেষ স্বাধীন অনলাইন গণমাধ্যম ইনডেক্সে হস্তক্ষেপ করে সরকার। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের স্বাধীন গণমাধ্যমে সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ৮৯তম অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি।

এক কোটিরও কম জনসংখ্যার দেশটিতে ইনডেক্সের দৈনিক পাঠক ২০ লাখের বেশি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা করছিল, সরকারি শক্তির হস্তক্ষেপের কারণে তাদের স্বাধীনতা বিপদের মুখে। ওয়েবসাইটটির সম্পাদক গত ২২ জুন ইনডেক্সের হোমপেজে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল: ইনডেক্সের সম্পাদকীয় স্টাফরা হুমকির মুখে রয়েছেন। গত কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টরের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মিকলোস ভাসজিলি ইনডেক্সের ৫০ শতাংশ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। শুক্রবার ইনডেক্সের নিউজরুমে একটি ছবির মাধ্যমে এই গুমোর ফাঁস হয়। ওই ছবিতে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টরের প্রধান উপদেষ্টা মারিয়া স্কমিতের সঙ্গে ভাসজিলিকে মধ্যাহ্নভোজ করতে দেখা গেছে। বর্তমানে ভাসজিলি সরকারপন্থী টিভি২ চ্যানেলের মালিক। এ ছাড়া তিনি ওরিগো নামে আরেকটি ওয়েবসাইট খুলেছেন।

ইনডেক্সের বোর্ড প্রেসিডেন্ট লাসলো বোদোলার সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে সম্পাদক ডুলকে দায়িত্বে ফেরানোর অনুরোধ করেন তার সহকর্মীরা। তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। এরপরই তিন জ্যেষ্ঠ সম্পাদকসহ ৮০ সাংবাদিক পদত্যাগ করেন। এক খোলা চিঠিতে সাংবাদিকরা লিখেছেন, এ সিদ্ধান্তের মানে হল ইনডেক্সের স্বাধীনতা আর থাকছে না। তার চাকরিচ্যুতি আমাদের কর্মীদের কাজে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত। ইনডেক্সের ডেপুটি এডিটর-ইন-চিফ ভেরোনিকা মুঙ্ক ইউরো নিউজকে বলেন, ডুলের বরখাস্তের কারণেই আমি পদত্যাগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘সাবোলস ডুলের বরখাস্তে আমি বুঝতে পারছি যে, এখানে আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারব না, যা পেশাদার সাংবাদিকতাবিরোধী। আমি মনে করি, যারা পদত্যাগ করেছে তারাও একই চিন্তা করছে।’ সাংবাদিকদের এ গণপদত্যাগের ঘটনাকে ‘হাঙ্গেরির সাংবাদিকতার জন্য বিরাট ধাক্কা’ বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইন্সটিটিউট। ইউরোপিয়ান কমিশনও সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।