এত অল্প সময়ে ভ্যাকসিন ইতিহাসে এবারই প্রথম
jugantor
এত অল্প সময়ে ভ্যাকসিন ইতিহাসে এবারই প্রথম
প্রয়োজনীয় ডাটা কম সংগ্রহ করা হয়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে ব্রিটেন ফাইজার/বায়োএনটেকের করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে ফাইজারের ভ্যাকসিনটি নিরাপদ হিসেবে পরিগণিত হল। এর পাশাপাশি ইউরোপের কিছু দেশ ও আমেরিকা আরও কিছু ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে ও দিচ্ছে। এর আগে এত দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন অনুমোদনের ইতিহাস নেই। এবারই প্রথম। দেখে নেয়া যাক কোন দেশ কীভাবে ভ্যাকসিনের অনুমোদনের পথে অগ্রসর হল। এএফপি।

ব্রিটেনের ‘রোলিং রিভিউ’ পদ্ধতি : ব্রিটেন ফাইজারের টিকার অনুমোদন দিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেয়ার পর। রেকর্ড সময়ে ভ্যাকসিন অনুমোদনের বিষয়ে জুন মাস থেকে ‘রোলিং রিভিউ’ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা শুরু করে এমএইচআরএ। রোলিং রিভিউ হচ্ছে মহামারীকালে বা যে কোনো জরুরি সময়ে দ্রুততার সঙ্গে জরুরি টিকা ও ওষুধ অনুমোদনের একটি প্রক্রিয়া। এমএইচআরএ’র প্রধান জুন রেইন বলেন, ‘নিরাপত্তার কিছু বিষয় মূল্যায়নের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা সমান্তরালে আরও কিছু জিনিস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এতে ভ্যাকসিন অনুমোদনের কোনো প্রক্রিয়াতেই কাটছাঁট করা হয়নি।’ ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, ইইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিন অনুমোদন করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ ওষুধ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইইউর ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সিকে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হয়।

ইইউ প্রক্রিয়াকে দ্রুত করেছে : দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভ্যাকসিন তথা টিকা অনুমোদনের প্রক্রিয়ার ধাপগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নিয়েছে। ইইউর ২৭টি দেশে ভ্যাকসিন ও ওষুধ অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা আমস্টারডামভিত্তিক ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সিও (ইএমএ) রোলিং রিভিউ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। ফাইজার/বায়োএনটেক, অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনকা ও মডার্নার ভ্যাকসিন সামনের সপ্তাহে পেয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। ইএমএ জানিয়েছে, মেডিসিন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপের প্রক্রিয়াগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে খুবই জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল চাহিদার কারণে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডাটা সাধারণ সময়ের চেয়ে কম সংগ্রহ করা হয়েছে। সাধারণ সময়ে অনুমোদনের জন্য আরও বেশি ডাটা প্রয়োজন হয়। এবার সেক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। ইএমএ সিদ্ধান্ত হচ্ছে ২৯ ডিসেম্বর ফাইজারের টিকার অনুমোদন আর ১২ জানুয়ারি মডার্নার। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ব্রাসেলসের ইউরোপীয় কমিশন থেকে।

আমেরিকার সিদ্ধান্ত দেবে পরামর্শক কমিটি : টিকা অনুমোদন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমেরিকার সিদ্ধান্তটি আসছে দেশটির ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি কমিটির কাছ থেকে। টিকা উৎপাদক ফাইজার ও মডার্না আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (এফডিএ) অনুরোধ করেছে জরুরিভিত্তিতে কোভিড-১৯ টিকা অনুমোদনের জন্য। অবশ্য আমেরিকার এ প্রক্রিয়া ব্রিটেনের চেয়ে কিছুটা শ্লথ। ফাইজার/মডার্নার অনুরোধে সাড়া দিয়ে টিকা অনুমোদনের জন্য ফাইজার/বায়োএনটেকের ক্ষেত্রে ১০ ডিসেম্বর এবং মডার্নার ক্ষেত্রে ১৭ ডিসেম্বর বৈঠক করতে যাচ্ছে অ্যাডভাইজারি কমিটি। এফডিএ কোম্পানি দুটিকে বলেছেন, এই বৈঠক দুটির ওপর নির্ভর করছে টিকা অনুমোদনের বিষয়টি। তারা অনুমোদন দিলে এ পর্যন্ত করোনায় সবেচেয় বেশি দুই লাখ ৭০ হাজার মৃত্যুর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে টিকার প্রয়োগ শুরু হবে।

এত অল্প সময়ে ভ্যাকসিন ইতিহাসে এবারই প্রথম

প্রয়োজনীয় ডাটা কম সংগ্রহ করা হয়েছে
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে ব্রিটেন ফাইজার/বায়োএনটেকের করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে ফাইজারের ভ্যাকসিনটি নিরাপদ হিসেবে পরিগণিত হল। এর পাশাপাশি ইউরোপের কিছু দেশ ও আমেরিকা আরও কিছু ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে ও দিচ্ছে। এর আগে এত দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন অনুমোদনের ইতিহাস নেই। এবারই প্রথম। দেখে নেয়া যাক কোন দেশ কীভাবে ভ্যাকসিনের অনুমোদনের পথে অগ্রসর হল। এএফপি।

ব্রিটেনের ‘রোলিং রিভিউ’ পদ্ধতি : ব্রিটেন ফাইজারের টিকার অনুমোদন দিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেয়ার পর। রেকর্ড সময়ে ভ্যাকসিন অনুমোদনের বিষয়ে জুন মাস থেকে ‘রোলিং রিভিউ’ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা শুরু করে এমএইচআরএ। রোলিং রিভিউ হচ্ছে মহামারীকালে বা যে কোনো জরুরি সময়ে দ্রুততার সঙ্গে জরুরি টিকা ও ওষুধ অনুমোদনের একটি প্রক্রিয়া। এমএইচআরএ’র প্রধান জুন রেইন বলেন, ‘নিরাপত্তার কিছু বিষয় মূল্যায়নের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা সমান্তরালে আরও কিছু জিনিস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এতে ভ্যাকসিন অনুমোদনের কোনো প্রক্রিয়াতেই কাটছাঁট করা হয়নি।’ ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, ইইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিন অনুমোদন করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ ওষুধ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইইউর ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সিকে অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হয়।

ইইউ প্রক্রিয়াকে দ্রুত করেছে : দ্রুততার সঙ্গে ভ্যাকসিন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভ্যাকসিন তথা টিকা অনুমোদনের প্রক্রিয়ার ধাপগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নিয়েছে। ইইউর ২৭টি দেশে ভ্যাকসিন ও ওষুধ অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা আমস্টারডামভিত্তিক ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সিও (ইএমএ) রোলিং রিভিউ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। ফাইজার/বায়োএনটেক, অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনকা ও মডার্নার ভ্যাকসিন সামনের সপ্তাহে পেয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। ইএমএ জানিয়েছে, মেডিসিন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপের প্রক্রিয়াগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে খুবই জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল চাহিদার কারণে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডাটা সাধারণ সময়ের চেয়ে কম সংগ্রহ করা হয়েছে। সাধারণ সময়ে অনুমোদনের জন্য আরও বেশি ডাটা প্রয়োজন হয়। এবার সেক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। ইএমএ সিদ্ধান্ত হচ্ছে ২৯ ডিসেম্বর ফাইজারের টিকার অনুমোদন আর ১২ জানুয়ারি মডার্নার। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ব্রাসেলসের ইউরোপীয় কমিশন থেকে।

আমেরিকার সিদ্ধান্ত দেবে পরামর্শক কমিটি : টিকা অনুমোদন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমেরিকার সিদ্ধান্তটি আসছে দেশটির ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি কমিটির কাছ থেকে। টিকা উৎপাদক ফাইজার ও মডার্না আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (এফডিএ) অনুরোধ করেছে জরুরিভিত্তিতে কোভিড-১৯ টিকা অনুমোদনের জন্য। অবশ্য আমেরিকার এ প্রক্রিয়া ব্রিটেনের চেয়ে কিছুটা শ্লথ। ফাইজার/মডার্নার অনুরোধে সাড়া দিয়ে টিকা অনুমোদনের জন্য ফাইজার/বায়োএনটেকের ক্ষেত্রে ১০ ডিসেম্বর এবং মডার্নার ক্ষেত্রে ১৭ ডিসেম্বর বৈঠক করতে যাচ্ছে অ্যাডভাইজারি কমিটি। এফডিএ কোম্পানি দুটিকে বলেছেন, এই বৈঠক দুটির ওপর নির্ভর করছে টিকা অনুমোদনের বিষয়টি। তারা অনুমোদন দিলে এ পর্যন্ত করোনায় সবেচেয় বেশি দুই লাখ ৭০ হাজার মৃত্যুর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে টিকার প্রয়োগ শুরু হবে।