করোনা ঠেকাতে ব্রিটেনের ব্যর্থতার কারণ কী
jugantor
করোনা ঠেকাতে ব্রিটেনের ব্যর্থতার কারণ কী

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উন্নত দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় ব্রিটেন। জনসংখ্যার দিক দিয়ে তৃতীয়। একনম্বরে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। ব্রিটেনে এ সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়েই মারা গেছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। অথচ করোনায় মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন গ্রীষ্মে করোনার পুনরাগমন ঠেকাতে করোনা টেস্ট ও ট্রেসিং পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু বরিসের সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়নি। এ কারণে ব্রিটেনের মতো উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার দেশকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কুপোকাত করে ফেলছে। রয়টার্স।

ট্রেসিং পদ্ধতির দুর্বলতা : ব্রিটেনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বড় ধরনের সংক্রমণ ও মৃত্যুর কারণ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কনটাক্ট ট্রেসিং বা করোনা রোগীদের চিহ্নিত করে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী অন্যদের রক্ষা করা। ট্রেসিং বা করোনাভাইরাসবাহী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ ছিল ব্রিটেনের।

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের জন্য কমিটি করা হয় দেশজুড়ে। কিন্তু ইয়র্কশায়ারে হ্যালিফ্যাক্সের কনটাক্ট ট্রেসার টিমের অবসরপ্রাপ্ত সার্জন কলিন হাটশিনসন বলেন, ‘সংক্রমিত ব্যক্তি অন্যকে সংক্রমণ করার আগে তাকে চিহ্নিত করার পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। পদ্ধতিটি দুর্বল।

লকডাউন কাজ না করা : করোনার প্রথম ঢেউয়ে ব্রিটেন দীর্ঘ তিন মাস লকডাউনে ছিল। অর্থনীতির প্রচণ্ড ক্ষতি করা সেই লকডাউনেই দেশটিকে আবারও ফিরতে হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউয়ে। দৈনিক ৩৫০ জনের বেশি মৃত্যু হওয়ায় ৫ নভেম্বর থেকে চলছে লকডাউন। কনটাক্ট ট্রেসিং পদ্ধতি দৃঢ় ও কার্যকর না হওয়ায় ফিরতে হয়েছে লকডাউনে। কিন্তু তাতেও ভালো ফল হয়নি। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

প্রথম ঢেউ থেকে শিক্ষা না নেয়া : করোনার প্রথম ঢেউয়ে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি থেকে ব্রিটেন শিক্ষা নেয়নি। প্রথমবার যেমন সরকার করোনা সংক্রান্ত ডাটা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে শেয়ার করতে ব্যর্থ হয়েছে, দ্বিতীয় ঢেউয়েও একই অবস্থা।

তথ্য সংরক্ষণ দুর্বলতা ও দ্রুত রেজাল্ট না দেয়া : ব্রিটেনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গুরুতর আকার ধারণ করার কারণ হচ্ছে করোনা টেস্টের রেজাল্ট দ্রুত না দেয়া এবং টেস্টের নমুনা ও ডাটা সংরক্ষণে ব্যর্থতা। সেপ্টেম্বরে করোনা তথ্য পদ্ধতি থেকে ১৬ হাজার পজিটিভ নমুনার ডাটা হারিয়ে যায়। এতে ফল দিতে দেরি হয়।

সাধারণত প্রথম দিন সংক্রমিত ব্যক্তি চিহ্নিত হলে তার মাত্র দুই-তিনজনকে আক্রান্ত করার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু তিন দিনে গেলে সেটা পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয় পর্যন্ত চলে যায়। টেস্টের ফল দেয়ার দেরির কারণেও ব্রিটেনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গুরুতর হয়েছে।

পরীক্ষার সক্ষমতা কম : মধ্য এপ্রিলে ব্রিটেনের দৈনিক করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা ছিল ২৫ হাজার। বরিস জনসনের ঘোষণা ছিল, গ্রীষ্মে দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাক্কালে এই সক্ষমতা পাঁচ লাখে উন্নীত করা হবে। কিন্তু পরীক্ষার হার বাড়লেও পাঁচ লাখের সক্ষমতা তৈরি হয়নি।

করোনা ঠেকাতে ব্রিটেনের ব্যর্থতার কারণ কী

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উন্নত দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় ব্রিটেন। জনসংখ্যার দিক দিয়ে তৃতীয়। একনম্বরে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। ব্রিটেনে এ সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়েই মারা গেছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। অথচ করোনায় মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন গ্রীষ্মে করোনার পুনরাগমন ঠেকাতে করোনা টেস্ট ও ট্রেসিং পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু বরিসের সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়নি। এ কারণে ব্রিটেনের মতো উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার দেশকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কুপোকাত করে ফেলছে। রয়টার্স।

ট্রেসিং পদ্ধতির দুর্বলতা : ব্রিটেনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বড় ধরনের সংক্রমণ ও মৃত্যুর কারণ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে কনটাক্ট ট্রেসিং বা করোনা রোগীদের চিহ্নিত করে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী অন্যদের রক্ষা করা। ট্রেসিং বা করোনাভাইরাসবাহী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ ছিল ব্রিটেনের।

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের জন্য কমিটি করা হয় দেশজুড়ে। কিন্তু ইয়র্কশায়ারে হ্যালিফ্যাক্সের কনটাক্ট ট্রেসার টিমের অবসরপ্রাপ্ত সার্জন কলিন হাটশিনসন বলেন, ‘সংক্রমিত ব্যক্তি অন্যকে সংক্রমণ করার আগে তাকে চিহ্নিত করার পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। পদ্ধতিটি দুর্বল।

লকডাউন কাজ না করা : করোনার প্রথম ঢেউয়ে ব্রিটেন দীর্ঘ তিন মাস লকডাউনে ছিল। অর্থনীতির প্রচণ্ড ক্ষতি করা সেই লকডাউনেই দেশটিকে আবারও ফিরতে হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউয়ে। দৈনিক ৩৫০ জনের বেশি মৃত্যু হওয়ায় ৫ নভেম্বর থেকে চলছে লকডাউন। কনটাক্ট ট্রেসিং পদ্ধতি দৃঢ় ও কার্যকর না হওয়ায় ফিরতে হয়েছে লকডাউনে। কিন্তু তাতেও ভালো ফল হয়নি। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

প্রথম ঢেউ থেকে শিক্ষা না নেয়া : করোনার প্রথম ঢেউয়ে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি থেকে ব্রিটেন শিক্ষা নেয়নি। প্রথমবার যেমন সরকার করোনা সংক্রান্ত ডাটা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে শেয়ার করতে ব্যর্থ হয়েছে, দ্বিতীয় ঢেউয়েও একই অবস্থা।

তথ্য সংরক্ষণ দুর্বলতা ও দ্রুত রেজাল্ট না দেয়া : ব্রিটেনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গুরুতর আকার ধারণ করার কারণ হচ্ছে করোনা টেস্টের রেজাল্ট দ্রুত না দেয়া এবং টেস্টের নমুনা ও ডাটা সংরক্ষণে ব্যর্থতা। সেপ্টেম্বরে করোনা তথ্য পদ্ধতি থেকে ১৬ হাজার পজিটিভ নমুনার ডাটা হারিয়ে যায়। এতে ফল দিতে দেরি হয়।

সাধারণত প্রথম দিন সংক্রমিত ব্যক্তি চিহ্নিত হলে তার মাত্র দুই-তিনজনকে আক্রান্ত করার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু তিন দিনে গেলে সেটা পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয় পর্যন্ত চলে যায়। টেস্টের ফল দেয়ার দেরির কারণেও ব্রিটেনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গুরুতর হয়েছে।

পরীক্ষার সক্ষমতা কম : মধ্য এপ্রিলে ব্রিটেনের দৈনিক করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা ছিল ২৫ হাজার। বরিস জনসনের ঘোষণা ছিল, গ্রীষ্মে দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাক্কালে এই সক্ষমতা পাঁচ লাখে উন্নীত করা হবে। কিন্তু পরীক্ষার হার বাড়লেও পাঁচ লাখের সক্ষমতা তৈরি হয়নি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস