অভিবাসী অবহেলা কালোর জ্বালা, দুই-ই আছে কমলার
jugantor
অভিবাসী অবহেলা কালোর জ্বালা, দুই-ই আছে কমলার
ওবামা-ক্লিনটনের মতোই মা ভক্ত * এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন বাইডেন। কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসী উভয় কূলই রাখলেন * সে আমাদেরই একজন : বাড়তি উচ্ছ্বাস দক্ষিণ এশীয়দের

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘আমার মা বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি দুটি কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েকে বড় করছেন। তিনি জানতেন, তার নতুন দেশ তাদেরকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবেই দেখবে। আর তাই আমাদের গর্বিত কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে গড়ে তুলতে মা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।’ আত্মজীবনীমূলক ‘দ্য ট্রুথস উই হোল্ড’ বইতে এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর টিকিট পাওয়া কমলা হ্যারিস (৫৫)। বাবার সূত্রে তিনি জামাইক্যান। মায়ের দিক থেকে ভারতীয়। বড় হয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ রীতিতে। বাল্যকাল থেকে কালো হওয়ার জ্বালা ও অভিবাসীর অবহেলা- দুই-ই সহ্য করেছেন তিনি। কৃষ্ণাঙ্গ মাকেও বৈষম্যে শিকার হতে হয়েছে।

এসব অবহেলা-অবজ্ঞার গল্প মায়ের মুখে শুনে শুনে বড় হয়েছেন কমলা। নাক শিটকানি উপেক্ষা করে কমলা ও তার বোন মায়াকে বড় করে তুলেছেন মা শ্যামলা গোপালান। এখন সেই কৃষ্ণাঙ্গ নারী কালো হওয়ার কারণেই বেশি গর্বিত ও প্রশংসিত। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন মঙ্গলবার রানিং মেট হিসেবে কমলার নাম ঘোষণা করেন। ডেমোক্রেট নেতা কমলা হ্যারিসের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে। বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস জ্যামাইকান এবং মা গোপালান ভারতীয়। বাবা ছিলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। কমলার মাত্র সাত বছর বয়সেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর কমলা ও তার বোন মায়া বড় হন তাদের হিন্দু মায়ের কাছে। কমলার মা একজন ক্যান্সার গবেষক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী। ভারতীয় মায়ের কাছে বড় হলেও কমলা তার আত্মজীবনী গ্রন্থে জানিয়েছেন, দুই মেয়ের জন্য মা ভারতীয় নয়, বরং কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতি বেছে নিয়েছিলেন।

কিন্তু সহজে এটা হয়নি। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসী মাকে সেসব সহ্য করতে হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে শহরে গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় কর্মক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হন শ্যামলা। ’৭০-এর দশকে তার সহকর্মী মিনা বিসেল জানিয়েছেন, শ্যামলার চেয়েও অযোগ্য এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। একে বিসেল ‘যৌনতাবাদী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মায়ের এসব কষ্টের কথা আত্মজীবনী গ্রন্থে তুলে ধরেছেন কমলা। তিনি নিজেকে একজন আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দিতেই সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্বেতাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ স্কুলগুলোতে পড়েছেন কমলা। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতা নিতে চাইলেন তিনি। ভর্তি হলেন হিসটোরিক্যালি ব্লাক কলেজ অর ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, যাকে ‘ব্লাক হার্ভার্ড’ বলা হয়ে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই- নিজেকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে গর্বিত করে তোলা। হাওয়ার্ডে চার বছর কাটানোর পর ১৯৮৬ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে কমলা যান হেস্টিংসের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে। মায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ায় বাবার সঙ্গে তেমন সাক্ষাৎ ছিল না কমলার। ছুটির দিনে মাঝে মাঝে বাবা দেখতে এলেও মা-ই ছিল কমলার একমাত্র ভরসা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটনের মতোই মা-ভক্ত তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পর ওবামা তার মাকে স্মরণ করেছিলেন। বলেছিলেন, তার ‘সিঙ্গেল মাদার’ তাকে সকাল ৫টায় ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন পড়াশুনা করার জন্য। আর ক্লিনটন বলেছিলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যুর পর মা-ই পুরো পরিবার আগলে রেখেছিলেন। এখন কমলা তার মায়ের সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরছেন। ওকল্যান্ডের প্রায় ২০ হাজার সমর্থকের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মা প্রায়ই বলতেন, আশপাশে বসে কখনো কোনো জিনিস নিয়ে অভিযোগ তুলবে না, বরং পারলে কিছু করে দেখাবে। মা আরও বলতেন, তুমিই হবে প্রথম কোনো ব্যক্তি যে কিছু করতে পারে, কখনো পেছনে পড়ে থেকো না।’ মায়ের এই কথাগুলোকে পুঁজি করে বড় হয়েছেন কমলা। কৃষ্ণাঙ্গ বা অভিবাসীর কোনো গন্ধ গায়ে না মেখে ক্ষুরধার বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে পটু হয়ে ওঠেন। ক্যান্সার নিয়ে গবেষক মা শ্যামলা ২০০৯ সালে ক্লোন ক্যান্সারে মারা যান।

রানিং মেট হিসেবে কমলাকে মনোনয়ন দেয়া আগামী ৩ নভেম্বরে নির্বাচনে বাইডেনকে সফলতা এনে দিতে পারে। এর পেছনে কিছু কারণও আছে। করোনাভাইরাস মহামারী, অর্থনীতিতে ধস এবং পুলিশি নৃশংসতা ও বর্ণবাদী অনাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন ফিকে হয়ে গেছে। তাই ট্রাম্পকে ধরাশয়ী করতে ভোটারদের একটি বৃহৎ জোট গড়ে তুলতেই কমলাকে ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য মনোনীত করেছেন বাইডেন। বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় ট্রাম্পের ভূমিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা ব্যাপক অসন্তুষ্ট হন। কমলা ওই আন্দোলনকে সামনে থেকে সমর্থন দেন। তাই কৃষ্ণাঙ্গ ভোটব্যাংক সুসংহত রাখতে কমলার কোনো বিকল্প খুঁজে পাননি বাইডেন। বলা হয়, আমেরিকার ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা ও বাইডেন জুটি সবচেয়ে সফল। তার কারণ, উভয়েই নীতিগত প্রশ্নে অভিন্ন মত পোষণ করতেন। অনেকেই বাইডেন-হ্যারিসের মধ্যে সেই সহমত দেখতে পাচ্ছেন। কমলাকে নির্বাচনের পেছনে আরও একটি হিসাব কাজ করেছে। দুই মাস আগে মিনিয়াপোলিসে শ্বেতকায় পুলিশ হাঁটুর নিচে চেপে ধরে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্ণভিত্তিক ন্যায়বিচারের আন্দোলন সোচ্চার হয়েছে। কমলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশে রাস্তায় নেমে আসেন। তাকে রানিং মেট করায় বাইডেন এ আন্দোলনের উত্তাপকে ব্যবহারে সক্ষম হবেন। কমলার মনোনয়ন ট্রাম্পের জন্য আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, অভিবাসী ও বর্ণবাদী আক্রমণ। অভিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় ট্রাম্প যদি কমলার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণ করে বসেন, তাহলে তিনি আরও খাদের কিনারে চলে যাবেন। তরুণ ও নারী ভোটার, বিশেষ করে শহরতলির এমন ভোটারদের জন্য কমলা হতে পারেন আশার প্রদীপ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা এশীয় ভোটারদের জন্যও বাড়তি আগ্রহের। শ্রীলংকান-আমেরিকান তামান্না জয়সিংহ এএফপি’র কাছে মাত্র দুই শব্দে নিজের আবেগ প্রকাশ করেন ‘কমলা আন্টি।’

অভিবাসী অবহেলা কালোর জ্বালা, দুই-ই আছে কমলার

ওবামা-ক্লিনটনের মতোই মা ভক্ত * এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন বাইডেন। কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসী উভয় কূলই রাখলেন * সে আমাদেরই একজন : বাড়তি উচ্ছ্বাস দক্ষিণ এশীয়দের
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৪ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘আমার মা বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি দুটি কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েকে বড় করছেন। তিনি জানতেন, তার নতুন দেশ তাদেরকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবেই দেখবে। আর তাই আমাদের গর্বিত কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে গড়ে তুলতে মা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন।’ আত্মজীবনীমূলক ‘দ্য ট্রুথস উই হোল্ড’ বইতে এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর টিকিট পাওয়া কমলা হ্যারিস (৫৫)। বাবার সূত্রে তিনি জামাইক্যান। মায়ের দিক থেকে ভারতীয়। বড় হয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ রীতিতে। বাল্যকাল থেকে কালো হওয়ার জ্বালা ও অভিবাসীর অবহেলা- দুই-ই সহ্য করেছেন তিনি। কৃষ্ণাঙ্গ মাকেও বৈষম্যে শিকার হতে হয়েছে।

এসব অবহেলা-অবজ্ঞার গল্প মায়ের মুখে শুনে শুনে বড় হয়েছেন কমলা। নাক শিটকানি উপেক্ষা করে কমলা ও তার বোন মায়াকে বড় করে তুলেছেন মা শ্যামলা গোপালান। এখন সেই কৃষ্ণাঙ্গ নারী কালো হওয়ার কারণেই বেশি গর্বিত ও প্রশংসিত। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন মঙ্গলবার রানিং মেট হিসেবে কমলার নাম ঘোষণা করেন। ডেমোক্রেট নেতা কমলা হ্যারিসের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে। বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস জ্যামাইকান এবং মা গোপালান ভারতীয়। বাবা ছিলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। কমলার মাত্র সাত বছর বয়সেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর কমলা ও তার বোন মায়া বড় হন তাদের হিন্দু মায়ের কাছে। কমলার মা একজন ক্যান্সার গবেষক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী। ভারতীয় মায়ের কাছে বড় হলেও কমলা তার আত্মজীবনী গ্রন্থে জানিয়েছেন, দুই মেয়ের জন্য মা ভারতীয় নয়, বরং কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতি বেছে নিয়েছিলেন।

কিন্তু সহজে এটা হয়নি। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসী মাকে সেসব সহ্য করতে হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে শহরে গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় কর্মক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হন শ্যামলা। ’৭০-এর দশকে তার সহকর্মী মিনা বিসেল জানিয়েছেন, শ্যামলার চেয়েও অযোগ্য এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। একে বিসেল ‘যৌনতাবাদী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মায়ের এসব কষ্টের কথা আত্মজীবনী গ্রন্থে তুলে ধরেছেন কমলা। তিনি নিজেকে একজন আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দিতেই সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্বেতাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ স্কুলগুলোতে পড়েছেন কমলা। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন অভিজ্ঞতা নিতে চাইলেন তিনি। ভর্তি হলেন হিসটোরিক্যালি ব্লাক কলেজ অর ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, যাকে ‘ব্লাক হার্ভার্ড’ বলা হয়ে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই- নিজেকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে গর্বিত করে তোলা। হাওয়ার্ডে চার বছর কাটানোর পর ১৯৮৬ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে কমলা যান হেস্টিংসের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে। মায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ায় বাবার সঙ্গে তেমন সাক্ষাৎ ছিল না কমলার। ছুটির দিনে মাঝে মাঝে বাবা দেখতে এলেও মা-ই ছিল কমলার একমাত্র ভরসা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটনের মতোই মা-ভক্ত তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পর ওবামা তার মাকে স্মরণ করেছিলেন। বলেছিলেন, তার ‘সিঙ্গেল মাদার’ তাকে সকাল ৫টায় ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন পড়াশুনা করার জন্য। আর ক্লিনটন বলেছিলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যুর পর মা-ই পুরো পরিবার আগলে রেখেছিলেন। এখন কমলা তার মায়ের সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরছেন। ওকল্যান্ডের প্রায় ২০ হাজার সমর্থকের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মা প্রায়ই বলতেন, আশপাশে বসে কখনো কোনো জিনিস নিয়ে অভিযোগ তুলবে না, বরং পারলে কিছু করে দেখাবে। মা আরও বলতেন, তুমিই হবে প্রথম কোনো ব্যক্তি যে কিছু করতে পারে, কখনো পেছনে পড়ে থেকো না।’ মায়ের এই কথাগুলোকে পুঁজি করে বড় হয়েছেন কমলা। কৃষ্ণাঙ্গ বা অভিবাসীর কোনো গন্ধ গায়ে না মেখে ক্ষুরধার বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে পটু হয়ে ওঠেন। ক্যান্সার নিয়ে গবেষক মা শ্যামলা ২০০৯ সালে ক্লোন ক্যান্সারে মারা যান।

রানিং মেট হিসেবে কমলাকে মনোনয়ন দেয়া আগামী ৩ নভেম্বরে নির্বাচনে বাইডেনকে সফলতা এনে দিতে পারে। এর পেছনে কিছু কারণও আছে। করোনাভাইরাস মহামারী, অর্থনীতিতে ধস এবং পুলিশি নৃশংসতা ও বর্ণবাদী অনাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন ফিকে হয়ে গেছে। তাই ট্রাম্পকে ধরাশয়ী করতে ভোটারদের একটি বৃহৎ জোট গড়ে তুলতেই কমলাকে ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য মনোনীত করেছেন বাইডেন। বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় ট্রাম্পের ভূমিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা ব্যাপক অসন্তুষ্ট হন। কমলা ওই আন্দোলনকে সামনে থেকে সমর্থন দেন। তাই কৃষ্ণাঙ্গ ভোটব্যাংক সুসংহত রাখতে কমলার কোনো বিকল্প খুঁজে পাননি বাইডেন। বলা হয়, আমেরিকার ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা ও বাইডেন জুটি সবচেয়ে সফল। তার কারণ, উভয়েই নীতিগত প্রশ্নে অভিন্ন মত পোষণ করতেন। অনেকেই বাইডেন-হ্যারিসের মধ্যে সেই সহমত দেখতে পাচ্ছেন। কমলাকে নির্বাচনের পেছনে আরও একটি হিসাব কাজ করেছে। দুই মাস আগে মিনিয়াপোলিসে শ্বেতকায় পুলিশ হাঁটুর নিচে চেপে ধরে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্ণভিত্তিক ন্যায়বিচারের আন্দোলন সোচ্চার হয়েছে। কমলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশে রাস্তায় নেমে আসেন। তাকে রানিং মেট করায় বাইডেন এ আন্দোলনের উত্তাপকে ব্যবহারে সক্ষম হবেন। কমলার মনোনয়ন ট্রাম্পের জন্য আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, অভিবাসী ও বর্ণবাদী আক্রমণ। অভিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় ট্রাম্প যদি কমলার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণ করে বসেন, তাহলে তিনি আরও খাদের কিনারে চলে যাবেন। তরুণ ও নারী ভোটার, বিশেষ করে শহরতলির এমন ভোটারদের জন্য কমলা হতে পারেন আশার প্রদীপ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা এশীয় ভোটারদের জন্যও বাড়তি আগ্রহের। শ্রীলংকান-আমেরিকান তামান্না জয়সিংহ এএফপি’র কাছে মাত্র দুই শব্দে নিজের আবেগ প্রকাশ করেন ‘কমলা আন্টি।’