পরেরবার চমক দেখাবেন ট্রাম্প
jugantor
পরেরবার চমক দেখাবেন ট্রাম্প
আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী করবেন ছেলেমেয়েকে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবার হারলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখাতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হয় নিজে দাঁড়াবেন, না হলে পুত্র-কন্যাকে দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রার্থী হতে পারেন তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র বা বড় মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্পের অনুপস্থিতিতে মার্কিন জনগণকে তার গৃহীত নীতি ‘ট্রাম্পবাদ’ খাওয়ানো খুব কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজউইক জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে হেরে গেলেও ক্ষমতা ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ট্রাম্পের একটা ব্যতিক্রমী ও অনন্য প্রভাব থেকে যাবে। হতে পারে, বড় ছেলে ট্রাম্প জুনিয়রকে (৩৭) অথবা মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে সামনে আনতে পারেন তিনি। ৩ নভেম্বর ভোটারের দেয়া রায়ে পরাজিত হন ট্রাম্প। কিন্তু তিনি এই পরাজয় স্বীকারে অব্যাহতভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। এর জন্য দায়ী করছেন মার্কিন মিডিয়াকেও।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কথা সত্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অন্য সব ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের চেয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। তার এত বিপুল পপুলার ভোট পাওয়ার মানে তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হলেও সারা দেশে তার প্রভাব প্রতিপত্তি বিরাজমান থাকবে।

ফলে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি তিনি নিজে এই অপশন বেছে না নেন তাহলে তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র অথবা মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা দিতে পারেন।

২০১৬ সালে জার্জিয়া রাজ্যে ট্রাম্পের প্রচারণাবিষয়ক পরিচালক ছিলেন রিপাবলিকান সেঠ ওয়েদারস। তিনি নিউজউইককে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ট্রাম্পিজম বা ট্রাম্পবাদের লণ্ঠনকে জ্বালিয়ে রাখার জন্য অনেকে আছেন। আমার জানা মতে, এক্ষেত্রে কিংমেকার হতে পারেন ট্রাম্প নিজে এবং তিনি তা খুব সহজেই করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তিনি নিজের সন্তানদের বাইরে অন্য কাউকে কিংমেকার হিসেবে সামনে আনবেন- এটা আমি কল্পনাও করতে পারি না।

অন্যদিকে ফেসভ্যালু বা মুখ পরিচিতির দিক দিয়ে ট্রাম্প জুনিয়র এবং ইভাঙ্কা ট্রাম্পও কম না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেসব সমর্থক ঘাঁটি আছে, সেসব স্থানে বেশ জনপ্রিয় ট্রাম্প জুনিয়র।

ওইসব ঘাঁটিতে তিনি তার বাবার পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়েছেন। এরও বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, তিনি যে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে চান, সেটাও ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব মাধ্যমে এ বছর তিনি একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ২০২৪’ ব্যানারের অধীনে নিজের ছবি পোস্ট করেছেন। এই ব্যানারের স্লোগানই বলে দিচ্ছে, তিনি ২০২৪ সালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।

অন্যদিকে তার বাবা ট্রাম্পের সবচেয়ে আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ বলে যে কয়েকজন আছেন তার মধ্যে অন্যতম ইভাঙ্কা। ট্রাম্পের পুরো সময়ে হোয়াইট হাউসে ইহুদি স্বামী জারেড কুশনারকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

এর ফলে উপদেষ্টা হিসেবে ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। তবে বংশ ও তাদের নামের শেষ অংশের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তারাই শুধু যে রিপাবলিকানের প্রার্থী হবেন ২০২৪ সালে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়।

এর বাইরেও অনেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সেন্টার অন ইউএস পলিটিক্সের ফান্ডিং বিষয়ক পরিচালক নিউজউইককে বলেছেন, এক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ‘শোম্যানশিপ’

ব্যবহার করতে পারেন। তার বিকল্প কেউ আসবেন এমনটা ভাবা কঠিন। স্বাভাবিক রাজনৈতিক গেমে অন্যরা শেষ পর্যন্ত যে কাজটি করতে পারবেন, তার চেয়ে বেশি করতে পারবেন ট্রাম্প।

পরেরবার চমক দেখাবেন ট্রাম্প

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী করবেন ছেলেমেয়েকে
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এবার হারলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখাতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হয় নিজে দাঁড়াবেন, না হলে পুত্র-কন্যাকে দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রার্থী হতে পারেন তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র বা বড় মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্পের অনুপস্থিতিতে মার্কিন জনগণকে তার গৃহীত নীতি ‘ট্রাম্পবাদ’ খাওয়ানো খুব কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজউইক জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে হেরে গেলেও ক্ষমতা ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ট্রাম্পের একটা ব্যতিক্রমী ও অনন্য প্রভাব থেকে যাবে। হতে পারে, বড় ছেলে ট্রাম্প জুনিয়রকে (৩৭) অথবা মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে সামনে আনতে পারেন তিনি। ৩ নভেম্বর ভোটারের দেয়া রায়ে পরাজিত হন ট্রাম্প। কিন্তু তিনি এই পরাজয় স্বীকারে অব্যাহতভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। এর জন্য দায়ী করছেন মার্কিন মিডিয়াকেও।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ কথা সত্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অন্য সব ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের চেয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। তার এত বিপুল পপুলার ভোট পাওয়ার মানে তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হলেও সারা দেশে তার প্রভাব প্রতিপত্তি বিরাজমান থাকবে।

ফলে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি তিনি নিজে এই অপশন বেছে না নেন তাহলে তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র অথবা মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা দিতে পারেন।

২০১৬ সালে জার্জিয়া রাজ্যে ট্রাম্পের প্রচারণাবিষয়ক পরিচালক ছিলেন রিপাবলিকান সেঠ ওয়েদারস। তিনি নিউজউইককে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ট্রাম্পিজম বা ট্রাম্পবাদের লণ্ঠনকে জ্বালিয়ে রাখার জন্য অনেকে আছেন। আমার জানা মতে, এক্ষেত্রে কিংমেকার হতে পারেন ট্রাম্প নিজে এবং তিনি তা খুব সহজেই করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তিনি নিজের সন্তানদের বাইরে অন্য কাউকে কিংমেকার হিসেবে সামনে আনবেন- এটা আমি কল্পনাও করতে পারি না।

অন্যদিকে ফেসভ্যালু বা মুখ পরিচিতির দিক দিয়ে ট্রাম্প জুনিয়র এবং ইভাঙ্কা ট্রাম্পও কম না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যেসব সমর্থক ঘাঁটি আছে, সেসব স্থানে বেশ জনপ্রিয় ট্রাম্প জুনিয়র।

ওইসব ঘাঁটিতে তিনি তার বাবার পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়েছেন। এরও বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, তিনি যে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে চান, সেটাও ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব মাধ্যমে এ বছর তিনি একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ২০২৪’ ব্যানারের অধীনে নিজের ছবি পোস্ট করেছেন। এই ব্যানারের স্লোগানই বলে দিচ্ছে, তিনি ২০২৪ সালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।

অন্যদিকে তার বাবা ট্রাম্পের সবচেয়ে আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ বলে যে কয়েকজন আছেন তার মধ্যে অন্যতম ইভাঙ্কা। ট্রাম্পের পুরো সময়ে হোয়াইট হাউসে ইহুদি স্বামী জারেড কুশনারকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

এর ফলে উপদেষ্টা হিসেবে ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। তবে বংশ ও তাদের নামের শেষ অংশের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তারাই শুধু যে রিপাবলিকানের প্রার্থী হবেন ২০২৪ সালে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়।

এর বাইরেও অনেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সেন্টার অন ইউএস পলিটিক্সের ফান্ডিং বিষয়ক পরিচালক নিউজউইককে বলেছেন, এক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ‘শোম্যানশিপ’

ব্যবহার করতে পারেন। তার বিকল্প কেউ আসবেন এমনটা ভাবা কঠিন। স্বাভাবিক রাজনৈতিক গেমে অন্যরা শেষ পর্যন্ত যে কাজটি করতে পারবেন, তার চেয়ে বেশি করতে পারবেন ট্রাম্প।

 

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০