কমলাকেও জন্মের খোঁটা ট্রাম্পের
jugantor
কমলাকেও জন্মের খোঁটা ট্রাম্পের
হিলারির ‘নষ্ট সংস্করণ’ কমলা * মেইল-ইন ভোটিং বাতিলে পোস্টাল ফান্ড বন্ধ ঘোষণা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক যুগ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম পরিচয় নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে এবারও তিনি প্রায় একই কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিসকে ঘায়েল করলেন। কমলার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘সাংবিধানিক যোগ্যতা’ নিয়ে বৃহস্পতিবার আলোচনা উসকে দিয়েছেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট। মার্কিন এক আইনের অধ্যাপকের মন্তব্যকে পুঁজি করে কমলার জন্মতত্ত্ব (বার্থার থিওরি) নিয়ে তাকে খোঁটা দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে মেইল-ইন ভোট বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল সার্ভিসকে অতিরিক্ত ফান্ড সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর জন্ম নেয়া কমলা হ্যারিসের বাবা জ্যামাইকান, মা ভারতীয়। ডেমোক্র্যাট এ নারী সিনেটরের যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘সাংবিধানিক যোগ্যতা আছে কিনা’ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের অধ্যাপক ইস্টম্যান এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ ও চতুর্দশ সংশোধনীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, কমলা হ্যারিসের জন্মের সময় তার বাবা-মা দু’জনের কারওই যদি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না থাকে (যদি সে সময় দু’জনেই শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকেন), তাহলে সম্ভবত তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘যোগ্যতা থাকে না।’

ইস্টম্যানের এ তত্ত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীই আমলে নিচ্ছেন না। তারা বলছেন, হ্যারিসের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন ও দায়িত্ব পালনে সাংবিধানিকভাবে কোনো বাধা নেই। ট্রাম্প অবশ্য এত যুক্তির ধার ধারেননি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলাকে এক হাত নিতে পারার সুযোগ পেয়েই তিনি খুশি। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আজই শুনেছি যে ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে যা যা প্রয়োজন তা নাকি তার (কমলা) নেই। যে আইনজীবী এটা লিখেছেন তিনি খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন, খুবই মেধাবী আইনজীবী।’

২০০৮ সালে ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ‘বার্থার’ আন্দোলনের জনপ্রিয় মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই আন্দোলনে ওবামার জন্মস্থান নিয়ে ধারাবাহিক প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ওবামা জন্মেছিলেন কেনিয়ায়। ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে তার জন্মের সনদ প্রকাশ করতে বাধ্য হন। গতবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নেমে চাপের মুখে ট্রাম্প ‘বার্থার’ আন্দোলন শুরুর দায় দিয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে। এর আগের দিন নিউইয়র্ক পোস্টকে সাক্ষাৎকারে কমলাকে হিলারির ‘নষ্ট সংস্করণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ নারী হিলারির ‘নষ্ট সংস্করণ’। তিনি যা চাইবেন তাই বলবেন, পরে নিজেই সমস্যায় পতিত হবেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারিকে ‘কুটিল নারী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন ট্রাম্প। পোস্টাল সার্ভিসের ফান্ড বন্ধের বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমি নতুন চুক্তি না করি, তার মানে তারা কোনো অর্থ পাবে না। এর মানে হল তারা সর্বজনীন মেইল-ইন ভোটিংয়ে যেতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডাকে ভোট দেয়ার প্রথা চালু রয়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে মেইলে ভোটের দাবি তুলেছেন কিছু রাজ্যের মেয়র-গভর্নররা।

কমলাকেও জন্মের খোঁটা ট্রাম্পের

হিলারির ‘নষ্ট সংস্করণ’ কমলা * মেইল-ইন ভোটিং বাতিলে পোস্টাল ফান্ড বন্ধ ঘোষণা
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক যুগ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম পরিচয় নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে এবারও তিনি প্রায় একই কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিসকে ঘায়েল করলেন। কমলার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘সাংবিধানিক যোগ্যতা’ নিয়ে বৃহস্পতিবার আলোচনা উসকে দিয়েছেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট। মার্কিন এক আইনের অধ্যাপকের মন্তব্যকে পুঁজি করে কমলার জন্মতত্ত্ব (বার্থার থিওরি) নিয়ে তাকে খোঁটা দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে মেইল-ইন ভোট বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল সার্ভিসকে অতিরিক্ত ফান্ড সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর জন্ম নেয়া কমলা হ্যারিসের বাবা জ্যামাইকান, মা ভারতীয়। ডেমোক্র্যাট এ নারী সিনেটরের যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘সাংবিধানিক যোগ্যতা আছে কিনা’ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের অধ্যাপক ইস্টম্যান এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ ও চতুর্দশ সংশোধনীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, কমলা হ্যারিসের জন্মের সময় তার বাবা-মা দু’জনের কারওই যদি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না থাকে (যদি সে সময় দু’জনেই শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকেন), তাহলে সম্ভবত তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসার ‘যোগ্যতা থাকে না।’

ইস্টম্যানের এ তত্ত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীই আমলে নিচ্ছেন না। তারা বলছেন, হ্যারিসের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায় তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন ও দায়িত্ব পালনে সাংবিধানিকভাবে কোনো বাধা নেই। ট্রাম্প অবশ্য এত যুক্তির ধার ধারেননি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলাকে এক হাত নিতে পারার সুযোগ পেয়েই তিনি খুশি। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আজই শুনেছি যে ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে যা যা প্রয়োজন তা নাকি তার (কমলা) নেই। যে আইনজীবী এটা লিখেছেন তিনি খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন, খুবই মেধাবী আইনজীবী।’

২০০৮ সালে ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ‘বার্থার’ আন্দোলনের জনপ্রিয় মুখপাত্রে পরিণত হয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই আন্দোলনে ওবামার জন্মস্থান নিয়ে ধারাবাহিক প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ওবামা জন্মেছিলেন কেনিয়ায়। ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে তার জন্মের সনদ প্রকাশ করতে বাধ্য হন। গতবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নেমে চাপের মুখে ট্রাম্প ‘বার্থার’ আন্দোলন শুরুর দায় দিয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে। এর আগের দিন নিউইয়র্ক পোস্টকে সাক্ষাৎকারে কমলাকে হিলারির ‘নষ্ট সংস্করণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ নারী হিলারির ‘নষ্ট সংস্করণ’। তিনি যা চাইবেন তাই বলবেন, পরে নিজেই সমস্যায় পতিত হবেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারিকে ‘কুটিল নারী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন ট্রাম্প। পোস্টাল সার্ভিসের ফান্ড বন্ধের বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমি নতুন চুক্তি না করি, তার মানে তারা কোনো অর্থ পাবে না। এর মানে হল তারা সর্বজনীন মেইল-ইন ভোটিংয়ে যেতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডাকে ভোট দেয়ার প্রথা চালু রয়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে মেইলে ভোটের দাবি তুলেছেন কিছু রাজ্যের মেয়র-গভর্নররা।