নতুন সংসদ ভবন বানাচ্ছে ভারত
jugantor
নতুন সংসদ ভবন বানাচ্ছে ভারত

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের পার্লামেন্ট ভবন মানেই যে কারও চোখে ভেসে উঠবে গোলাকার একটি ভবন। কিন্তু সরকার এই ভবন বাদ দিয়ে এর পাশেই নতুন একটি পার্লামেন্ট ভবন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নতুন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে টাটা গ্রুপ। ৮৬২ কোটি রুপি ব্যয়ে এটি তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯৯২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার ২০-২১ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। পার্লামেন্ট তৈরির এ সময়সীমা খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেঁধে দিয়েছেন। ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৫তম প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন পার্লামেন্ট ভবনে অধিবেশন আয়োজন করতে চান তিনি।

দিল্লিতে ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপনাগুলো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভারত সরকার এই পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ করছে। এটি হবে ত্রিকোণাকৃতির। তিন তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনে এক হাজার ৪০০ এমপি একসঙ্গে বসতে পারবেন। পিটিআই, বিবিসি, হিন্দুস্তান টাইমস।

সরকারের অবশ্য নতুন ভবন তৈরির জন্য সর্বোচ্চ বাজেট ছিল ৯৮০ কোটি রুপি। নতুন পার্লামেন্ট ভবনের সঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর তথা নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লককেও যুক্ত করতে চায় সরকার। এছাড়া নতুন প্রধানমন্ত্রী হাউস ও সেন্ট্রাল ভিস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট- তিন কিলোমিটারজুড়ে হবে সেন্ট্রাল ভিস্টা। সেখানে কেন্দ্রীয় সব মন্ত্রণালয়কে একীভূত করা হবে। এর কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের মধ্যে।

পুরনো পার্লামেন্ট বা লোকসভা ভবনটি ১২ একর জায়গার ওপর নির্মিত। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই পার্লামেন্ট ভবন ভারতের বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। নতুন ত্রিকোণাকৃতির যে লোকসভা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটি তৈরি হবে পুরনো ভবনেরই পাশে ১৩ একর জায়গায়। বস্তুত, পার্লামেন্ট ভবন নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে এমপিদের জায়গা সংকুলান করার জন্য।

বর্তমানে যে পার্লামেন্ট ভবন আছে এটি ৫৪৫ সদস্যকে কেন্দ্র করে তৈরি। কিন্তু ভারত চাচ্ছে তাদের এমপি সংখ্যা বাড়াতে। লোক সংখ্যার অনুপাতে পার্লামেন্টের সদস্যও বাড়ানো দরকার হয়ে পড়েছে।

ফলে নতুন তৈরি হতে যাওয়া ভবনটিতে মোট ১৪০০ জনের আসনের ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে এমপিদের জন্য রাখা হবে ৯০০টি। আর এটি রাখা হবে পার্লামেন্টের জয়েন্ট সেশন বা যৌথসভা করার ক্ষেত্রে যাতে স্থান সংকুলানের সমস্যা না হয়।

২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮৪৮ জন হতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট লোকসভার সদস্য সংখ্যা। অবশ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ২০১৯ সালে পার্লামেন্ট সদস্য প্রায় দ্বিগুণ বা এক হাজার করার প্রস্তাব করেছিলেন।

নতুন পার্লামেন্ট ভবনসহ সেন্ট্রাল ভিস্তার নতুন ডিজাইন তৈরির প্রধান আর্কিটেক্ট বিমল প্যাটেল জানিয়েছেন, পরিকল্পনার মধ্যে একটি ভিন্ন লাউঞ্জ তৈরির বিষয়ও রয়েছে। এছাড়া এখনও সিদ্ধান্ত না হলেও এমপিদের অফিস স্পেস তৈরিও হতে পারে একই পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সের ভেতরে।

বিমল বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং আকাশের দিকে উন্মুক্ত উঠোন, যার আশপাশে হবে একটি লাউঞ্জ এবং অধিবেশন বন্ধের সময় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত কক্ষ থাকবে মাঝখানে। আর মূল ভবনের উভয় পাশে থাকবে অফিস কক্ষগুলো।

এরই মধ্যে প্যাটেল ও তার দল বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট ভবনের আকৃতি দেখতে শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে কিউবা, মিসর, সিঙ্গাপুর ও জার্মানির আদল দেখছেন তারা।

ভারতকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। যদিও বর্তমান উগ্র জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানকার গণতন্ত্র নিয়ে খোদ দেশের ভেতর থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। তারপরও ভোটার ও ভোটের আকৃতিতে এখনও সবচেয়ে বড় গণন্ত্রের মর্যাদা পাচ্ছে ভারত।

সেক্ষেত্রে দেশটির পার্লামেন্ট ভবনটি গণতন্ত্রের একটি সিম্বল বা প্রতীকের মর্যাদা অর্জন করেছে। বর্তমান বৃত্তাকার এই ভবনটির ডিজাইন করা হয় ১৯১২-১৩ সালে। কাজ শেষ হয় ১৯২৭ সালে। ডিজাইনার ছিলেন এডউইন লুটিয়েন্স ও হার্বার্ট বেকার।

এটি তৈরি করা হয়েছিল ভারতের সবচেয়ে পুরনো প্রত্নতত্ত্ব সাইট চাউসাথ ইয়োগিনি টেম্পলের আদলে। নতুন ভবন তৈরি করা হচ্ছে এবং ২০২২ সালের মধ্যে সেখানে অধিবেশন শুরু করার দিনক্ষণও ঠিক করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে পুরাতন ভবনের কী হবে।

এ সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া না হলেও এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হতে পারে- এমন প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির সমালোচনাও হচ্ছে ভারতে। অনেকে বলছেন, যখন করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ মারাত্মক সমস্যায় ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি তলানিতে, তখন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির জন্য এত টাকা খরচ না করে এই অর্থ করোনা মোকাবেলায় ব্যয় করাই উত্তম।

সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এমপির ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নতুন সুপরিসর পার্লামেন্ট ভবন তৈরির বিকল্প নেই। এছাড়া ডিজাইন, কাজের স্থায়িত্ব ইত্যাদি নিয়েও বিতর্ক আছে।

অবশ্য বর্তমান পার্লামেন্ট ভবন নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক ছিল। এমনকি খোদ ডিজাইনার হার্বার্টও ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।

নতুন সংসদ ভবন বানাচ্ছে ভারত

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের পার্লামেন্ট ভবন মানেই যে কারও চোখে ভেসে উঠবে গোলাকার একটি ভবন। কিন্তু সরকার এই ভবন বাদ দিয়ে এর পাশেই নতুন একটি পার্লামেন্ট ভবন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নতুন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে টাটা গ্রুপ। ৮৬২ কোটি রুপি ব্যয়ে এটি তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯৯২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার ২০-২১ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। পার্লামেন্ট তৈরির এ সময়সীমা খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেঁধে দিয়েছেন। ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৫তম প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন পার্লামেন্ট ভবনে অধিবেশন আয়োজন করতে চান তিনি।

দিল্লিতে ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপনাগুলো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভারত সরকার এই পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ করছে। এটি হবে ত্রিকোণাকৃতির। তিন তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনে এক হাজার ৪০০ এমপি একসঙ্গে বসতে পারবেন। পিটিআই, বিবিসি, হিন্দুস্তান টাইমস।

সরকারের অবশ্য নতুন ভবন তৈরির জন্য সর্বোচ্চ বাজেট ছিল ৯৮০ কোটি রুপি। নতুন পার্লামেন্ট ভবনের সঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর তথা নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লককেও যুক্ত করতে চায় সরকার। এছাড়া নতুন প্রধানমন্ত্রী হাউস ও সেন্ট্রাল ভিস্তা তৈরি করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট- তিন কিলোমিটারজুড়ে হবে সেন্ট্রাল ভিস্টা। সেখানে কেন্দ্রীয় সব মন্ত্রণালয়কে একীভূত করা হবে। এর কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের মধ্যে।

পুরনো পার্লামেন্ট বা লোকসভা ভবনটি ১২ একর জায়গার ওপর নির্মিত। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই পার্লামেন্ট ভবন ভারতের বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। নতুন ত্রিকোণাকৃতির যে লোকসভা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটি তৈরি হবে পুরনো ভবনেরই পাশে ১৩ একর জায়গায়। বস্তুত, পার্লামেন্ট ভবন নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে এমপিদের জায়গা সংকুলান করার জন্য।

বর্তমানে যে পার্লামেন্ট ভবন আছে এটি ৫৪৫ সদস্যকে কেন্দ্র করে তৈরি। কিন্তু ভারত চাচ্ছে তাদের এমপি সংখ্যা বাড়াতে। লোক সংখ্যার অনুপাতে পার্লামেন্টের সদস্যও বাড়ানো দরকার হয়ে পড়েছে।

ফলে নতুন তৈরি হতে যাওয়া ভবনটিতে মোট ১৪০০ জনের আসনের ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে এমপিদের জন্য রাখা হবে ৯০০টি। আর এটি রাখা হবে পার্লামেন্টের জয়েন্ট সেশন বা যৌথসভা করার ক্ষেত্রে যাতে স্থান সংকুলানের সমস্যা না হয়।

২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮৪৮ জন হতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট লোকসভার সদস্য সংখ্যা। অবশ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ২০১৯ সালে পার্লামেন্ট সদস্য প্রায় দ্বিগুণ বা এক হাজার করার প্রস্তাব করেছিলেন।

নতুন পার্লামেন্ট ভবনসহ সেন্ট্রাল ভিস্তার নতুন ডিজাইন তৈরির প্রধান আর্কিটেক্ট বিমল প্যাটেল জানিয়েছেন, পরিকল্পনার মধ্যে একটি ভিন্ন লাউঞ্জ তৈরির বিষয়ও রয়েছে। এছাড়া এখনও সিদ্ধান্ত না হলেও এমপিদের অফিস স্পেস তৈরিও হতে পারে একই পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সের ভেতরে।

বিমল বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং আকাশের দিকে উন্মুক্ত উঠোন, যার আশপাশে হবে একটি লাউঞ্জ এবং অধিবেশন বন্ধের সময় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত কক্ষ থাকবে মাঝখানে। আর মূল ভবনের উভয় পাশে থাকবে অফিস কক্ষগুলো।

এরই মধ্যে প্যাটেল ও তার দল বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট ভবনের আকৃতি দেখতে শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে কিউবা, মিসর, সিঙ্গাপুর ও জার্মানির আদল দেখছেন তারা।

ভারতকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। যদিও বর্তমান উগ্র জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানকার গণতন্ত্র নিয়ে খোদ দেশের ভেতর থেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। তারপরও ভোটার ও ভোটের আকৃতিতে এখনও সবচেয়ে বড় গণন্ত্রের মর্যাদা পাচ্ছে ভারত।

সেক্ষেত্রে দেশটির পার্লামেন্ট ভবনটি গণতন্ত্রের একটি সিম্বল বা প্রতীকের মর্যাদা অর্জন করেছে। বর্তমান বৃত্তাকার এই ভবনটির ডিজাইন করা হয় ১৯১২-১৩ সালে। কাজ শেষ হয় ১৯২৭ সালে। ডিজাইনার ছিলেন এডউইন লুটিয়েন্স ও হার্বার্ট বেকার।

এটি তৈরি করা হয়েছিল ভারতের সবচেয়ে পুরনো প্রত্নতত্ত্ব সাইট চাউসাথ ইয়োগিনি টেম্পলের আদলে। নতুন ভবন তৈরি করা হচ্ছে এবং ২০২২ সালের মধ্যে সেখানে অধিবেশন শুরু করার দিনক্ষণও ঠিক করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে পুরাতন ভবনের কী হবে।

এ সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া না হলেও এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হতে পারে- এমন প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির সমালোচনাও হচ্ছে ভারতে। অনেকে বলছেন, যখন করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ মারাত্মক সমস্যায় ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি তলানিতে, তখন পার্লামেন্ট ভবন তৈরির জন্য এত টাকা খরচ না করে এই অর্থ করোনা মোকাবেলায় ব্যয় করাই উত্তম।

সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এমপির ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নতুন সুপরিসর পার্লামেন্ট ভবন তৈরির বিকল্প নেই। এছাড়া ডিজাইন, কাজের স্থায়িত্ব ইত্যাদি নিয়েও বিতর্ক আছে।

অবশ্য বর্তমান পার্লামেন্ট ভবন নিয়ে এ ধরনের বিতর্ক ছিল। এমনকি খোদ ডিজাইনার হার্বার্টও ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।