একদিনে দুই বিজয় মোদির
jugantor
একদিনে দুই বিজয় মোদির
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বর্ষপূর্তির দিন অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বর্ষপূর্তির দিনেই (৫ আগস্ট) উত্তরপ্রদেশের অযোদ্ধায় রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন- ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় দুটি বিজয়। ভক্ত-সমর্থক ও সমমনাদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার সেই জয়ই উদযাপন করলেন মোদি। অযোদ্ধার রামমন্দির আর কাশ্মীর সংকট গত ৩০ বছর ধরে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত দুটি ইস্যু। ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছরের মধ্যেই ইস্যু দুটির যবনিকা টেনে দিলেন মোদি। ভক্ত ও সমর্থকদের জন্য তার এ পদক্ষেপ তাকে একজন একনিষ্ঠ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতায় পরিণত করেছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার বর্ষপূর্তির দিন রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর করে মোদি ‘সোনালি ইতিহাস’ তৈরি করলেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে ৪০ কেজি ওজনের একটি রুপার ইটের মাধ্যমে মন্দির নির্মাণের উদ্বোধন করেন মোদি। এই স্থানেই ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল বাবরি মসজিদ, যা প্রায় ৫০০ বছর পুরনো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভিত্তিপ্রস্তরের সময় মন্দিরের প্রধান সেবায়েত, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল উপস্থিত ছিলেন। তবে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ে রামমন্দির আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিয়েছিলেন, সেই লালকৃষ্ণ আদভানি বা মুরলী মনোহর যোশী অথবা উমা ভারতীরা এদিন অযোধ্যায় যাননি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শেষে এক ভাষণ দেন মোদি। ভাষণের শুরু করেন রামায়ণের একটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে। তিনি বলেন, ‘ভগবান রামের কাজ না করলে আমার শান্তি কিসে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বহু দিনের প্রতীক্ষা শেষ। এত দিন তাঁবুতে মাথা গুঁজে ছিলেন রামলালা (হিন্দুদের কাছে ভগবান রামের ছোট বয়সের রূপকে রামলালা বলা হয়)। এবার তার জন্য সুবিশাল মন্দির নির্মিত হবে। বহু শতক ধরে যে ভাঙা-গড়ার খেলা চলে আসছে, আজ রামজন্মভূমি তা থেকে মুক্ত হল। সরযূ নদীর তীরে সূচনা হল স্বর্ণযুগের।’

২৯ বছর পর এদিন অযোধ্যায় পা রাখেন মোদি। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের জন্য অযোধ্যায় যান তিনি। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশীর তিরঙ্গা যাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। যোশীর পাশে দাঁড়িয়ে মোদি তখন বলেছিলেন, ‘একদিন ফিরে আসব এবং রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করব।’ প্রধানমন্ত্রী তার কথা রাখলেন। রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরের দিনটিকে স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সারা দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিল। মন্দিরের জন্যও অনেকে বলিদান দিয়েছে। এত দিনে তাদের অপেক্ষা শেষ হল। ১৫ আগস্ট যেমন স্বাধীনতার প্রতীক। আজকের দিনটি তেমনই ত্যাগ, সংকল্প ও সংঘর্ষের প্রতীক।’ শুধু ভারতেই নয়, গোটা পৃথিবীতে আজ রামের জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আজ গোটা দেশ রামময়, রোমাঞ্চিত। পৃথিবীর সর্বত্র রামের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এ রামমন্দির আমাদের সংস্কৃতির আধুনিক প্রতীক। আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাবনার প্রতীক। সারা পৃথিবীর মানুষ এখানে আসবেন।

একদিনে দুই বিজয় মোদির

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বর্ষপূর্তির দিন অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বর্ষপূর্তির দিনেই (৫ আগস্ট) উত্তরপ্রদেশের অযোদ্ধায় রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন- ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় দুটি বিজয়। ভক্ত-সমর্থক ও সমমনাদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার সেই জয়ই উদযাপন করলেন মোদি। অযোদ্ধার রামমন্দির আর কাশ্মীর সংকট গত ৩০ বছর ধরে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত দুটি ইস্যু। ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছরের মধ্যেই ইস্যু দুটির যবনিকা টেনে দিলেন মোদি। ভক্ত ও সমর্থকদের জন্য তার এ পদক্ষেপ তাকে একজন একনিষ্ঠ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতায় পরিণত করেছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার বর্ষপূর্তির দিন রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর করে মোদি ‘সোনালি ইতিহাস’ তৈরি করলেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে ৪০ কেজি ওজনের একটি রুপার ইটের মাধ্যমে মন্দির নির্মাণের উদ্বোধন করেন মোদি। এই স্থানেই ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল বাবরি মসজিদ, যা প্রায় ৫০০ বছর পুরনো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভিত্তিপ্রস্তরের সময় মন্দিরের প্রধান সেবায়েত, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল উপস্থিত ছিলেন। তবে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ে রামমন্দির আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিয়েছিলেন, সেই লালকৃষ্ণ আদভানি বা মুরলী মনোহর যোশী অথবা উমা ভারতীরা এদিন অযোধ্যায় যাননি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শেষে এক ভাষণ দেন মোদি। ভাষণের শুরু করেন রামায়ণের একটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে। তিনি বলেন, ‘ভগবান রামের কাজ না করলে আমার শান্তি কিসে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বহু দিনের প্রতীক্ষা শেষ। এত দিন তাঁবুতে মাথা গুঁজে ছিলেন রামলালা (হিন্দুদের কাছে ভগবান রামের ছোট বয়সের রূপকে রামলালা বলা হয়)। এবার তার জন্য সুবিশাল মন্দির নির্মিত হবে। বহু শতক ধরে যে ভাঙা-গড়ার খেলা চলে আসছে, আজ রামজন্মভূমি তা থেকে মুক্ত হল। সরযূ নদীর তীরে সূচনা হল স্বর্ণযুগের।’

২৯ বছর পর এদিন অযোধ্যায় পা রাখেন মোদি। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের জন্য অযোধ্যায় যান তিনি। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশীর তিরঙ্গা যাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। যোশীর পাশে দাঁড়িয়ে মোদি তখন বলেছিলেন, ‘একদিন ফিরে আসব এবং রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করব।’ প্রধানমন্ত্রী তার কথা রাখলেন। রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরের দিনটিকে স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সারা দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিল। মন্দিরের জন্যও অনেকে বলিদান দিয়েছে। এত দিনে তাদের অপেক্ষা শেষ হল। ১৫ আগস্ট যেমন স্বাধীনতার প্রতীক। আজকের দিনটি তেমনই ত্যাগ, সংকল্প ও সংঘর্ষের প্রতীক।’ শুধু ভারতেই নয়, গোটা পৃথিবীতে আজ রামের জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আজ গোটা দেশ রামময়, রোমাঞ্চিত। পৃথিবীর সর্বত্র রামের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এ রামমন্দির আমাদের সংস্কৃতির আধুনিক প্রতীক। আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাবনার প্রতীক। সারা পৃথিবীর মানুষ এখানে আসবেন।