জাতিসংঘকে ঢুকতে দেবে না ইরান
jugantor
জাতিসংঘকে ঢুকতে দেবে না ইরান
পরমাণু কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন আইন

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরমাণু ইস্যুতে ফের কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। জাতিসংঘের পরিদর্শকদের পরমাণু উৎপাদন কেন্দ্রে ঢুকতে দেবে না। সেই সঙ্গে পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সেই লক্ষ্যেই নতুন একটি আইন পাস করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মুসলিম দেশটি। বুধবার গুরুত্বপূর্ণ আইনটির অনুমোদন দেয় ইরানি পার্লামেন্টের গার্ডিয়ান কাউন্সিল। আইনটিতে বলা হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শন বন্ধ ও ৩.৬৭% এর পরিবর্তে ২০% বেশি ইউরেনিয়াম উৎপাদন করবে সরকার। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তিনি এই আইন প্রয়োগের পক্ষে নন; পরমাণু চুক্তির পুনর্বহাল চান তিনি। এদিকে ফ্রান্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সরকারকে পরমাণু সমঝোতায় ফিরিয়ে আনার জন্য ইরানকেই এই সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে ফিরে আসতে হবে। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অ্যাগনেস ভন ডার মুহ্ল সৌদি নিউজ চ্যানেল আল-আরাবিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পরমাণু সমঝোতার বিস্তৃতি এবং এতে নতুন কিছু বিষয় সংযোজন করা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন। ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া ও সমঝোতা বাস্তবায়ন ইউরোপের ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ফরাসি মুখপাত্র পশ্চিমা দেশগুলোর আইন লঙ্ঘনকারী এসব পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত করেননি। রয়টার্স, এএফপি ও আলজাজিরা।

শুক্রবার রাজধানী তেহরানের বাইরে রাস্তার পাশে ভয়াবহ এক হামলার নিহত হন ইরানের খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকরিজাদেহ। রিমোট নিয়ন্ত্রিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিনগান দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ইরানের বিশ্বাস, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে তাদের এক নম্বর শত্রু ইসরাইল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে ফাকরিজাদেহের। তবে দেশটির সরকার বারবারই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মযজ্ঞ পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। পরমাণু অস্ত্র যাতে উৎপাদন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বরাবরই নানা ধরনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়ে আসছে দেশটি। ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদিত আইন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলোকে দুই মাস সময় দেয়া হবে দেশটির তেল এবং অর্থনৈতিক খাতের ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে এলে ওই নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনঃআরোপ করা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হলে সরকার ইউরেনিয়াম উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়াবে এবং উন্নত সেন্ট্রিফিউজ বসাবে যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কাজ করবে। দেশটির নাতান্জ এবং ফর্দো পরমাণু উৎপাদন কেন্দ্রে এসব পদক্ষেপ নেয়া হবে। এই উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ করে দেয়া হবে। বুধবার ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ‘আজ এক চিঠিতে নতুন আইন কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানিয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার।’ আইনটি অনুমোদনের আগে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, তার সরকার এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নয়। একে ‘কূটনীতির জন্য ক্ষতিকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবশ্য বলেছেন যে, তিনি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনবেন এবং তেহরান যদি ‘পরমাণু চুক্তির শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলে’ তাহলে নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে।

জাতিসংঘকে ঢুকতে দেবে না ইরান

পরমাণু কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন আইন
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরমাণু ইস্যুতে ফের কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। জাতিসংঘের পরিদর্শকদের পরমাণু উৎপাদন কেন্দ্রে ঢুকতে দেবে না। সেই সঙ্গে পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সেই লক্ষ্যেই নতুন একটি আইন পাস করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মুসলিম দেশটি। বুধবার গুরুত্বপূর্ণ আইনটির অনুমোদন দেয় ইরানি পার্লামেন্টের গার্ডিয়ান কাউন্সিল। আইনটিতে বলা হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শন বন্ধ ও ৩.৬৭% এর পরিবর্তে ২০% বেশি ইউরেনিয়াম উৎপাদন করবে সরকার। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তিনি এই আইন প্রয়োগের পক্ষে নন; পরমাণু চুক্তির পুনর্বহাল চান তিনি। এদিকে ফ্রান্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সরকারকে পরমাণু সমঝোতায় ফিরিয়ে আনার জন্য ইরানকেই এই সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে ফিরে আসতে হবে। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অ্যাগনেস ভন ডার মুহ্ল সৌদি নিউজ চ্যানেল আল-আরাবিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পরমাণু সমঝোতার বিস্তৃতি এবং এতে নতুন কিছু বিষয় সংযোজন করা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন। ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া ও সমঝোতা বাস্তবায়ন ইউরোপের ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ফরাসি মুখপাত্র পশ্চিমা দেশগুলোর আইন লঙ্ঘনকারী এসব পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত করেননি। রয়টার্স, এএফপি ও আলজাজিরা।

শুক্রবার রাজধানী তেহরানের বাইরে রাস্তার পাশে ভয়াবহ এক হামলার নিহত হন ইরানের খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকরিজাদেহ। রিমোট নিয়ন্ত্রিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিনগান দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ইরানের বিশ্বাস, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে তাদের এক নম্বর শত্রু ইসরাইল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে ফাকরিজাদেহের। তবে দেশটির সরকার বারবারই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মযজ্ঞ পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। পরমাণু অস্ত্র যাতে উৎপাদন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বরাবরই নানা ধরনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়ে আসছে দেশটি। ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদিত আইন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলোকে দুই মাস সময় দেয়া হবে দেশটির তেল এবং অর্থনৈতিক খাতের ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে এলে ওই নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনঃআরোপ করা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হলে সরকার ইউরেনিয়াম উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়াবে এবং উন্নত সেন্ট্রিফিউজ বসাবে যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কাজ করবে। দেশটির নাতান্জ এবং ফর্দো পরমাণু উৎপাদন কেন্দ্রে এসব পদক্ষেপ নেয়া হবে। এই উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ করে দেয়া হবে। বুধবার ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, ‘আজ এক চিঠিতে নতুন আইন কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানিয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার।’ আইনটি অনুমোদনের আগে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, তার সরকার এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নয়। একে ‘কূটনীতির জন্য ক্ষতিকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবশ্য বলেছেন যে, তিনি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনবেন এবং তেহরান যদি ‘পরমাণু চুক্তির শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলে’ তাহলে নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে।