করোনার চেয়েও বড় সংকট আসছে
jugantor
বিল গেটসের হুশিয়ারি
করোনার চেয়েও বড় সংকট আসছে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার মতো ভয়াবহ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বনেতাদের বছরের পর বছর সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এবার করোনাভাইরাসের চেয়ে আরও ভয়ংকর সংকটের বিষয়ে হুশিয়ারি করেছেন তিনি। মার্কিন এ ধনকুবের বলেন, আসন্ন সংকটে আরও বেশি মানুষ মারা যাবে এবং ভোগান্তির শিকার হবে। সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জরুরি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বিল গেটস। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বেই এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। বহু মানুষ মারা গেছে। ভয়ে ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না মানুষ। অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু হয়ে পড়েছে, যা আগে কখনও দেখেনি কয়েক প্রজন্ম। কিন্তু আগামী দশকের মধ্যে এক ভয়ংকর বিপর্যয় আসছে : জলবায়ু পরিবর্তন।

এতে করোনার চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাবে।’ বিল গেটসের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার করোনাভাইরাসকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু তাদের উচিত করোনার মতোই জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেয়া। তিনি বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি এখনই এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তবে এর প্রভাব হবে আরও ধ্বংসাত্মক। ওই ব্লগ পোস্টে বিল গেটস বলেন, করোনাভাইরাসে প্রতি লাখে মৃত্যুহার ১৪। কিন্তু এই শতকের শেষে যদি বর্তমান সময়ে যে হারে কার্বন নির্গমন হচ্ছে সেই হারেই তা চলতে থাকে তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই প্রতি লাখে অতিরিক্ত আরও ৭৩ জনের মৃত্যু হতে পারে। অর্থ্যাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ে প্রতি লাখে মারা যেতে পারে ৮৭ জন। তিনি আরও বলেছেন, করোনা মহামারী ভয়ংকর; কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন তার চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কি ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে তা বুঝতে কোভিড-১৯-এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে যে ভুগতে হচ্ছে সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ধনকুবের সতর্ক করে বলেন, আগামী দুই দশকের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এতটাই খারাপ হয়ে উঠতে পারে যে, প্রতি দশকেই একবার করে কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বিপর্যয় দেখা দেবে।

এদিকে, ২০২১ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোতে করোনা মহামারী নির্মূল হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিল গেটস। করোনা নির্মূলে ভ্যাকসিনের আবিষ্কারে যেভাবে অগ্রগতি হচ্ছে, সেভাবে চলতে থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোতে এবং ২০২২ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে করোনা অনেকটাই নির্মূল করা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন অয়্যার্ডকে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন বিল গেটস। করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে এরই মধ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিল অ্যান্ড ম্যালিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। বিল গেটস বিশ্বাস করেন, করোনা মোকাবিলায় একটি কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। তবে এর চাহিদা আর উৎপাদন সংক্রান্ত সমস্যার জন্য কিছু সম্ভাব্য ভ্যাকসিন কেবল ধনী দেশগুলোকেই সাহায্য করবে।

বিল গেটসের হুশিয়ারি

করোনার চেয়েও বড় সংকট আসছে

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার মতো ভয়াবহ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বনেতাদের বছরের পর বছর সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এবার করোনাভাইরাসের চেয়ে আরও ভয়ংকর সংকটের বিষয়ে হুশিয়ারি করেছেন তিনি। মার্কিন এ ধনকুবের বলেন, আসন্ন সংকটে আরও বেশি মানুষ মারা যাবে এবং ভোগান্তির শিকার হবে। সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জরুরি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বিল গেটস। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বেই এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। বহু মানুষ মারা গেছে। ভয়ে ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না মানুষ। অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু হয়ে পড়েছে, যা আগে কখনও দেখেনি কয়েক প্রজন্ম। কিন্তু আগামী দশকের মধ্যে এক ভয়ংকর বিপর্যয় আসছে : জলবায়ু পরিবর্তন।

এতে করোনার চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাবে।’ বিল গেটসের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার করোনাভাইরাসকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু তাদের উচিত করোনার মতোই জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেয়া। তিনি বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি এখনই এ বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তবে এর প্রভাব হবে আরও ধ্বংসাত্মক। ওই ব্লগ পোস্টে বিল গেটস বলেন, করোনাভাইরাসে প্রতি লাখে মৃত্যুহার ১৪। কিন্তু এই শতকের শেষে যদি বর্তমান সময়ে যে হারে কার্বন নির্গমন হচ্ছে সেই হারেই তা চলতে থাকে তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণেই প্রতি লাখে অতিরিক্ত আরও ৭৩ জনের মৃত্যু হতে পারে। অর্থ্যাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ে প্রতি লাখে মারা যেতে পারে ৮৭ জন। তিনি আরও বলেছেন, করোনা মহামারী ভয়ংকর; কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন তার চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কি ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে তা বুঝতে কোভিড-১৯-এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে যে ভুগতে হচ্ছে সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ধনকুবের সতর্ক করে বলেন, আগামী দুই দশকের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এতটাই খারাপ হয়ে উঠতে পারে যে, প্রতি দশকেই একবার করে কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বিপর্যয় দেখা দেবে।

এদিকে, ২০২১ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোতে করোনা মহামারী নির্মূল হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিল গেটস। করোনা নির্মূলে ভ্যাকসিনের আবিষ্কারে যেভাবে অগ্রগতি হচ্ছে, সেভাবে চলতে থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোতে এবং ২০২২ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে করোনা অনেকটাই নির্মূল করা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন অয়্যার্ডকে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন বিল গেটস। করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে এরই মধ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিল অ্যান্ড ম্যালিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। বিল গেটস বিশ্বাস করেন, করোনা মোকাবিলায় একটি কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। তবে এর চাহিদা আর উৎপাদন সংক্রান্ত সমস্যার জন্য কিছু সম্ভাব্য ভ্যাকসিন কেবল ধনী দেশগুলোকেই সাহায্য করবে।