থাইল্যান্ডে বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগে নারাজ প্রধানমন্ত্রী
jugantor
থাইল্যান্ডে বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগে নারাজ প্রধানমন্ত্রী

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থার মধ্যে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা।

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থার মধ্যে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা।

শুক্রবার মন্ত্রিসভায় একটি জরুরি বৈঠকের পর ওচা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি পদত্যাগ করছি না।

সরকারকে অবশ্যই জরুরি অবস্থার ডিক্রি জারি করতে হবে। আমাদের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, কারণ পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠছে... এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ৩০ দিন বা তার চেয়ে কম সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে।’

বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণকে এই জরুরি অবস্থার বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিচ্ছি। আমরা বলছি, অপেক্ষা করুন, দেখুন কি হয়। আপনারা ভুল কিছু করলে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’

এদিকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষোভকারীরা। বৃহস্পতিবার যেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল সেখান থেকে এক দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরে শুক্রবার সমবেত হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।

ফেসবুক পেজে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম নেতা পানুপং জাদনং লিখেছেন, ‘পুলিশ বিক্ষোভ ঠেকাতে রাতচাপ্রাসং বন্ধ করে দিয়েছে... আমাদের অবরোধ এড়াতে হবে। লড়াই!!!’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচার পদত্যাগ দাবিতে øোগান দিয়েছে। এক পর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নতুন জমায়েতস্থল ঘিরে ফেলে।

থাইল্যান্ডে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণর ক্ষমতা খর্ব করা এবং প্রধানমন্ত্রী ওচার পদত্যাগের দাবিতে প্রায় তিন মাস ধরে চলে আসা বিক্ষোভের মধ্যে বৃহস্পতিবার সরকার জরুরি ডিক্রি জারি করে চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করে।

এ ঘোষণার পরপরই সরকারি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় আটক করা হয় অন্তত ২০ জনকে। এদিন বিকালেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককে বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে।

রাতে আরও বড় আকারে রূপ নেয় বিক্ষোভ। এ সময় আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলকারী প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচার পদত্যাগ চায়।

তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে গত বছরের নির্বাচনেও কারসাজি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তবে ওচা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল।

বিক্ষোভকারীরা থাইল্যান্ডে সামরিক শাসনের অধীনে রচিত খসড়া সংবিধানের পরিবর্তে একটি নতুন সংবিধানও দাবি করেছে।

পাশাপাশি ডাক উঠেছে রাজতন্ত্র সংস্কারের। রাজতন্ত্র দেশের রাজনীতিতে কয়েক দশকের সামরিক প্রভাবকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা।

তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-থাই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন, সামরিক সরকারের লেখা সংবিধান সংশোধন, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজশাসন সংস্কার।

চলমান এ বিক্ষোভ সম্পর্কে থাম্মাসাত বিজনেস স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক পাভিদা পানানন্দ বলেন, সরকারি আদেশ অমান্য করেও রাস্তায় এত মানুষের বিক্ষোভ আশ্চর্যজনক কিছু নয়।

থাইল্যান্ডে বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগে নারাজ প্রধানমন্ত্রী

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থার মধ্যে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা।
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থার মধ্যে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা।

শুক্রবার মন্ত্রিসভায় একটি জরুরি বৈঠকের পর ওচা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি পদত্যাগ করছি না।

সরকারকে অবশ্যই জরুরি অবস্থার ডিক্রি জারি করতে হবে। আমাদের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, কারণ পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠছে... এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ৩০ দিন বা তার চেয়ে কম সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে।’

বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণকে এই জরুরি অবস্থার বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিচ্ছি। আমরা বলছি, অপেক্ষা করুন, দেখুন কি হয়। আপনারা ভুল কিছু করলে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।’

এদিকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষোভকারীরা। বৃহস্পতিবার যেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল সেখান থেকে এক দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরে শুক্রবার সমবেত হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।

ফেসবুক পেজে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম নেতা পানুপং জাদনং লিখেছেন, ‘পুলিশ বিক্ষোভ ঠেকাতে রাতচাপ্রাসং বন্ধ করে দিয়েছে... আমাদের অবরোধ এড়াতে হবে। লড়াই!!!’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচার পদত্যাগ দাবিতে øোগান দিয়েছে। এক পর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নতুন জমায়েতস্থল ঘিরে ফেলে।

থাইল্যান্ডে রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণর ক্ষমতা খর্ব করা এবং প্রধানমন্ত্রী ওচার পদত্যাগের দাবিতে প্রায় তিন মাস ধরে চলে আসা বিক্ষোভের মধ্যে বৃহস্পতিবার সরকার জরুরি ডিক্রি জারি করে চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করে।

এ ঘোষণার পরপরই সরকারি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় আটক করা হয় অন্তত ২০ জনকে। এদিন বিকালেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককে বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে।

রাতে আরও বড় আকারে রূপ নেয় বিক্ষোভ। এ সময় আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলকারী প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচার পদত্যাগ চায়।

তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে গত বছরের নির্বাচনেও কারসাজি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তবে ওচা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল।

বিক্ষোভকারীরা থাইল্যান্ডে সামরিক শাসনের অধীনে রচিত খসড়া সংবিধানের পরিবর্তে একটি নতুন সংবিধানও দাবি করেছে।

পাশাপাশি ডাক উঠেছে রাজতন্ত্র সংস্কারের। রাজতন্ত্র দেশের রাজনীতিতে কয়েক দশকের সামরিক প্রভাবকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা।

তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-থাই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন, সামরিক সরকারের লেখা সংবিধান সংশোধন, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজশাসন সংস্কার।

চলমান এ বিক্ষোভ সম্পর্কে থাম্মাসাত বিজনেস স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক পাভিদা পানানন্দ বলেন, সরকারি আদেশ অমান্য করেও রাস্তায় এত মানুষের বিক্ষোভ আশ্চর্যজনক কিছু নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন