মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার ডামি প্রকাশ চীনের
jugantor
মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার ডামি প্রকাশ চীনের

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে মার্কিন একটি ঘাঁটিতে ডামি হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে চীনের বিমানবাহিনী। শনিবার বিমানবাহিনীর ইউবো অ্যাকাউন্টে আপলোড করা ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখানো হয়, পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম চীনা বাহিনীর এইচ-৬ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা করে অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ।

ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে হলিউড মুভির ট্রেলারের মতো মোহনীয় মিউজিক ব্যবহার করা হয়। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। গুয়াম যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যে কোনো হামলার ক্ষেত্রে এটিই হবে দেশটির প্রধান কমান্ডিং স্থান। চীনা বাহিনীর ডামি হামলার ভিডিওতে দেখানো হয়, মরুভূমির একটি ঘাঁটি থেকে এইচ-৬ বিমানটি উড়ে যাচ্ছে এবং কিছু দূর যাওয়ার পর একজন পাইলট সুইচ টিপে বোমা হামলা করছেন। এ সময় ঘোষণা করা হয় ‘যুদ্ধের দেবতা এইচ-৬ আক্রমণে যাচ্ছে।’

ভিডিওটিতে একটি স্যাটেলাইট চিত্র দেখানো হয়। যাতে বোঝা যায় হামলার লক্ষ্যবস্তু অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি। তার পর আসে সমুদ্র তীরের কাছে রানওয়ের চিত্র এবং কিছু দূর উড়ে গিয়ে চিহ্নিত করা যায় না এমন একটি ঘাঁটিতে হামলা। যদিও ঘাঁটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায় না; কিন্তু স্যাটেলাইটে দেখানো রানওয়ের চিত্র থেকে স্পষ্ট যে, এটি অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় ব্যাকগ্রাউন্ড ভিডিও।

ভিডিওটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় চীনা বিমানবাহিনী লিখেছে, ‘আমরা মাদারল্যান্ডের আকাশ নিরাপত্তা রক্ষাকারী। মাতৃভূমির আকাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা আমাদের আছে।’ ভিডিওটি সম্পর্কে মন্তব্য চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কেউই কোনো মন্তব্য করেনি।

তাইওয়ানের বিমানবাহিনী বলছে, দেশের চারপাশে বিভিন্ন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় চীনের এইচ-৬ বিমান দিয়ে। এইচ-৬ হল চীনা বোমারু বিমানের সর্বশেষ নতুন প্রযুক্তি। এটি ১৯৫০ এর দশকের সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিনটেজ সোভিয়েত টিইউ-১৬-এর আদলে তৈরি।

যে কোনো যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাইওয়ানে হামলার দায়িত্বে থাকা চীনের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড সোমবার নিজস্ব প্রোপাগান্ডা সমৃদ্ধ এই ভিডিও প্রকাশ করেছে। ‘আজকে যুদ্ধ বেঁধে গেলে কী করতে হবে’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে দেখানো হয় সেনারা দৌড়ে কাঠ সদৃশ পাহাড় পার হচ্ছে এবং মিসাইল হামলা শুরু করছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানোর পাশাপাশি সেখানে সোনালি রঙের চীনা সেনা পড়ে শোনায় ‘মাতৃভূমি, আমি শপথ করছি আমার শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত তোমার জন্য লড়াই করব।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিডিওটির উদ্দেশ্য হল নিরাপদ মনে করা হলেও সংঘর্ষ বাধলে হুমকির মুখে পড়তে পারে অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটিসহ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মার্কিন সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ঘ কয়েক কর্মকর্তা তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে সফরের আগেই ভিডিওটি প্রকাশ করল চীন। চীন তাইওয়ানকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হানি হিসেবে দেখে থাকে।

মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার ডামি প্রকাশ চীনের

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে মার্কিন একটি ঘাঁটিতে ডামি হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে চীনের বিমানবাহিনী। শনিবার বিমানবাহিনীর ইউবো অ্যাকাউন্টে আপলোড করা ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখানো হয়, পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম চীনা বাহিনীর এইচ-৬ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা করে অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ।

ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে হলিউড মুভির ট্রেলারের মতো মোহনীয় মিউজিক ব্যবহার করা হয়। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। গুয়াম যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যে কোনো হামলার ক্ষেত্রে এটিই হবে দেশটির প্রধান কমান্ডিং স্থান। চীনা বাহিনীর ডামি হামলার ভিডিওতে দেখানো হয়, মরুভূমির একটি ঘাঁটি থেকে এইচ-৬ বিমানটি উড়ে যাচ্ছে এবং কিছু দূর যাওয়ার পর একজন পাইলট সুইচ টিপে বোমা হামলা করছেন। এ সময় ঘোষণা করা হয় ‘যুদ্ধের দেবতা এইচ-৬ আক্রমণে যাচ্ছে।’

ভিডিওটিতে একটি স্যাটেলাইট চিত্র দেখানো হয়। যাতে বোঝা যায় হামলার লক্ষ্যবস্তু অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি। তার পর আসে সমুদ্র তীরের কাছে রানওয়ের চিত্র এবং কিছু দূর উড়ে গিয়ে চিহ্নিত করা যায় না এমন একটি ঘাঁটিতে হামলা। যদিও ঘাঁটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায় না; কিন্তু স্যাটেলাইটে দেখানো রানওয়ের চিত্র থেকে স্পষ্ট যে, এটি অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় ব্যাকগ্রাউন্ড ভিডিও।

ভিডিওটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় চীনা বিমানবাহিনী লিখেছে, ‘আমরা মাদারল্যান্ডের আকাশ নিরাপত্তা রক্ষাকারী। মাতৃভূমির আকাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা আমাদের আছে।’ ভিডিওটি সম্পর্কে মন্তব্য চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কেউই কোনো মন্তব্য করেনি।

তাইওয়ানের বিমানবাহিনী বলছে, দেশের চারপাশে বিভিন্ন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় চীনের এইচ-৬ বিমান দিয়ে। এইচ-৬ হল চীনা বোমারু বিমানের সর্বশেষ নতুন প্রযুক্তি। এটি ১৯৫০ এর দশকের সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিনটেজ সোভিয়েত টিইউ-১৬-এর আদলে তৈরি।

যে কোনো যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাইওয়ানে হামলার দায়িত্বে থাকা চীনের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড সোমবার নিজস্ব প্রোপাগান্ডা সমৃদ্ধ এই ভিডিও প্রকাশ করেছে। ‘আজকে যুদ্ধ বেঁধে গেলে কী করতে হবে’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে দেখানো হয় সেনারা দৌড়ে কাঠ সদৃশ পাহাড় পার হচ্ছে এবং মিসাইল হামলা শুরু করছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানোর পাশাপাশি সেখানে সোনালি রঙের চীনা সেনা পড়ে শোনায় ‘মাতৃভূমি, আমি শপথ করছি আমার শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত তোমার জন্য লড়াই করব।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিডিওটির উদ্দেশ্য হল নিরাপদ মনে করা হলেও সংঘর্ষ বাধলে হুমকির মুখে পড়তে পারে অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটিসহ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মার্কিন সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ঘ কয়েক কর্মকর্তা তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে সফরের আগেই ভিডিওটি প্রকাশ করল চীন। চীন তাইওয়ানকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হানি হিসেবে দেখে থাকে।