সব নেতাই দুর্নীতিবাজ ওরাই দেশের বড় শত্রু
jugantor
লেবাননে সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনগণ
সব নেতাই দুর্নীতিবাজ ওরাই দেশের বড় শত্রু
আমাদের সরকারের ওপর কোনো আস্থা নেই। আমি আশা করি জাতিসংঘ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নেবে * প্রতিশোধ, প্রতিশোধ, যতক্ষণ পর্যন্ত না এ সরকার সরে দাঁড়ায় * রাজনীতিবিদরা লেবাননকে দীর্ঘ ৩০ বছর শাসন করেছে, দেশ এখন আমাদেও * তোমাদের কোনো বিবেক নেই, কোনো নীতি নেই। বাড়ি যাও! চলে যাও! পদত্যাগ কর অনেক হয়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের অবহেলায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ফুঁসে উঠেছে জনগণ। এ বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের আগাম নির্বাচনের ঘোষণায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তারা। সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আমজনতা।

শনিবার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখান হাজার হাজার মানুষ। টিয়ারগ্যাস-ভাংচুর-আগুনে আরেক ভয়ংকর রূপ নেয় লেবানন। বৈরুতের কেন্দ্রে এক বিক্ষোভ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নাজিব ফারাহ বলেন, ‘এ দেশে আমাদের এবং সরকারের মাঝে রয়েছে শুধু ঘৃণা আর রক্ত। জনগণ প্রতিশোধ চায়।’

বন্দরে বিস্ফোরণের জন্য লেবানিজ নেতাদের দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেন, ‘ব্যর্থ ও অথর্ব সরকারের কাছে ১৫৮ জনের প্রাণহানি ছাড়া কি আর আশা করা যেতে পারে? আমাদের সব নেতাই দুর্নীতিবাজ। ওরাই দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু।’ খবর এএফপি ও রয়টার্সের।

শনিবার বৈরুতের শহীদ চত্বরে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। তাদের কেউ কেউ পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরা অবরোধ ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষে সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শহীদ চত্বরের কেন্দ্রস্থলে আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে। কয়েক ডজন প্রতিবাদকারী লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢুকে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের একটি বাঁধাই করা ছবি পুড়িয়ে দেয়।

লেবাননের গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কয়েক দশক ধরে দেশটিকে শাসন করা বিভিন্ন রাজনৈতিক শ্রেণির প্রতিনিধি আউনসহ রাজনৈতিক নেতাদের দায়ী করছেন প্রতিবাদকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘আমাদের দেশের সরকার এখন জনগণকে হত্যাও করছে।’ আরেকজন চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘তারা (রাজনীতিবিদরা) সবাই দুর্নীতিবাজ, এখন তারা হত্যাকারী।’ বিক্ষোভ থেকে লেবাননের টিভিকে এক ব্যক্তি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা লেবাননকে দীর্ঘ ৩০ বছর শাসন করেছে, দেশ এখন আমাদের।’

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের সময়ে যুদ্ধবাজ নেতারাই (সেনা কর্মকর্তারা) দেশ শাসন করেছেন। এরপর থেকে গত ৩০ বছর দেশ চালিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা।

সংবাদমাধ্যম মেগাফোনে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা এখানে অবস্থান করছি। সব মন্ত্রণালয় দখল করে নিতে লেবাননি জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’ চারটি মন্ত্রণালয় দখলে নিয়ে অধিকারকর্মী হায়াত নাজির বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এটা সত্যিই যুদ্ধ।’

‘জনগণ সরকারের পতন চায়’ বলে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। এই স্লোগান ২০১১ সালে ‘আরব বসন্তে’র সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘বিপ্লব, বিপ্লব’, ‘চলে যাও, তোমরা সবাই হত্যাকারী’, ‘চলে যাও সব আবর্জনা’।

একজন প্রতিবাদকারী চিৎকার করে বলেন, ‘তোমাদের কোনো বিবেক নেই, কোনো নীতি নেই। বাড়ি যাও! চলে যাও! পদত্যাগ কর, অনেক হয়েছে।’ আরেকজন বলেন, ‘তোমরা আমাদের দারিদ্র্য, মৃত্যু ও ধ্বংস দিয়েছ; আর কী চাও তোমরা?’ সংঘর্ষ চলার সময় মেশিনগান বসানো গাড়িতে করে ওই এলাকায় টহল দেয় সৈন্যরা।

চিৎকার করে এক নারী বলেন, ‘সত্যি সেনাবাহিনী এখানে এসেছে? আমাদের গুলি করতে তোমরা এখানে এসেছ? আমাদের সঙ্গে যোগ দাও, আমরা একসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারব।’ লেবাননকে ফ্রান্সের হাতে কর্তৃত্ব দেয়ার দাবি তুলেছেন সাধারণ জনতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেলিন দিবো বলেন, ‘আমাদের সরকারের ওপর কোনো আস্থা নেই। আমি আশা করি জাতিসংঘ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নেবে।’ ৪৮ বছর বয়সী সাইকোলজিস্ট ম্যারিসে হায়েক বলেন, ‘শূন্য ভূমিতে বসবাস করছি আমরা। আমি আশা করছি, আরেকটি দেশ আমাদের দেশের কর্তৃত্ব নেবে। আমাদের নেতাদের সবাই একগুচ্ছ দুর্নীতিবাজ।’

বিস্ফোরণের কারণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাচের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কয়েকজন স্লোগান দিচ্ছিলেন- ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ, যতক্ষণ না পর্যন্ত এ সরকার সরে দাঁড়ায়।’ জাড নামের ২৫ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর টানা তিনদিন আমরা রাস্তা পরিষ্কার করেছি। সরকারের কোনো

প্রতিনিধি এতে অংশ নেইনি।’ এক বিক্ষোভকারী হাতে থাকা পোস্টারের নেতাদের ব্যঙ্গাত্মক ছবি দিয়ে নিচে লেখা- এদের ফাঁসি দাও। সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে ৪৬ বছর বয়সী মিদিয়া আজৌরি বলেন, ‘আমরা এ দেশে কিছুই পাইনি। বন্দিদশার মধ্যে জীবন পার করছি। আমরা দেশ ছাড়তে পারি না। ব্যাংক থেকে টাকাও তুলতে পারি না। ক্ষুধায় মরছি আমরা।’

লেবাননে সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনগণ

সব নেতাই দুর্নীতিবাজ ওরাই দেশের বড় শত্রু

আমাদের সরকারের ওপর কোনো আস্থা নেই। আমি আশা করি জাতিসংঘ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নেবে * প্রতিশোধ, প্রতিশোধ, যতক্ষণ পর্যন্ত না এ সরকার সরে দাঁড়ায় * রাজনীতিবিদরা লেবাননকে দীর্ঘ ৩০ বছর শাসন করেছে, দেশ এখন আমাদেও * তোমাদের কোনো বিবেক নেই, কোনো নীতি নেই। বাড়ি যাও! চলে যাও! পদত্যাগ কর অনেক হয়েছে
 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের অবহেলায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ফুঁসে উঠেছে জনগণ। এ বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের আগাম নির্বাচনের ঘোষণায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তারা। সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আমজনতা।

শনিবার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখান হাজার হাজার মানুষ। টিয়ারগ্যাস-ভাংচুর-আগুনে আরেক ভয়ংকর রূপ নেয় লেবানন। বৈরুতের কেন্দ্রে এক বিক্ষোভ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নাজিব ফারাহ বলেন, ‘এ দেশে আমাদের এবং সরকারের মাঝে রয়েছে শুধু ঘৃণা আর রক্ত। জনগণ প্রতিশোধ চায়।’

বন্দরে বিস্ফোরণের জন্য লেবানিজ নেতাদের দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেন, ‘ব্যর্থ ও অথর্ব সরকারের কাছে ১৫৮ জনের প্রাণহানি ছাড়া কি আর আশা করা যেতে পারে? আমাদের সব নেতাই দুর্নীতিবাজ। ওরাই দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু।’ খবর এএফপি ও রয়টার্সের।

শনিবার বৈরুতের শহীদ চত্বরে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। তাদের কেউ কেউ পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরা অবরোধ ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষে সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শহীদ চত্বরের কেন্দ্রস্থলে আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে। কয়েক ডজন প্রতিবাদকারী লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢুকে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের একটি বাঁধাই করা ছবি পুড়িয়ে দেয়।

লেবাননের গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কয়েক দশক ধরে দেশটিকে শাসন করা বিভিন্ন রাজনৈতিক শ্রেণির প্রতিনিধি আউনসহ রাজনৈতিক নেতাদের দায়ী করছেন প্রতিবাদকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘আমাদের দেশের সরকার এখন জনগণকে হত্যাও করছে।’ আরেকজন চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘তারা (রাজনীতিবিদরা) সবাই দুর্নীতিবাজ, এখন তারা হত্যাকারী।’ বিক্ষোভ থেকে লেবাননের টিভিকে এক ব্যক্তি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা লেবাননকে দীর্ঘ ৩০ বছর শাসন করেছে, দেশ এখন আমাদের।’

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের সময়ে যুদ্ধবাজ নেতারাই (সেনা কর্মকর্তারা) দেশ শাসন করেছেন। এরপর থেকে গত ৩০ বছর দেশ চালিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা।

সংবাদমাধ্যম মেগাফোনে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা এখানে অবস্থান করছি। সব মন্ত্রণালয় দখল করে নিতে লেবাননি জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’ চারটি মন্ত্রণালয় দখলে নিয়ে অধিকারকর্মী হায়াত নাজির বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এটা সত্যিই যুদ্ধ।’

‘জনগণ সরকারের পতন চায়’ বলে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। এই স্লোগান ২০১১ সালে ‘আরব বসন্তে’র সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘বিপ্লব, বিপ্লব’, ‘চলে যাও, তোমরা সবাই হত্যাকারী’, ‘চলে যাও সব আবর্জনা’।

একজন প্রতিবাদকারী চিৎকার করে বলেন, ‘তোমাদের কোনো বিবেক নেই, কোনো নীতি নেই। বাড়ি যাও! চলে যাও! পদত্যাগ কর, অনেক হয়েছে।’ আরেকজন বলেন, ‘তোমরা আমাদের দারিদ্র্য, মৃত্যু ও ধ্বংস দিয়েছ; আর কী চাও তোমরা?’ সংঘর্ষ চলার সময় মেশিনগান বসানো গাড়িতে করে ওই এলাকায় টহল দেয় সৈন্যরা।

চিৎকার করে এক নারী বলেন, ‘সত্যি সেনাবাহিনী এখানে এসেছে? আমাদের গুলি করতে তোমরা এখানে এসেছ? আমাদের সঙ্গে যোগ দাও, আমরা একসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারব।’ লেবাননকে ফ্রান্সের হাতে কর্তৃত্ব দেয়ার দাবি তুলেছেন সাধারণ জনতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেলিন দিবো বলেন, ‘আমাদের সরকারের ওপর কোনো আস্থা নেই। আমি আশা করি জাতিসংঘ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নেবে।’ ৪৮ বছর বয়সী সাইকোলজিস্ট ম্যারিসে হায়েক বলেন, ‘শূন্য ভূমিতে বসবাস করছি আমরা। আমি আশা করছি, আরেকটি দেশ আমাদের দেশের কর্তৃত্ব নেবে। আমাদের নেতাদের সবাই একগুচ্ছ দুর্নীতিবাজ।’

বিস্ফোরণের কারণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাচের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কয়েকজন স্লোগান দিচ্ছিলেন- ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ, যতক্ষণ না পর্যন্ত এ সরকার সরে দাঁড়ায়।’ জাড নামের ২৫ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর টানা তিনদিন আমরা রাস্তা পরিষ্কার করেছি। সরকারের কোনো

প্রতিনিধি এতে অংশ নেইনি।’ এক বিক্ষোভকারী হাতে থাকা পোস্টারের নেতাদের ব্যঙ্গাত্মক ছবি দিয়ে নিচে লেখা- এদের ফাঁসি দাও। সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে ৪৬ বছর বয়সী মিদিয়া আজৌরি বলেন, ‘আমরা এ দেশে কিছুই পাইনি। বন্দিদশার মধ্যে জীবন পার করছি। আমরা দেশ ছাড়তে পারি না। ব্যাংক থেকে টাকাও তুলতে পারি না। ক্ষুধায় মরছি আমরা।’