ট্রাম্পে উৎসাহ পাচ্ছে বিশ্বের স্বৈরশাসকরা
jugantor
ট্রাম্পে উৎসাহ পাচ্ছে বিশ্বের স্বৈরশাসকরা
মার্কিন নির্বাচন পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ -পুতিন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্পে উৎসাহ পাচ্ছে বিশ্বের স্বৈরশাসকরা

গোটা বিশ্বকে গণতন্ত্রের পথে আসার ডাক দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে সে অধিকার ছিলও দেশটির। কিন্তু সবকিছু গোলমাল করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গণতন্ত্রের উৎসাহ পাওয়ার পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাচন পরবর্তী কর্মকাণ্ড থেকে উৎসাহ পাচ্ছেন একনায়ক-স্বৈরশাসক নেতারা।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের কাছে হারের পর সেটি স্বীকার করেননি ট্রাম্প। এমনকি আইনি প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ফল পরির্বতনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তার নজিরবিহীন দাবির পক্ষে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সমর্থনও প্রত্যাশা করেছেন ট্রাম্প।

শুধু তাই নয়, এমনকি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আরও অগ্রসর হয়ে বলে দিয়েছেন, ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। এতে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আসন শক্ত করে বসা একনায়ক ও স্বৈরশাসকরা উৎসাহ পাচ্ছেন, তাতে সন্দেহ নেই। এএফপি, দ্য কোরিয়া টাইমস।

নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেনের কাছে পরাজয় মেনে না নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করে আসছে রিপাবলিকান পার্টি ও উগ্র ট্রাম্প সমর্থকরা।

এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ নীলনকশা বিভিন্ন ভঙ্গুর গণতন্ত্রের দেশগুলোর সামনে রসদ হিসেবে হাজির হচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকার অনেক কর্তৃত্বপরায়ণ শাসক ট্রাম্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আরও কয়েক মেয়াদ ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

জিম্বাবুয়ের প্রফেসর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এলড্রেড মাসুনানগুরে বলেন, স্বৈরশাসকদের সামনে আশা হয়ে এসেছেন ট্রাম্প। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এমন দৃশ্য আফ্রিকায় দেখে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু শতবর্ষের পুরনো গণতন্ত্রে যখন এমনটা হচ্ছে, তখন অবাক না হয়ে উপায় নেই।

রাশিয়ার বিখ্যাত দাবাড়ু এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বড় সমালোচক গ্যারি কাসপারভ বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের এ আক্রমণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য জায়গার নির্বাচনেও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে।

এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পুতিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হল বলে এক টুইটে লেখেন তিনি। এরই মধ্যে পুতিন বলেছেন, মার্কিন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্যা রয়েছে। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সেখানে সংকট তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া-১ টিভি চ্যানেলকে পুতিন বলেন, মার্কিন নির্বাচনী পদ্ধতি যে ত্রুটিপূর্ণ, তা এখন দেশটির সবার কাছে স্পষ্ট।

এই সারিয়ে নিজেদের পদ্ধতি ঠিক করার জন্য মার্কিন জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সংকটের সুরাহা করা মার্কিন নাগরিকদের দায়িত্ব। নিকট অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে এমন কথা বলার নজির নেই।

তাও এমন একজন ব্যক্তি কথাগুলো বলেছেন, যিনি বিভিন্ন কৌশলে প্রায় দুই যুগের বেশি রাশিয়াকে শাসন করছেন নএবং আজীবন করার স্বপ্ন দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থমাস ক্যারোথার্স বলেন, কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের বিরোধিতা করতে হয় সে বিষয়ে রাশিয়া, চীন ও মিসরের মতো কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর শেখার কিছু নেই।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না করে নামমাত্র নির্বাচনে একচেটিয়া জয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে একনায়ক ও স্বৈরাচারী সরকারগুলো।

ট্রাম্পে উৎসাহ পাচ্ছে বিশ্বের স্বৈরশাসকরা

মার্কিন নির্বাচন পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ -পুতিন
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ট্রাম্পে উৎসাহ পাচ্ছে বিশ্বের স্বৈরশাসকরা
ছবি: সংগৃহীত

গোটা বিশ্বকে গণতন্ত্রের পথে আসার ডাক দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে সে অধিকার ছিলও দেশটির। কিন্তু সবকিছু গোলমাল করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গণতন্ত্রের উৎসাহ পাওয়ার পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাচন পরবর্তী কর্মকাণ্ড থেকে উৎসাহ পাচ্ছেন একনায়ক-স্বৈরশাসক নেতারা।

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের কাছে হারের পর সেটি স্বীকার করেননি ট্রাম্প। এমনকি আইনি প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ফল পরির্বতনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তার নজিরবিহীন দাবির পক্ষে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সমর্থনও প্রত্যাশা করেছেন ট্রাম্প।

শুধু তাই নয়, এমনকি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আরও অগ্রসর হয়ে বলে দিয়েছেন, ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। এতে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আসন শক্ত করে বসা একনায়ক ও স্বৈরশাসকরা উৎসাহ পাচ্ছেন, তাতে সন্দেহ নেই। এএফপি, দ্য কোরিয়া টাইমস।

নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেনের কাছে পরাজয় মেনে না নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করে আসছে রিপাবলিকান পার্টি ও উগ্র ট্রাম্প সমর্থকরা।

এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ নীলনকশা বিভিন্ন ভঙ্গুর গণতন্ত্রের দেশগুলোর সামনে রসদ হিসেবে হাজির হচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকার অনেক কর্তৃত্বপরায়ণ শাসক ট্রাম্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আরও কয়েক মেয়াদ ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

জিম্বাবুয়ের প্রফেসর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এলড্রেড মাসুনানগুরে বলেন, স্বৈরশাসকদের সামনে আশা হয়ে এসেছেন ট্রাম্প। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এমন দৃশ্য আফ্রিকায় দেখে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু শতবর্ষের পুরনো গণতন্ত্রে যখন এমনটা হচ্ছে, তখন অবাক না হয়ে উপায় নেই।

রাশিয়ার বিখ্যাত দাবাড়ু এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বড় সমালোচক গ্যারি কাসপারভ বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের এ আক্রমণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য জায়গার নির্বাচনেও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে।

এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পুতিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হল বলে এক টুইটে লেখেন তিনি। এরই মধ্যে পুতিন বলেছেন, মার্কিন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্যা রয়েছে। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সেখানে সংকট তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া-১ টিভি চ্যানেলকে পুতিন বলেন, মার্কিন নির্বাচনী পদ্ধতি যে ত্রুটিপূর্ণ, তা এখন দেশটির সবার কাছে স্পষ্ট।

এই সারিয়ে নিজেদের পদ্ধতি ঠিক করার জন্য মার্কিন জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সংকটের সুরাহা করা মার্কিন নাগরিকদের দায়িত্ব। নিকট অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে এমন কথা বলার নজির নেই।

তাও এমন একজন ব্যক্তি কথাগুলো বলেছেন, যিনি বিভিন্ন কৌশলে প্রায় দুই যুগের বেশি রাশিয়াকে শাসন করছেন নএবং আজীবন করার স্বপ্ন দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থমাস ক্যারোথার্স বলেন, কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের বিরোধিতা করতে হয় সে বিষয়ে রাশিয়া, চীন ও মিসরের মতো কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর শেখার কিছু নেই।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না করে নামমাত্র নির্বাচনে একচেটিয়া জয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে একনায়ক ও স্বৈরাচারী সরকারগুলো।

 

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০