যুক্তরাষ্ট্রে বদলে যাচ্ছে বিতর্কের নিয়ম
jugantor
যুক্তরাষ্ট্রে বদলে যাচ্ছে বিতর্কের নিয়ম

  যুগান্তর ডেস্ক  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করার পর প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক পর্যালোচনাকারী সংস্থা- কমিশন অন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটস (সিপিডি) বলেছে, বিতর্কের ফরম্যাটে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যকার বাকি দুটি মুখোমুখি বিতর্ক যাতে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে করার জন্যই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিবিসি, রয়টার্স।

সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে বিতর্কের সময় এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীর বক্তব্যের সময় হস্তেক্ষেপের চেষ্টা করে। তবে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেয়ার নিয়মও যুক্ত করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রথম বিতর্কে একজন আরেকজনকে তীব্র আক্রমণ, অপমান ও বিদ্রূপ করেন। বিতর্কে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের উগ্রডানপন্থী গ্রুপ প্রাউড বয়েজের মন্তব্য টেনে আনেন। বিতর্কের ধরন ও কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয় সিপিডি।

সিপিডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘প্রথম বিতর্ক এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে, আরও নিয়ম কাঠামো যোগ করতে হবে। যাতে করে বাকি বিতর্কগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে আরও সুশৃঙ্খল আলোচনা নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন খুব যত্নসহকারে বিবেচনা করবে সিপিডি এবং নতুন নিয়ম করে দ্রুত সেগুলো ঘোষণা করা হবে।’ বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তনের পরিকল্পনার এই ঘোষণার সমালোচনা করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণাশিবির। মঙ্গলবারের প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে টানা প্রতিপক্ষ বাইডেনের বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে গেছেন। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরস্পরকে দোষারোপ করেন। ট্রাম্প বাইডেনের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আর বাইডেন ট্রাম্পকে বলেন ভাঁড়। এছাড়া ট্রাম্পকে চুপ থাকার দিকে ইঙ্গিত করে বাইডেন বলেন, ‘তুমি কি থামবে, হে (উইল ইউ শাট আপ ম্যান)? পুরো বিতর্কজুড়ে ট্রাম্প সঞ্চালক ও বাইডেনের কথার মধ্যে হস্তক্ষেপ করে যান। ওই বিতর্কের সঞ্চালক ছিলেন ক্রিস ওয়ালেস। তিনি দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নেন এবং বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনার কথা বলেন। সিপিডি তার ভূমিকার প্রশংসা করেছে। বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে একটি মিউট বাটনের ব্যবহার হেল্পফুল হতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন বাইডেন। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, সিপিডি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিতর্কের নিয়মনীতি ঠিক করার কাজ করে যাচ্ছে সিপিডি। এতে প্রার্থীর মাইক্রোফোন নিয়ন্ত্রণের বিষয় থাকছে সবার ওপরে। পরস্পর যাতে একে-অপরের ও সঞ্চালকের বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে জন্যই এমন উদ্যোগ। পরিবর্তিত নিয়ম দুই প্রার্থীর প্রচারণাশিবিরকে জানিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু তাদের সেখানে কোনো ধরনের পরিবর্তনের অধিকার থাকবে না। সিপিডি একটি নিরপেক্ষ সংস্থা এবং ১৯৮৮ সাল থেকে এটি প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক পরিচালনা করে আসছে।

প্রথম মুখোমুখি বিতর্কের পর ট্রাম্পের সমালোচনা হচ্ছে সর্বত্র। বাইডেনেরও কিছু সমালোচনা হচ্ছে, তবে সেটি ট্রাম্পের তুলনায় অনেক কম। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে। ফান্ড সংগ্রহ, জনমত জরিপ ও অন্যান্য সূচকেও ট্রাম্পকে পেছনে ফেলছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে নতুন নতুন বিতর্ক সামনে নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। নির্বাচনে জয়ী কে- কয়েক মাসেও জানা যাবে না, পরাজিত হলে ক্ষমতা ছাড়বেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় বাধিয়ে রাখার পর এবার সঞ্চালক তথা বিতর্কের মডারেটরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতের বিতর্কের পর বুধবার সকালে টুইট করে ট্রাম্প বলেন ‘ক্রিস খুবই কঠিন রাত পার করেছে’ এবং বিতর্কটি ছিল ‘দু’জনের বিরুদ্ধে একজনের’।

যুক্তরাষ্ট্রে বদলে যাচ্ছে বিতর্কের নিয়ম

 যুগান্তর ডেস্ক 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করার পর প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক পর্যালোচনাকারী সংস্থা- কমিশন অন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটস (সিপিডি) বলেছে, বিতর্কের ফরম্যাটে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যকার বাকি দুটি মুখোমুখি বিতর্ক যাতে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে করার জন্যই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিবিসি, রয়টার্স।

সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে বিতর্কের সময় এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীর বক্তব্যের সময় হস্তেক্ষেপের চেষ্টা করে। তবে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেয়ার নিয়মও যুক্ত করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রথম বিতর্কে একজন আরেকজনকে তীব্র আক্রমণ, অপমান ও বিদ্রূপ করেন। বিতর্কে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের উগ্রডানপন্থী গ্রুপ প্রাউড বয়েজের মন্তব্য টেনে আনেন। বিতর্কের ধরন ও কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয় সিপিডি।

সিপিডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘প্রথম বিতর্ক এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে, আরও নিয়ম কাঠামো যোগ করতে হবে। যাতে করে বাকি বিতর্কগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে আরও সুশৃঙ্খল আলোচনা নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন খুব যত্নসহকারে বিবেচনা করবে সিপিডি এবং নতুন নিয়ম করে দ্রুত সেগুলো ঘোষণা করা হবে।’ বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তনের পরিকল্পনার এই ঘোষণার সমালোচনা করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণাশিবির। মঙ্গলবারের প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে টানা প্রতিপক্ষ বাইডেনের বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে গেছেন। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরস্পরকে দোষারোপ করেন। ট্রাম্প বাইডেনের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আর বাইডেন ট্রাম্পকে বলেন ভাঁড়। এছাড়া ট্রাম্পকে চুপ থাকার দিকে ইঙ্গিত করে বাইডেন বলেন, ‘তুমি কি থামবে, হে (উইল ইউ শাট আপ ম্যান)? পুরো বিতর্কজুড়ে ট্রাম্প সঞ্চালক ও বাইডেনের কথার মধ্যে হস্তক্ষেপ করে যান। ওই বিতর্কের সঞ্চালক ছিলেন ক্রিস ওয়ালেস। তিনি দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নেন এবং বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনার কথা বলেন। সিপিডি তার ভূমিকার প্রশংসা করেছে। বিতর্কের নিয়মে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে একটি মিউট বাটনের ব্যবহার হেল্পফুল হতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন বাইডেন। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, সিপিডি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিতর্কের নিয়মনীতি ঠিক করার কাজ করে যাচ্ছে সিপিডি। এতে প্রার্থীর মাইক্রোফোন নিয়ন্ত্রণের বিষয় থাকছে সবার ওপরে। পরস্পর যাতে একে-অপরের ও সঞ্চালকের বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে জন্যই এমন উদ্যোগ। পরিবর্তিত নিয়ম দুই প্রার্থীর প্রচারণাশিবিরকে জানিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু তাদের সেখানে কোনো ধরনের পরিবর্তনের অধিকার থাকবে না। সিপিডি একটি নিরপেক্ষ সংস্থা এবং ১৯৮৮ সাল থেকে এটি প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক পরিচালনা করে আসছে।

প্রথম মুখোমুখি বিতর্কের পর ট্রাম্পের সমালোচনা হচ্ছে সর্বত্র। বাইডেনেরও কিছু সমালোচনা হচ্ছে, তবে সেটি ট্রাম্পের তুলনায় অনেক কম। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে। ফান্ড সংগ্রহ, জনমত জরিপ ও অন্যান্য সূচকেও ট্রাম্পকে পেছনে ফেলছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে নতুন নতুন বিতর্ক সামনে নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। নির্বাচনে জয়ী কে- কয়েক মাসেও জানা যাবে না, পরাজিত হলে ক্ষমতা ছাড়বেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় বাধিয়ে রাখার পর এবার সঞ্চালক তথা বিতর্কের মডারেটরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতের বিতর্কের পর বুধবার সকালে টুইট করে ট্রাম্প বলেন ‘ক্রিস খুবই কঠিন রাত পার করেছে’ এবং বিতর্কটি ছিল ‘দু’জনের বিরুদ্ধে একজনের’।