গোপনে সৌদি সফরে নেতানিয়াহু
jugantor
গোপনে সৌদি সফরে নেতানিয়াহু
মোহাম্মদ-পম্পেওর সঙ্গে বৈঠক

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতি গোপনে সৌদি সফর সারলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সফরে সৌদি যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।

সৌদি সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। সফরে তার সঙ্গে এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ইয়োসি কোহেন।

বৈঠকগুলো রোববার লোহিত সাগর উপকূলে সোদির নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক শহর নিওমে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এক ইসরাইলি মন্ত্রীর বরাত দিয়ে সোমবার সকালে প্রথম এর কথা প্রকাশ করে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। এই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে তেলআবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এর একদিন আগেই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, যদি তার দেশের একটিমাত্র পূর্বশর্ত পূরণ হয় তবে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করবে রিয়াদ। খবর আলজাজিরা ও এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপে গত দুই মাসে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সই করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদান। এছাড়া আরও কিছু আরব রাষ্ট্র একই পথ অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ চুক্তির প্রতি রিয়াদ এর আগেও সমর্থন দিয়েছে এবং আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরাইলের বিমান চলাচলের জন্য সৌদি আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মধ্যে এই গোপন সফর করলেন নেতানিয়াহু।

সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চেষ্টার প্রধান ক্রীড়নক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, সৌদি আরবসহ আরও বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে।

তবে দ্বিতীয় দফায় তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে না পারা সেই প্রচেষ্টাকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌদি সফরে যুবরাজ মোহাম্মদ ও পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হলেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর সৌদি সফর ও বৈঠকের বিষয়টি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেন তার মন্ত্রিসভার এক সদস্য। সেই সঙ্গে এটাকে একটা ‘বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেন। সোমবার ইসরাইলের আর্মি রেডিও’র এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াব গ্যালান্ড বলেন, ‘ফ্যাক্ট হচ্ছে, বৈঠক হয়েছে এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।’ ইসরাইলের কান পাবলিক রেডিও ও আর্মি রেডিও জানায়, লোহিত সাগর উপকূলের বহুল আলোচিত নিওম সিটিতে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ সফরের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সৌদি সরকারের তরফেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এভিয়েশন ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে, একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান নিয়ে ইসরাইলের তেল আবিব থেকে সৌদি আরবের নিওম শহরে পৌঁছান নেতানিয়াহু। রোববার সেখানেই যুবরাজ এমবিএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো বলছে, নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি দুই ঘণ্টার মতো নিওমে অবস্থান করে। হারেৎজ আরও জানায়, এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য একাধিক বার এই জেট বিমানটি ব্যবহার করেন নেতানিয়াহু।

এমন সময়ে নেতানিয়াহু সৌদি সফরে গেলেন যখন জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে রিয়াদ। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার

ইহুদি জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে যুবরাজ মোহাম্মদের। ট্রাম্প-কুশনারের প্রচেষ্টাতেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয় মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি প্রভাব বলয়ের একাধিক দেশ। এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ের মধ্য দিয়ে দৃশ্যত হোয়াইট হাউসে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারাল রিয়াদ।

নতুন পরমাণু চুক্তি দাবি ইসরাইল-সৌদির : ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে একই সুরে-তালে কথা বলছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। তেহরানের সঙ্গে আগের পরমাণু সমঝোতা বাদ দিয়ে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি জানিয়েছে দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদির স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-মুয়াল্লেমি বলেছেন, ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা মরে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাইডেনকে ইরানের সঙ্গে নয়া চুক্তি সই করতে হবে।

একই দাবি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরও।’ তিনি বলেছেন, ‘নতুন করে ইরান পরমাণু চুক্তিতে ফেরা ওয়াশিংটনের উচিত হবে না। রয়টার্স ও এএফপি। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার শর্তে তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানি।

গোপনে সৌদি সফরে নেতানিয়াহু

মোহাম্মদ-পম্পেওর সঙ্গে বৈঠক
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতি গোপনে সৌদি সফর সারলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সফরে সৌদি যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।

সৌদি সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। সফরে তার সঙ্গে এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ইয়োসি কোহেন।

বৈঠকগুলো রোববার লোহিত সাগর উপকূলে সোদির নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক শহর নিওমে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এক ইসরাইলি মন্ত্রীর বরাত দিয়ে সোমবার সকালে প্রথম এর কথা প্রকাশ করে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে। এই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে তেলআবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এর একদিন আগেই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, যদি তার দেশের একটিমাত্র পূর্বশর্ত পূরণ হয় তবে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করবে রিয়াদ। খবর আলজাজিরা ও এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপে গত দুই মাসে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সই করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদান। এছাড়া আরও কিছু আরব রাষ্ট্র একই পথ অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ চুক্তির প্রতি রিয়াদ এর আগেও সমর্থন দিয়েছে এবং আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরাইলের বিমান চলাচলের জন্য সৌদি আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মধ্যে এই গোপন সফর করলেন নেতানিয়াহু।

সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চেষ্টার প্রধান ক্রীড়নক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, সৌদি আরবসহ আরও বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে।

তবে দ্বিতীয় দফায় তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে না পারা সেই প্রচেষ্টাকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌদি সফরে যুবরাজ মোহাম্মদ ও পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হলেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর সৌদি সফর ও বৈঠকের বিষয়টি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেন তার মন্ত্রিসভার এক সদস্য। সেই সঙ্গে এটাকে একটা ‘বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেন। সোমবার ইসরাইলের আর্মি রেডিও’র এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াব গ্যালান্ড বলেন, ‘ফ্যাক্ট হচ্ছে, বৈঠক হয়েছে এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।’ ইসরাইলের কান পাবলিক রেডিও ও আর্মি রেডিও জানায়, লোহিত সাগর উপকূলের বহুল আলোচিত নিওম সিটিতে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ সফরের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সৌদি সরকারের তরফেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এভিয়েশন ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে, একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান নিয়ে ইসরাইলের তেল আবিব থেকে সৌদি আরবের নিওম শহরে পৌঁছান নেতানিয়াহু। রোববার সেখানেই যুবরাজ এমবিএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো বলছে, নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি দুই ঘণ্টার মতো নিওমে অবস্থান করে। হারেৎজ আরও জানায়, এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য একাধিক বার এই জেট বিমানটি ব্যবহার করেন নেতানিয়াহু।

এমন সময়ে নেতানিয়াহু সৌদি সফরে গেলেন যখন জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে রিয়াদ। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার

ইহুদি জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে যুবরাজ মোহাম্মদের। ট্রাম্প-কুশনারের প্রচেষ্টাতেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয় মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি প্রভাব বলয়ের একাধিক দেশ। এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ের মধ্য দিয়ে দৃশ্যত হোয়াইট হাউসে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারাল রিয়াদ।

নতুন পরমাণু চুক্তি দাবি ইসরাইল-সৌদির : ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে একই সুরে-তালে কথা বলছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। তেহরানের সঙ্গে আগের পরমাণু সমঝোতা বাদ দিয়ে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি জানিয়েছে দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদির স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-মুয়াল্লেমি বলেছেন, ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা মরে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাইডেনকে ইরানের সঙ্গে নয়া চুক্তি সই করতে হবে।

একই দাবি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরও।’ তিনি বলেছেন, ‘নতুন করে ইরান পরমাণু চুক্তিতে ফেরা ওয়াশিংটনের উচিত হবে না। রয়টার্স ও এএফপি। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার শর্তে তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানি।