বলিভিয়ায় ফিরছেন মোরালেস
jugantor
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের জয়
বলিভিয়ায় ফিরছেন মোরালেস

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। গত সপ্তাহের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর বড় জয়ের পরপরই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। গত সপ্তাহের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর বড় জয়ের পরপরই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের পর দেশ থেকে পালিয়ে যান মোরালেস। আশ্রয় নেন আর্জেন্টিনায়।

সেই থেকে দেশটির রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে প্রবাস জীবনযাপন করছেন তিনি। মোরালেসের পদত্যাগের প্রায় ১০ মাস পর করোনা মহামারী ও কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গত রোববার দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে মোরালেসের বামপন্থী দল মুভমেন্ট ফর সোশ্যালিজমের (মাস) প্রার্থী লুইস আর্ক (৫৭) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ব্যালটযুদ্ধে মোট ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধরাশায়ী করেছেন তিনি। মোরালেসের অধীনে অর্থ ও অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আর্ক।

ভোটের প্রায় সপ্তাহখানেক পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনাল। সব ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্ক ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের পরদিনই সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেসা পরাজয় স্বীকার করে নেন। তিনি ২৯ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছেন। আর ডানপন্থী রক্ষণশীল লুইস ফার্নান্দো পেয়েছেন ১৪ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আর্ক। সেই সঙ্গে বলিভিয়াকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘যথেষ্ট মর্যাদার সঙ্গে আমরা এই দায়িত্ব পেয়েছি। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হল দেশ পুনর্গঠন করা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আশা জাগ্রত করা।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহের নির্বাচনের মোরালেসের দলের জয় মানে বলিভিয়ার জয়। এর মধ্য দিয়ে বলিভিয়ায় সম্ভবত আবারও মোরালেসের আরেক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন, এটা শুধু লুইস আর্কের একক বিজয় নয়, আর্জেন্টিনায় নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরালেসের স্পষ্ট বিজয়। সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্ব মোড়লদের বিরুদ্ধে বলিভিয়ার সম্মিলিত জনতার সাংবিধানিক অভ্যুত্থানও।

গত বছরের নভেম্বরে আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তথাকথিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোরালেসকে শুধু ক্ষমতাচ্যুতই করা হয়নি, দেশ থেকেও বিতাড়িত করা হয়েছিল। ভোট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের সমুচিত জবাবও দিয়ে দিল বলিভীয়রা।

মোরালেস ২০০৬ সালে প্রথম আদিবাসী হিসেবে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। গত বছরের অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। তবে ওই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব।

নির্বাচনে ‘কারচুপি’র অভিযোগে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের আহ্বান জানান। শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রথমে তার প্রতি অনুগত থাকলেও পরে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে মোরালেস পদত্যাগের ঘোষণা দেন। অভিযোগ করেছেন, তিনি ‘অভ্যুত্থানের’ শিকার এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোরালেস বলেন, ‘দেশ ও জাতির স্বার্থে আমি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’ তার এ ঘোষণার পরপরই তার প্রশাসনের অনেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করেন। তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় মেক্সিকো।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের জয়

বলিভিয়ায় ফিরছেন মোরালেস

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। গত সপ্তাহের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর বড় জয়ের পরপরই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ইভো মোরালেস। ফাইল ছবি

শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। গত সপ্তাহের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর বড় জয়ের পরপরই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের পর দেশ থেকে পালিয়ে যান মোরালেস। আশ্রয় নেন আর্জেন্টিনায়।

সেই থেকে দেশটির রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে প্রবাস জীবনযাপন করছেন তিনি। মোরালেসের পদত্যাগের প্রায় ১০ মাস পর করোনা মহামারী ও কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গত রোববার দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে মোরালেসের বামপন্থী দল মুভমেন্ট ফর সোশ্যালিজমের (মাস) প্রার্থী লুইস আর্ক (৫৭) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ব্যালটযুদ্ধে মোট ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধরাশায়ী করেছেন তিনি। মোরালেসের অধীনে অর্থ ও অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আর্ক।

ভোটের প্রায় সপ্তাহখানেক পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনাল। সব ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্ক ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের পরদিনই সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেসা পরাজয় স্বীকার করে নেন। তিনি ২৯ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছেন। আর ডানপন্থী রক্ষণশীল লুইস ফার্নান্দো পেয়েছেন ১৪ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আর্ক। সেই সঙ্গে বলিভিয়াকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘যথেষ্ট মর্যাদার সঙ্গে আমরা এই দায়িত্ব পেয়েছি। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হল দেশ পুনর্গঠন করা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আশা জাগ্রত করা।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহের নির্বাচনের মোরালেসের দলের জয় মানে বলিভিয়ার জয়। এর মধ্য দিয়ে বলিভিয়ায় সম্ভবত আবারও মোরালেসের আরেক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন, এটা শুধু লুইস আর্কের একক বিজয় নয়, আর্জেন্টিনায় নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরালেসের স্পষ্ট বিজয়। সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্ব মোড়লদের বিরুদ্ধে বলিভিয়ার সম্মিলিত জনতার সাংবিধানিক অভ্যুত্থানও।

গত বছরের নভেম্বরে আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তথাকথিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোরালেসকে শুধু ক্ষমতাচ্যুতই করা হয়নি, দেশ থেকেও বিতাড়িত করা হয়েছিল। ভোট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের সমুচিত জবাবও দিয়ে দিল বলিভীয়রা।

মোরালেস ২০০৬ সালে প্রথম আদিবাসী হিসেবে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। গত বছরের অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। তবে ওই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব।

নির্বাচনে ‘কারচুপি’র অভিযোগে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের আহ্বান জানান। শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রথমে তার প্রতি অনুগত থাকলেও পরে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে মোরালেস পদত্যাগের ঘোষণা দেন। অভিযোগ করেছেন, তিনি ‘অভ্যুত্থানের’ শিকার এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোরালেস বলেন, ‘দেশ ও জাতির স্বার্থে আমি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’ তার এ ঘোষণার পরপরই তার প্রশাসনের অনেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করেন। তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় মেক্সিকো।