বাবরি মসজিদ মামলার ৩২ আসামিই খালাস
jugantor
বাবরি মসজিদ মামলার ৩২ আসামিই খালাস

  যুগান্তর ডেস্ক  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগে থেকে বাবরি মসজিদ ভাঙার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ২৮ বছরের পুরনো মামলায় রায় দিতে গিয়ে বুধবার এমনই বললেন লখনৌয়ের সিবিআই আদালতের বিচারক। ওই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন ৩২ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশী, উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনয় কাটিহার, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ। আদালত এদিন ৩২ জন অভিযুক্তকেই নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বিচারক তার রায়ে পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেন। প্রথমত, পরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তৃতীয়ত সিবিআই যে ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড পেশ করেছে, তা প্রামাণ্য কিনা জানা যাচ্ছে না। চতুর্থত, সমাজবিরোধীরা মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্তরা তাদের থামাতে চেষ্টা করেছিলেন। পঞ্চমত, অডিও ক্যাসেটে কয়েকজনের ভাষণ শোনা যাচ্ছে বটে কিন্তু কী বলা হয়েছে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। করসেবকরা বিশ্বাস করত, যেখানে বাবরি মসজিদ দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেই জন্ম হয়েছিল রামচন্দ্রের। তাই তারা মসজিদটি ভেঙে ফেলে। তারপরে দেশজুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়। সরকারি হিসাবমতো দাঙ্গায় ৩০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। অযোধ্যার জমি নিয়ে যে মামলা চলছিল, তা এই বাবরি ভাঙার মামলার থেকে আলাদা। জমির মামলায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিমকোর্ট রায় দিয়েছেন। ৫ আগস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাবরি মসজিদ ভাঙা পড়ার পরে পুলিশ দুটি এফআইআর করে। প্রথমটি করা হয় কয়েক লাখ করসেবকের বিরুদ্ধে। তারা ৬ ডিসেম্বর মসজিদের ওপরে উঠে হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে সৌধটি ভেঙে ফেলেছিলেন। দ্বিতীয় এফআইআরটি হয় আটজনের বিরুদ্ধে। তারা হলেন বিজেপির আদভানি, যোশী, উমা ভারতী এবং বিনয় কাটিহার এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিষ্ণুহরি ডালমিয়া এবং সাধ্বী ঋতাম্ভরা। তাদের মধ্যে বিষ্ণুহরি ডালমিয়া, গিরিরাজ কিশোর ও অশোক সিঙ্ঘল মারা গেছেন। করসেবকদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করে সিবিআই। অন্যদিনে বিজেপি ও ভিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় উত্তরপ্রদেশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে।

বাবরি মসজিদ মামলার ৩২ আসামিই খালাস

 যুগান্তর ডেস্ক 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগে থেকে বাবরি মসজিদ ভাঙার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ২৮ বছরের পুরনো মামলায় রায় দিতে গিয়ে বুধবার এমনই বললেন লখনৌয়ের সিবিআই আদালতের বিচারক। ওই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন ৩২ জন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশী, উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনয় কাটিহার, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ। আদালত এদিন ৩২ জন অভিযুক্তকেই নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বিচারক তার রায়ে পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেন। প্রথমত, পরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তৃতীয়ত সিবিআই যে ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড পেশ করেছে, তা প্রামাণ্য কিনা জানা যাচ্ছে না। চতুর্থত, সমাজবিরোধীরা মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্তরা তাদের থামাতে চেষ্টা করেছিলেন। পঞ্চমত, অডিও ক্যাসেটে কয়েকজনের ভাষণ শোনা যাচ্ছে বটে কিন্তু কী বলা হয়েছে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। করসেবকরা বিশ্বাস করত, যেখানে বাবরি মসজিদ দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেই জন্ম হয়েছিল রামচন্দ্রের। তাই তারা মসজিদটি ভেঙে ফেলে। তারপরে দেশজুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়। সরকারি হিসাবমতো দাঙ্গায় ৩০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। অযোধ্যার জমি নিয়ে যে মামলা চলছিল, তা এই বাবরি ভাঙার মামলার থেকে আলাদা। জমির মামলায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিমকোর্ট রায় দিয়েছেন। ৫ আগস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাবরি মসজিদ ভাঙা পড়ার পরে পুলিশ দুটি এফআইআর করে। প্রথমটি করা হয় কয়েক লাখ করসেবকের বিরুদ্ধে। তারা ৬ ডিসেম্বর মসজিদের ওপরে উঠে হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে সৌধটি ভেঙে ফেলেছিলেন। দ্বিতীয় এফআইআরটি হয় আটজনের বিরুদ্ধে। তারা হলেন বিজেপির আদভানি, যোশী, উমা ভারতী এবং বিনয় কাটিহার এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিষ্ণুহরি ডালমিয়া এবং সাধ্বী ঋতাম্ভরা। তাদের মধ্যে বিষ্ণুহরি ডালমিয়া, গিরিরাজ কিশোর ও অশোক সিঙ্ঘল মারা গেছেন। করসেবকদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করে সিবিআই। অন্যদিনে বিজেপি ও ভিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় উত্তরপ্রদেশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে।