রিপাবলিকানের চোরা ভোট এবার ডেমোক্র্যাট বাক্সে
jugantor
রিপাবলিকানের চোরা ভোট এবার ডেমোক্র্যাট বাক্সে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রিপাবলিকানদের চোরা কিছু ভোট এবার চলে আসতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট বাক্সে। বিষয়টি নিয়ে খুশিতে ভাসছেন বাইডেন সমর্থকেরা। এমনিতেই সব জরিপেই রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।

এর মধ্যে কিছু রিপাবলিকান গোপন ভোট নিজেদের বাক্সে আসবে বলে আত্মবিশ্বাসী। এই রিপাবলিকান ভোটারদের তারা বলছেন ‘সিক্রেট বাইডেন ভোটার’। রয়টার্স।

রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেখা যাচ্ছে যারা কখনও ডেমোক্র্যাট কোনো প্রার্থীকে ভোট দেয়নি, এমনকি স্থানীয় কোনো নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেয়নি, সিটি কাউন্সিল, কংগ্রেস বা প্রেসিডেন্ট কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরই পক্ষে সিল মারেনি এমন কিছু রিপাবলিকান ভোটার এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে ভোট দেবে।

এসব ভোটার আগে ডেমোক্র্যাটদের জেতা রাজ্য- মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়াতেই বাইডেনকে ভোট দেবেন। এমনকি ট্রাম্পের জেতা আইওয়া, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনাতেও বাইডেনকে ভোট দেবেন।

এই রাজ্যগুলোতে মঙ্গলবার প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বাইডেন। বাইডেনের একজন সহযোগী বলেছেন, এসব রাজ্যে তো বটেই অন্য জায়গাতেও এসব ভোটারের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনের সময়ও কিছু পর্যবেক্ষক বলেছিলেন, ট্রাম্পের কিছু সিক্রেট ভোটার আছেন। এরা কোনো ধরনের প্রচারণা, কাকে ভোট দেবেন, কেন দেবেন এসব নিয়ে কথা বলেন না। নীবর থাকেন। কেবল ভোটের কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নীরবে ভোট দিয়ে আসেন।

গত বার ট্রাম্পকে এমন কত মানুষ ভোট দিয়েছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। বাইডেনের ক্ষেত্রে একই ধরনের সিক্রেট ভোটারের কথা বলা হচ্ছে।

ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের জন্য ফ্লোরিডায় জেতা আবশ্যক। বিষয়টি নিশ্চিত জেনে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ফ্লোরিডায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

এই ফ্লোরিডাতেই কিছু রিপাবলিকান প্রকাশ্যে বাইডেনকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করছেন। এমনই একজন পামবিচ কাউন্টির রিপাবলিকান সাপোর্টার বলেছেন, ‘আমি একাই বেরিয়ে আসছি এবং এমনটি বলছি না। বরং আমি মানুষকে বলছি এই দলে সংযুক্ত হতে।’

নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে ওই রিপাবলিকান বলেন, ‘এমনটি নয় যে, বাইডেনকে ভোট দিতে গিয়ে আমি লজ্জিত। বরং আমি জানি যে, আমি সঠিক কাজটিই করছি। কিন্তু আমি এখানে প্রকাশিত হতে চাচ্ছি না। আমি বিশ্বাস করি অনেক মানুষ আমার মতোই আছে।’

অনেক বিখ্যাত রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তার গোঁয়ার্তুমি, যথেচ্ছ ব্যবহারে অনেকে ক্ষুব্ধ। এমন রিপাবলিকানদের মধ্যে আছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল ও সাবেক রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি চেয়ারম্যান মাইকেল স্টিল।

এছাড়া দ্য লিঙ্কন প্রজেক্ট নামের একটি রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিক সংস্থাও নিয়মিত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী থেকে শুরু করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পর্যন্ত অনেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

‘৪৩অ্যালামনি ফর বাইডেন’ নামে একটি সংগঠনও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এসবের পাশাপাশি এখন এলো গোপন বাইডেন সমর্থন রিপাবলিকান ভোটারদের কথা। এরা বলছেন, এতে তারা লজ্জিত নয়।

রবং নানা কারণে ট্রাম্প তাদের অপছন্দের। একজন বলছেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেব। কিন্তু ট্রাম্প আমাদের এক কোণের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের বেছে নেয়া হয়ে পড়েছে আমাদের জন্য একমাত্র বিকল্প।’

রিপাবলিকানের চোরা ভোট এবার ডেমোক্র্যাট বাক্সে

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রিপাবলিকানদের চোরা কিছু ভোট এবার চলে আসতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট বাক্সে। বিষয়টি নিয়ে খুশিতে ভাসছেন বাইডেন সমর্থকেরা। এমনিতেই সব জরিপেই রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।

এর মধ্যে কিছু রিপাবলিকান গোপন ভোট নিজেদের বাক্সে আসবে বলে আত্মবিশ্বাসী। এই রিপাবলিকান ভোটারদের তারা বলছেন ‘সিক্রেট বাইডেন ভোটার’। রয়টার্স।

রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেখা যাচ্ছে যারা কখনও ডেমোক্র্যাট কোনো প্রার্থীকে ভোট দেয়নি, এমনকি স্থানীয় কোনো নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেয়নি, সিটি কাউন্সিল, কংগ্রেস বা প্রেসিডেন্ট কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরই পক্ষে সিল মারেনি এমন কিছু রিপাবলিকান ভোটার এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে ভোট দেবে।

এসব ভোটার আগে ডেমোক্র্যাটদের জেতা রাজ্য- মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়াতেই বাইডেনকে ভোট দেবেন। এমনকি ট্রাম্পের জেতা আইওয়া, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনাতেও বাইডেনকে ভোট দেবেন।

এই রাজ্যগুলোতে মঙ্গলবার প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বাইডেন। বাইডেনের একজন সহযোগী বলেছেন, এসব রাজ্যে তো বটেই অন্য জায়গাতেও এসব ভোটারের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনের সময়ও কিছু পর্যবেক্ষক বলেছিলেন, ট্রাম্পের কিছু সিক্রেট ভোটার আছেন। এরা কোনো ধরনের প্রচারণা, কাকে ভোট দেবেন, কেন দেবেন এসব নিয়ে কথা বলেন না। নীবর থাকেন। কেবল ভোটের কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নীরবে ভোট দিয়ে আসেন।

গত বার ট্রাম্পকে এমন কত মানুষ ভোট দিয়েছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। বাইডেনের ক্ষেত্রে একই ধরনের সিক্রেট ভোটারের কথা বলা হচ্ছে।

ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের জন্য ফ্লোরিডায় জেতা আবশ্যক। বিষয়টি নিশ্চিত জেনে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ফ্লোরিডায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

এই ফ্লোরিডাতেই কিছু রিপাবলিকান প্রকাশ্যে বাইডেনকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করছেন। এমনই একজন পামবিচ কাউন্টির রিপাবলিকান সাপোর্টার বলেছেন, ‘আমি একাই বেরিয়ে আসছি এবং এমনটি বলছি না। বরং আমি মানুষকে বলছি এই দলে সংযুক্ত হতে।’

নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে ওই রিপাবলিকান বলেন, ‘এমনটি নয় যে, বাইডেনকে ভোট দিতে গিয়ে আমি লজ্জিত। বরং আমি জানি যে, আমি সঠিক কাজটিই করছি। কিন্তু আমি এখানে প্রকাশিত হতে চাচ্ছি না। আমি বিশ্বাস করি অনেক মানুষ আমার মতোই আছে।’

অনেক বিখ্যাত রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তার গোঁয়ার্তুমি, যথেচ্ছ ব্যবহারে অনেকে ক্ষুব্ধ। এমন রিপাবলিকানদের মধ্যে আছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল ও সাবেক রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি চেয়ারম্যান মাইকেল স্টিল।

এছাড়া দ্য লিঙ্কন প্রজেক্ট নামের একটি রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিক সংস্থাও নিয়মিত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী থেকে শুরু করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পর্যন্ত অনেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

‘৪৩অ্যালামনি ফর বাইডেন’ নামে একটি সংগঠনও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এসবের পাশাপাশি এখন এলো গোপন বাইডেন সমর্থন রিপাবলিকান ভোটারদের কথা। এরা বলছেন, এতে তারা লজ্জিত নয়।

রবং নানা কারণে ট্রাম্প তাদের অপছন্দের। একজন বলছেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেব। কিন্তু ট্রাম্প আমাদের এক কোণের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের বেছে নেয়া হয়ে পড়েছে আমাদের জন্য একমাত্র বিকল্প।’

 

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০