চীনের নিশানায় এবার উতসুল মুসলিমরা
jugantor
চীনের নিশানায় এবার উতসুল মুসলিমরা

  যুগান্তর ডেস্ক  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের নিশানায় এবার উতসুল মুসলিমরা

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে চীনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিকমহলের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় চীনকে।

উইঘুরদের পর এবার চীনের নিশানায় পরিণত হয়েছে দেশটির হাইনান প্রদেশে বসবাসকারী উতসুল মুসলিম সম্প্রদায়। সেখানকার মুসলিমদের ওপর চীনা কর্তৃপক্ষ নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিংপোস্টের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে চীনের হাইনান প্রদেশের সানিয়া এলাকায় বসবাস করেন উতসুল সম্প্রদায়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

শি জিনপিং প্রশাসন নানাভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। মূলত ওই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা নিয়েই আপত্তি রয়েছে শি জিনপিং প্রশাসনের।

এ জন্য ওই সম্প্রদায়ের কিশোরী, যুবতী ও নারীদের হিজাব পরে স্কুল, কলেজ ও অফিসে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন উতসুল সম্প্রদায়ের মানুষ। ২০১৫ সালে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে জিনজিয়াং প্রশাসন। আরবীয় ধাঁচে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে প্রদেশটিতে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সানিয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে একদল মেয়ে হিজাব পরে নিজেদের পাঠ্যবই পড়ছে। আর চারদিক দিয়ে তাদের ঘিরে রেখেছে চীনের পুলিশ। হিজাব পরে থাকার জন্য তাদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

খাদ্য ঘাটতি থেকে নজর ফেরাতে কঠিন পথ ধরবেন শি : ইয়াংসি নদী অববাহিকার অঞ্চলগুলোয় ভয়ংকর বন্যায় ৬০ লাখ হেক্টর কৃষিজমির ফসল বরবাদ হয়ে গেছে। কোভিড মহামারীজনিত ক্ষতির পাশাপাশি প্রবল বর্ষণের প্রভাবে হওয়া ভূমিধসের কারণে ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপারগুলো চীনের জন্য চলতি বছরটাকে ‘অপয়া বছর’ করে তুলেছে।

‘ইকোনমিক টাইমস’ জানায়, তীব্র খাদ্য ঘাটতির দ্বারপ্রান্তে চীন। সমস্যাটি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বেশ চাপের মধ্যে রেখেছে।

চাপে পড়ে শি কী করতে পারেন? ‘দ্য তাইপে টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, খাদ্য ঘাটতি থেকে চীনা জনগণের নজর ফেরাতে শি জিনপিং কঠিন পথ ধরতে পারেন। পথটা হল সংঘাতের পথ এবং সেটা ভারত সীমান্তে ঝামেলা বাঁধানোর মতো সহজ কিছু নয়। তাই তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ভয়াবহ সংঘাত তৈরি করার আশঙ্কা রয়েছে।

জুলাই মাসে চীনে খাদ্য মূল্য বেড়েছে শতকরা ১৩ ভাগ। শূকরের মূল্য বেড়েছে ৮৫ ভাগ। উচ্চমূল্যের আশায় চাষীরা ফসল মজুত করছে। শুরুতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ‘বাম্পার ফলন’ হবে প্রচার করা হলেও, পরের দিকে খাদ্য অপচয় বন্ধের আবেদন জানানো হয়।

প্রেসিডেন্ট শি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতায় অপচয় লজ্জাকর আর একটু একটু করে সঞ্চয় করা প্রশংসনীয়- এ রকম একটা সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

তাইপে টাইমস বলছে, এই ডাক অনেকটা ‘দিনে শুধু দু’বেলা খাবে’ ডাকের মতোই। ১৯৫৯-১৯৬১ পর্যন্ত চলমান বিরাট দুর্ভিক্ষের সময় মাওজেদং এ রকম প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তাইওয়ানি পত্রিকাটির ধারণা, খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে যে দুর্ভিক্ষ হবে তা থেকে দেশবাসীর নজর ফেরাতে আগ্রাসনের মওকা খুঁজছেন শি।

চীনের নিশানায় এবার উতসুল মুসলিমরা

 যুগান্তর ডেস্ক 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চীনের নিশানায় এবার উতসুল মুসলিমরা
ছবি: সংগৃহীত

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে চীনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিকমহলের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় চীনকে।

উইঘুরদের পর এবার চীনের নিশানায় পরিণত হয়েছে দেশটির হাইনান প্রদেশে বসবাসকারী উতসুল মুসলিম সম্প্রদায়। সেখানকার মুসলিমদের ওপর চীনা কর্তৃপক্ষ নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিংপোস্টের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে চীনের হাইনান প্রদেশের সানিয়া এলাকায় বসবাস করেন উতসুল সম্প্রদায়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

শি জিনপিং প্রশাসন নানাভাবে তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। মূলত ওই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা নিয়েই আপত্তি রয়েছে শি জিনপিং প্রশাসনের।

এ জন্য ওই সম্প্রদায়ের কিশোরী, যুবতী ও নারীদের হিজাব পরে স্কুল, কলেজ ও অফিসে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন উতসুল সম্প্রদায়ের মানুষ। ২০১৫ সালে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে জিনজিয়াং প্রশাসন। আরবীয় ধাঁচে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে প্রদেশটিতে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সানিয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে একদল মেয়ে হিজাব পরে নিজেদের পাঠ্যবই পড়ছে। আর চারদিক দিয়ে তাদের ঘিরে রেখেছে চীনের পুলিশ। হিজাব পরে থাকার জন্য তাদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

খাদ্য ঘাটতি থেকে নজর ফেরাতে কঠিন পথ ধরবেন শি : ইয়াংসি নদী অববাহিকার অঞ্চলগুলোয় ভয়ংকর বন্যায় ৬০ লাখ হেক্টর কৃষিজমির ফসল বরবাদ হয়ে গেছে। কোভিড মহামারীজনিত ক্ষতির পাশাপাশি প্রবল বর্ষণের প্রভাবে হওয়া ভূমিধসের কারণে ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপারগুলো চীনের জন্য চলতি বছরটাকে ‘অপয়া বছর’ করে তুলেছে।

‘ইকোনমিক টাইমস’ জানায়, তীব্র খাদ্য ঘাটতির দ্বারপ্রান্তে চীন। সমস্যাটি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বেশ চাপের মধ্যে রেখেছে।

চাপে পড়ে শি কী করতে পারেন? ‘দ্য তাইপে টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, খাদ্য ঘাটতি থেকে চীনা জনগণের নজর ফেরাতে শি জিনপিং কঠিন পথ ধরতে পারেন। পথটা হল সংঘাতের পথ এবং সেটা ভারত সীমান্তে ঝামেলা বাঁধানোর মতো সহজ কিছু নয়। তাই তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ভয়াবহ সংঘাত তৈরি করার আশঙ্কা রয়েছে।

জুলাই মাসে চীনে খাদ্য মূল্য বেড়েছে শতকরা ১৩ ভাগ। শূকরের মূল্য বেড়েছে ৮৫ ভাগ। উচ্চমূল্যের আশায় চাষীরা ফসল মজুত করছে। শুরুতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ‘বাম্পার ফলন’ হবে প্রচার করা হলেও, পরের দিকে খাদ্য অপচয় বন্ধের আবেদন জানানো হয়।

প্রেসিডেন্ট শি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতায় অপচয় লজ্জাকর আর একটু একটু করে সঞ্চয় করা প্রশংসনীয়- এ রকম একটা সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

তাইপে টাইমস বলছে, এই ডাক অনেকটা ‘দিনে শুধু দু’বেলা খাবে’ ডাকের মতোই। ১৯৫৯-১৯৬১ পর্যন্ত চলমান বিরাট দুর্ভিক্ষের সময় মাওজেদং এ রকম প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তাইওয়ানি পত্রিকাটির ধারণা, খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে যে দুর্ভিক্ষ হবে তা থেকে দেশবাসীর নজর ফেরাতে আগ্রাসনের মওকা খুঁজছেন শি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : চীনে উইঘুর নির্যাতন