মেইল-ইন ভোটিংয়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প
jugantor
মার্কিন নির্বাচন ২০২০
মেইল-ইন ভোটিংয়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মেইলে ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরোধিতা করছেন।
ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মেইলে ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরোধিতা করছেন।

চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মেইল-ইন ভোটিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মেইলে ভোটদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ট্রাম্পের আশঙ্কা- এ পদ্ধতির ভোটে লাভবান হবেন প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক দলের জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি রাজ্য ইতোমধ্যে তাদের ভোটারদের মেইলে ভোট দেয়ার অনুমতি দিয়েছে। রাজ্যগুলো হল- নেভাদা, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসেলভেনিয়া ও মিশিগান।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ার তীব্র লড়াইয়ে শামিল ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তিনি নেভাদা রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করবেন, যেন রাজ্যটি তার সব ভোটারকে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পোস্টাল সার্ভিস ব্যবহার করে ভোটের সুযোগ দিতে না পারে।

টুইট করে তিনি বলেছেন, নেভাদা মেইলের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিয়ে ওই রাজ্যে রিপাবলিকানদের জয় অসম্ভব করে তুলবে। ট্রাম্প টুইটারে আরও বলেন, ‘কোভিড ব্যবহার করে রাজ্য চুরি... দেখা হবে আদালতে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যই তাদের ভোটাভুটির প্রক্রিয়া নিজস্ব উপায়ে সম্পন্ন করছে। দীর্ঘদিন ধরেই মেইলের মাধ্যমে এবসেন্ট বাসিন্দাদের জন্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুমোদন রয়েছে। করোনা সংকটে দেশটির বর্তমান বাস্তবতায় মেইলে ভোটদানকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ প্রায় প্রতিদিনই ৪৫ হাজারেরও বেশি লোক নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু রিপাবলিকানরা মেইলের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ট্রাম্প নিজেও মেইলে ভোট দিয়েছেন। তবু তার আশঙ্কা এই ব্যবস্থা সার্বজনীন করা হলে ডেমোক্র্যাটরা বেশি ভোট পাবে। তবে অন্য রাজ্য বাদে ফ্লোরিডায় মেইল-ইন ভোটিংয়ের পক্ষে রয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ফ্লোরিডায় মেইলে ভোটে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে ভোট ব্যবস্থা খুবই নিরাপদ।

এ রাজ্যে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফ্লোরিডায় রয়েছে রিপাবলিকান গভর্নর। এর আগেও ছিল রিপাবলিকান গভর্নর। ফ্লোরিডা অন্যান্য রাজ্য থেকে পৃথক। এখানের ভোট ব্যবস্থা নিরাপদ ও সুরক্ষিত।’

অন্য রাজ্যে মেইলে ভোটপ্রয়োগ মানতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এতে ট্রাম্পের অন্য উদ্দেশ্য আছে। তিনি তার সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি করতে চাচ্ছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ রিক হাসেন বলেন, নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে তিনি সম্ভবত সন্দেহ তৈরি করতে চাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি হয়তো কিছু রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, তিনি সম্ভবত তার সম্ভাব্য পরাজয়ের একটি অজুহাত তৈরি করতে চাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মদিবসে ভোটগ্রহণের কারণে অনেকেই সশরীরে হাজির হতে পারেন না।

তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে ডাকযোগে ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে। চলতি বছর করোনা সংকটের কারণে এ সুযোগ বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন নির্বাচন ২০২০

মেইল-ইন ভোটিংয়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মেইলে ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরোধিতা করছেন।
ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মেইলে ভোটাধিকার প্রয়োগের দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরোধিতা করছেন।

চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মেইল-ইন ভোটিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মেইলে ভোটদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ট্রাম্পের আশঙ্কা- এ পদ্ধতির ভোটে লাভবান হবেন প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক দলের জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি রাজ্য ইতোমধ্যে তাদের ভোটারদের মেইলে ভোট দেয়ার অনুমতি দিয়েছে। রাজ্যগুলো হল- নেভাদা, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসেলভেনিয়া ও মিশিগান।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ার তীব্র লড়াইয়ে শামিল ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তিনি নেভাদা রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করবেন, যেন রাজ্যটি তার সব ভোটারকে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পোস্টাল সার্ভিস ব্যবহার করে ভোটের সুযোগ দিতে না পারে।

টুইট করে তিনি বলেছেন, নেভাদা মেইলের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিয়ে ওই রাজ্যে রিপাবলিকানদের জয় অসম্ভব করে তুলবে। ট্রাম্প টুইটারে আরও বলেন, ‘কোভিড ব্যবহার করে রাজ্য চুরি... দেখা হবে আদালতে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যই তাদের ভোটাভুটির প্রক্রিয়া নিজস্ব উপায়ে সম্পন্ন করছে। দীর্ঘদিন ধরেই মেইলের মাধ্যমে এবসেন্ট বাসিন্দাদের জন্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুমোদন রয়েছে। করোনা সংকটে দেশটির বর্তমান বাস্তবতায় মেইলে ভোটদানকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ প্রায় প্রতিদিনই ৪৫ হাজারেরও বেশি লোক নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু রিপাবলিকানরা মেইলের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ট্রাম্প নিজেও মেইলে ভোট দিয়েছেন। তবু তার আশঙ্কা এই ব্যবস্থা সার্বজনীন করা হলে ডেমোক্র্যাটরা বেশি ভোট পাবে। তবে অন্য রাজ্য বাদে ফ্লোরিডায় মেইল-ইন ভোটিংয়ের পক্ষে রয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ফ্লোরিডায় মেইলে ভোটে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে ভোট ব্যবস্থা খুবই নিরাপদ।

এ রাজ্যে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফ্লোরিডায় রয়েছে রিপাবলিকান গভর্নর। এর আগেও ছিল রিপাবলিকান গভর্নর। ফ্লোরিডা অন্যান্য রাজ্য থেকে পৃথক। এখানের ভোট ব্যবস্থা নিরাপদ ও সুরক্ষিত।’

অন্য রাজ্যে মেইলে ভোটপ্রয়োগ মানতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এতে ট্রাম্পের অন্য উদ্দেশ্য আছে। তিনি তার সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি করতে চাচ্ছেন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ রিক হাসেন বলেন, নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে তিনি সম্ভবত সন্দেহ তৈরি করতে চাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি হয়তো কিছু রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, তিনি সম্ভবত তার সম্ভাব্য পরাজয়ের একটি অজুহাত তৈরি করতে চাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মদিবসে ভোটগ্রহণের কারণে অনেকেই সশরীরে হাজির হতে পারেন না।

তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে ডাকযোগে ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে। চলতি বছর করোনা সংকটের কারণে এ সুযোগ বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০