সীমিত হজ এবারই প্রথম নয়

১৪০০ বছরে ৪০ বারের বেশি বন্ধ ছিল

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারী পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ। গত বছরও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজ পালনের সুযোগ পেয়েছিল। এ বছর অনুমতি পেয়েছেন মাত্র ১০ হাজার জন। কিন্তু সীমিত আকারে হজ এবারই প্রথম নয়। ইসলামের গত ১৪০০ বছরের ইতিহাসে হজ স্থগিত কিংবা স্বল্প পরিসরে আয়োজনের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৪০ বার। হারামইন কর্তৃপক্ষের গবেষণা ও বাদশাহ আবদুল আজিজ ফাউন্ডেশনের মতে, ৪০ বার হজ বাতিল করা হয়েছিল কিংবা হজযাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল। হজ বন্ধ থাকা বা স্থগিত হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে ছিল, মহামারী/রোগ, রাজনৈতিক অশান্তি, অর্থনৈতিক অশান্তি, নিরাপত্তা সংকট বা অস্থিরতা, সংঘা-দ্বন্দ্ব ও ডাকাত কিংবা হানাদারদের আক্রমণ কার্যক্রম।

হজ বন্ধ থাকা বা সীমিত আকারে পালিত হওয়ার কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হল-

আরাফাত পাহাড়ে গণহত্যা, ৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ : ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে এ বছর হজ বাতিল হয়। আব্বাসীয় খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অংশ হিসেবে ইসমাইল বিন ইউসুফ আল-আলাউই সাফাক নামে পরিচিত গোষ্ঠী সে বছর পবিত্র নগরী মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়। হজে অংশগ্রহণকারী অসংখ্য হাজীকে তারা হত্যা করে। ফলে সে বছর হজ স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

কারমাতিয়ান হামলা, ৯৩০ খ্রিস্টাব্দ : বাহরাইনভিত্তিক হেটেরোডক্স সেক্ট কারমাতিয়ানদের প্রধান আবু তাহের আল-জানাবি ৯৩০ সালে মক্কায় হামলা চালান। ইতিহাস মতে, কারমাতিয়ানরা পবিত্র নগরীতে ৩০ হাজার হাজীকে হত্যা করে তাদের লাশ পবিত্র জমজম কূপে ফেলে দেয়। এ সময় তারা গ্র্যান্ড মসজিদে লুটতরাজ করে এবং কাবা থেকে কালো পাথর চুরি করে বাহরাইনে নিয়ে যায়। এরপর মক্কায় কালো পাথর ফিরিয়ে আনার আগ পর্যন্ত এক দশকের জন্য হজ স্থগিত ছিল।

খেলাফাত নিয়ে আব্বাসীয় ও ফাতেমীয় দ্বন্দ্ব, ৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ : রাজনীতির কারণেও হজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ৯৮৩ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আব্বাসীয় খেলাফাত ও মিসরে ফাতেমীয় খেলাফাতের দুই শাসকের মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে হজ বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী আট বছর হজ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে ৯৯১ সাল থেকে আবার হজ শুরু হয়।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দ : চরম অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হয়নি। সে সময় বড় বড় রাজ্যগুলোতে মুসলমানরা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিয়োজিত ছিল। ফলে নিরাপত্তা ও অশান্তির কারণে কেউ হজে অংশগ্রহণের সাহস করেনি। ফলে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

১২৫৬ খ্রিস্টাব্দ : এ বছর থেকে মোট ৪ বছর অনুষ্ঠিত হয়নি। শুধু হিজাজের লোকজন হজে অংশগ্রহণ করেছে। সে সময় চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কেউ হজে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

হালাকু খানের আক্রমণ, ১২৫৮ : কাবায় তাওয়াফ বন্ধ হয়েছিল ১২৫৮ সালে। সেবার বাগদাদ অবরোধ করে হালাকু খান। অবরোধ বেশ লম্বা ছিল। ভয়ে মানুষ বের হয়নি। সেবার ওমরা ও হজ বন্ধ করা হয়। হালাকু খান শুধু বাগদাদে দুই মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছিল।

প্লেগ, ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ : শুধু সংঘাত ও গণহত্যার কারণেই হজ বাতিল হয়নি। ১৮৩১ সালে ভারত থেকে প্লেগ মক্কায় আঘাত হানে এবং তিন-চতুর্থাংশ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়, কয়েক সপ্তাহ বিপজ্জনক ও বন্ধ্যাভূমি পাড়ি দিয়ে তারা হজ পালন করতে এসেছিলেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত