লেবাননে সরকার গঠনে ‘ফরাসি প্রেসক্রিপশন’
jugantor
লেবাননে সরকার গঠনে ‘ফরাসি প্রেসক্রিপশন’
নেতাদের হাতে রাষ্ট্রদূতের ফর্মুলা : সোমবার অধিবেশন

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লেবাননে সরকার গঠনে ‘ফরাসি প্রেসক্রিপশন’

লেবাননে কেমন সরকার হবে তার নিয়ম-পন্থা বাতলে দিল ফ্রান্স। সেই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের তরিকাও দেখিয়ে দিল ইউরোপের প্রভাবশালী দেশটি।

দেশের নানা সংকট ও বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত করার আগে লেবাননের রাজনীতিকদের এই সংস্কারগুলো অবশ্যই আনতে হবে বলে বারবার তাগিদ দিচ্ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বৈরুতে একটি আউটলাইনও পাঠিয়েছেন তিনি। দুই পৃষ্ঠার সেই ‘প্রেসক্রিপশন’ এখন লেবানিজ নেতাদের হাতে।

শুধু আউটলাইনই নয়, পুরো বিষয়টি একেবারে কাছ থেকে তদারক করতে চান ম্যাত্রেঁদ্ধা। এজন্য সরকার গঠনের সময় রাজধানী বৈরুতেই থাকবেন তিনি।

সরকার গঠন, নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাই ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে আগামী সোমবারই পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশনে বসছে লেবানন। বৈরুত বিস্ফোরণের জেরে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

চলতি মাসের (৪ আগস্ট) শুরুর দিকে রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রবন্দরে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফেরণের পর থেকেই লেবানন নিয়ে অতি তৎপর প্রেসিডেন্ট ম্যাত্রেঁদ্ধা।

বিস্ফোরণের দু’দিন পরই বিশ্বের প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে লেবানন সফর করেন এবং অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শর্ত দেন, লেবাননকে অবশ্যই সরকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবশ্যই সংস্কার আনতে হবে। এরপর সহায়তার অর্থ সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের উদ্যোগে একটি দাতা সম্মেলনও করেন তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, সরকার গঠন ও অন্যান্য সংস্কারের লক্ষ্যে বৈরুতে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দুই পৃষ্ঠার একটি ‘কনসেপ্ট পেপার’ পাঠিয়েছেন ম্যাত্রেঁদ্ধা। লেবাননের একটি সূত্রও বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিসের একটি সূত্র বলেছে, লেবাননের প্রেসিডেন্টে মিশেল আউন ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নবিহ বেরির কাছে একটি নথি হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে ওই নথিটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ এবং ‘রোডম্যাপ’ টাইপের কিছু নয় বলে দাবি করেছে এলিসি প্রাসাদ। প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে, লেবানন নেতাদের যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে, লেবাননের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অডিট, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও আগামী এক বছরের মধ্যে একটি পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন।

দশকের পর দশক ধরে গৃহযুদ্ধ, প্রতিবেশী দেশগুলোর খবরদারি আর ইসরাইলের আগ্রাসনের মুখে টিকে থাকার লড়াই করতে হয়েছে লেবাননকে।

গত কয়েক বছর ধরে দেশটির সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের ছোট দেশটি। রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রবন্দরে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফেরণ দেশটিকে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে।

বিস্ফোরণে কার্যত ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানী শহর। উদ্বাস্তু হয় প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে নতুন করে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে সরকার। তবে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত এ সরকারই দায়িত্ব পালন করবে।

ম্যাত্রেঁদ্ধার পাঠানো নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে এখন দ্রুত সরকার গঠনই অগ্রাধিকার হতে হবে।’ সেই লক্ষ্যে সোমবারই জরুরি অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে লেবানন।

বিষয়টি তদারকির জন্য ওইদিনই আরেকবার বৈরুত সফর করবেন ম্যাত্রেঁদ্ধা। মূলত একটি টেকনোক্র্যাট সরকার চান তিনি।

নতুন ধরনের সরকার গঠনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের বারবার তাগিদ দিয়ে আসছেন। নতুন এ সরকারের প্রধান হিসেবে ফের সাবেক দুইবারের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে তার এ প্রস্তাব মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মিশেল আউন ও সমমনা খ্রিস্টান দলগুলো। আর ফিরতে চান না বলে জানিয়েছেন হারিরিও।

লেবাননে সরকার গঠনে ‘ফরাসি প্রেসক্রিপশন’

নেতাদের হাতে রাষ্ট্রদূতের ফর্মুলা : সোমবার অধিবেশন
 যুগান্তর ডেস্ক 
৩০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লেবাননে সরকার গঠনে ‘ফরাসি প্রেসক্রিপশন’
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে কেমন সরকার হবে তার নিয়ম-পন্থা বাতলে দিল ফ্রান্স। সেই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের তরিকাও দেখিয়ে দিল ইউরোপের প্রভাবশালী দেশটি।

দেশের নানা সংকট ও বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত করার আগে লেবাননের রাজনীতিকদের এই সংস্কারগুলো অবশ্যই আনতে হবে বলে বারবার তাগিদ দিচ্ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বৈরুতে একটি আউটলাইনও পাঠিয়েছেন তিনি। দুই পৃষ্ঠার সেই ‘প্রেসক্রিপশন’ এখন লেবানিজ নেতাদের হাতে।

শুধু আউটলাইনই নয়, পুরো বিষয়টি একেবারে কাছ থেকে তদারক করতে চান ম্যাত্রেঁদ্ধা। এজন্য সরকার গঠনের সময় রাজধানী বৈরুতেই থাকবেন তিনি।

সরকার গঠন, নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাই ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে আগামী সোমবারই পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশনে বসছে লেবানন। বৈরুত বিস্ফোরণের জেরে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

চলতি মাসের (৪ আগস্ট) শুরুর দিকে রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রবন্দরে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফেরণের পর থেকেই লেবানন নিয়ে অতি তৎপর প্রেসিডেন্ট ম্যাত্রেঁদ্ধা।

বিস্ফোরণের দু’দিন পরই বিশ্বের প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে লেবানন সফর করেন এবং অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শর্ত দেন, লেবাননকে অবশ্যই সরকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবশ্যই সংস্কার আনতে হবে। এরপর সহায়তার অর্থ সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের উদ্যোগে একটি দাতা সম্মেলনও করেন তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, সরকার গঠন ও অন্যান্য সংস্কারের লক্ষ্যে বৈরুতে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দুই পৃষ্ঠার একটি ‘কনসেপ্ট পেপার’ পাঠিয়েছেন ম্যাত্রেঁদ্ধা। লেবাননের একটি সূত্রও বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিসের একটি সূত্র বলেছে, লেবাননের প্রেসিডেন্টে মিশেল আউন ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নবিহ বেরির কাছে একটি নথি হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে ওই নথিটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ এবং ‘রোডম্যাপ’ টাইপের কিছু নয় বলে দাবি করেছে এলিসি প্রাসাদ। প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে, লেবানন নেতাদের যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে, লেবাননের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অডিট, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও আগামী এক বছরের মধ্যে একটি পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন।

দশকের পর দশক ধরে গৃহযুদ্ধ, প্রতিবেশী দেশগুলোর খবরদারি আর ইসরাইলের আগ্রাসনের মুখে টিকে থাকার লড়াই করতে হয়েছে লেবাননকে।

গত কয়েক বছর ধরে দেশটির সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের ছোট দেশটি। রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রবন্দরে ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফেরণ দেশটিকে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে।

বিস্ফোরণে কার্যত ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানী শহর। উদ্বাস্তু হয় প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে নতুন করে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে সরকার। তবে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত এ সরকারই দায়িত্ব পালন করবে।

ম্যাত্রেঁদ্ধার পাঠানো নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে এখন দ্রুত সরকার গঠনই অগ্রাধিকার হতে হবে।’ সেই লক্ষ্যে সোমবারই জরুরি অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে লেবানন।

বিষয়টি তদারকির জন্য ওইদিনই আরেকবার বৈরুত সফর করবেন ম্যাত্রেঁদ্ধা। মূলত একটি টেকনোক্র্যাট সরকার চান তিনি।

নতুন ধরনের সরকার গঠনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের বারবার তাগিদ দিয়ে আসছেন। নতুন এ সরকারের প্রধান হিসেবে ফের সাবেক দুইবারের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে তার এ প্রস্তাব মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মিশেল আউন ও সমমনা খ্রিস্টান দলগুলো। আর ফিরতে চান না বলে জানিয়েছেন হারিরিও।

 

ঘটনাপ্রবাহ : লেবাননে বিস্ফোরণ